জাতীয়

ইউরোপে কোকেন পাচারে ট্রানজিট রুট বাংলাদেশ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দেশে কোকেন সেবনকারী নেই বললেই চলে। তারপরও একের পর এক কোকেনের চালান ঢুকছে। কারণ গ্রাহক সংখ্যা কম থাকলেও ট্রানজিট রুট হিসেবে বাংলাদেশকে পছন্দের তালিকায় রাখছে কোকেন পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র।

এখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে এসব চালান। আর এমন মরণনেশার বিকিকিনির রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গার্মেন্টস পণ্যকে। গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে গড়ে তোলা হয়েছে কোকেন বাণিজ্যের অবৈধ কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যয়বহুল হওয়ায় ইউরোপকে কোকেনের বড় বাজার মনে করা হয়। আর মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, উগান্ডাসহ বেশ কয়েকটি দেশে কোকেন উৎপাদন হয়। কোকেন পাচারের জন্য এসব দেশের ‘কুখ্যাতি’ রয়েছে। কাজেই এসব দেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কারণ এদের ক্ষেত্রে বেশি নজরদারি দেখায় পশ্চিমা বিশ্ব। কাজেই তারা তৃতীয় কোনো দেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে কোকেন পাচার নিরাপদ মনে করে। যেখান থেকে গার্মেন্টস পণ্যের সঙ্গে সহজেই ঢুকে পড়া যায় ইউরোপে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ রয়েছে এ তালিকায়। এ ক্ষেত্রে অন্যতম গেটওয়ে তুরস্ক ও রাশিয়া।

গত ২২ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের কোকেন আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। চালানটি ফেডেক্স কুরিয়ারের মাধ্যমে উগান্ডা থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা পৌঁছায়। রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৯৫ নম্বর বাড়ির লোকমান হোসেন নামে এক ব্যক্তির ঠিকানা লেখা ছিল। ৬ কেজি ওজনের ওই চালানটিতে কোকেন ছাড়াও বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্য ছিল।

এপিবিএন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কোকেনের চালানের ঠিকানা হিসেবে উত্তরার উইন্ডি নামে একটি গার্মেন্টস কারখানার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। জিজ্ঞসাবাদে গার্মেন্টস কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ চালান সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তাদের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কেউ চালানটি এনেছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। কুরিয়ারে আসা চালানটির গায়ে একটি মোবাইল ফোন নম্বর ছিল। ওই নম্বরের সূত্র ধরে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মামুন বলেন, কোকেন পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ঠেকাতে কাজ করছি আমরা।

এপিবিএনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকায় মূলত গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে কোকেন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে একটি চক্র। সম্প্রতি আটক করা ২৫ কোটি টাকার কোকেন পাচারের সঙ্গে গার্মেন্টস ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট লোকজনই জড়িত।

এর আগে ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তিন কেজি কোকেনসহ হুয়াইন পাবলো রাফায়েল নামে পেরুর এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর এক পাকিস্তানি নাগরিক পালিয়ে যান বাংলাদেশ থেকে। ওই সময়ও দেখা যায়, পাকিস্তানি এক নাগরিক মূলত গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে গেছেন অবৈধ কোকেনের বাণিজ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোকেন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এ আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১০-১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে হালিকা সাদিয়া, সাবরিনা নাসরিন, কানিজ তন্যি অন্যতম বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এএইচএম আহসানুল কবির বলেন , বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close