ইউরোপ

হেরেও ফ্রান্সের রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লি পেন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের ঢেউ ফ্রান্সের রাজনীতিকেও ব্যাপকভাবে স্পর্শ করেছে। ঢেউয়ের ধাক্কায় টিকতে পারেনি কয়েকদশকের পুরানো দলগুলো।

বিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রন ৬৫ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। যা ফ্রান্স তথা ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়।

প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী এমানুয়েল ম্যাক্রন পেয়েছেন ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারি লঁ পেন পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

এই বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার এমানুয়েল ম্যাক্রন হচ্ছেন, ফ্রান্সের সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট।

ফ্রান্সে রাজনৈতিক প্রধান দুটি ধারার বাইরে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এটি দেশটির কয়েক দশকের ইতিহাসে ব্যতিক্রম ঘটনা।

প্রাথমিক ফল ঘোষণার পর ম্যাক্রন এক বিবৃতিতে বলেন, ফ্রান্সের ইতিহাসে নতুন কিছু রচনা হতে যাচ্ছে এবং তিনি এখানে আস্থা ও বিশ্বাসের পাতা হতে চান।

তিনি বলছেন, গণতন্ত্রের বড় লড়াইয়ের পর ফ্রান্সের মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে নির্বাচিত করেছে। এটা অনেক সম্মানের বলে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।

নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তাতে কী,পরিবর্তনটা তো আনা সম্ভব হয়েছে! এতেই বেশ হাসিখুশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও কট্টর ডানপন্থী নেত্রী লি পেন।রাতে নির্বাচনে তার ভরাডুবির খবর শুনেও যথেষ্ট আনন্দ উচ্ছল ছিলেন পেন।

নেচে গেয়ে সময় পার করেছেন।প্যারিসে তার দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্বাচন পরবর্তী পার্টিতে সঙ্গীদের সঙ্গে নাচেন তিনি। ‘আই লাভ রক এন্ড রোল’ গানের মূর্চ্ছনায় তার নাচে লি পেনের সঙ্গীদের মধেও হুল্লোড় বয়ে যায়।

সমর্থকদের তিনি হাসি দিয়ে বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই তার দলের ভেতর গভীর রুপান্তর ঘটবে। লি পেন বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক রিপাবলিকান জোট নতুন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সত্যিকার বিরোধিদল হিসেবেই কাজ করবে।

আগামী জুনে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফ্রান্সে তাতে লি পে চান তার দল অন্তত ৪০টি আসন পাক। বর্তমানে লি পেনের হাতে মাত্র দুইজন সংসদস্য রয়েছেন।

তাদের একজন তার ভাগ্নি ম্যারিয়ন এবং ৬৯ বছরের সাবেক আইনজীবী গিলবার্ট কলার্ড। সংসদে যত বেশি সংখ্যায় এমপি চাই এমন কথাও বলছেন লি পেন।

হেরে যাবার পর মিস লি পেন বলেন, ফ্রান্সের এই ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে। বড় দুটি দলই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে দেশপ্রেমিক ও বিশ্বায়নবিদদের মধ্যে লড়াই হয়েছে।

পেন আরো বলেন, ফ্রান্সের যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হলো তাতে তিনি সব দেশপ্রেমিককে তার দলে চান। তিনি এমানুয়েল ম্যাক্রনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বলেই দাবি করছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

Tags
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close