ভারত জুড়ে

গ্রেপ্তার এড়াতে বিতর্কিত ভারতের বিচারপতি পালিয়ে বাংলাদেশে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আদালত অবমাননার মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কলকাতা হাই কোর্টের আলোচিত বিচারক চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনান গ্রেপ্তার এড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল বা বাংলাদেশে পালিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর বিচারপতি কারনানকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যে বুধবার তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। ডব্লিউ পিটার রমেশ কুমার নামে ওই আইনজীবী বলেছেন, একমাত্র ভারতের প্রেসিডেন্ট সাক্ষাৎ দিলেই তিনি দেশে ফিরবেন।

চেন্নাইয়ের চিপৌক গভর্নমেন্ট গেস্ট হাউস থেকে বিচারপতি কারনান বুধবার সকালে চেন্নাই থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অন্ধ্র প্রদেশের চিত্তোর জেলার মন্দির কালাহস্তি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান বলে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়েছিল। তবে কুমার বলছেন, ওই বিচারকের মোবাইল ফোনটিই কালাহস্তি গেছে, তিনি নিজে উত্তর দিকের পথ ধরেছেন

বিচারপতি কারনান সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল বা বাংলাদেশে ঢুকেছেন বলে দাবি করলেও তিনি কোন পথে কীভাবে গেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তার আইনজীবী কুমার। সড়ক পথে চেন্নাই থেকে ভারতের যে কোনো সীমান্তে পৌঁছাতে অন্তত ৩৬ ঘণ্টার ভ্রমণ অনিবার্য।

ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার আদালত অবমাননার দায়ে বিচারক কারনানকে দোষী সাব্যস্ত করে মঙ্গলবার তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশের সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারে কলকাতার পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন।

প্রথমবারের মতো কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা আদেশে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলে, “তাকে ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে দেখা হয়েছে, বিচারক হিসেবে নয়। এখানে কোনো বর্ণের বিষয় বা কোনো বিচারকের বিষয় নেই, আদালত অবমাননার বিষয়ে আমরা কোনো প্রভেদ করতে পারি না; তিনি দায়িত্বরত একজন বিচারক, তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, এভাবে বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।”

বিতর্কিত বিচারপতি কারনান সোমবার এক আদেশে ভারতের প্রধান বিচারপতিসহ সর্বোচ্চ আদালতের আট বিচারককে পাঁচ বছরের ‘কারাদণ্ড’ দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একদল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পুলিশসহ কারনানের বাসভবনে গেলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের বিচারবিভাগে নজিরবিহীন এই জটিলতার শুরু চলতি বছরের প্রথমদিকে। ওই সময় মাদ্রাজ হাইকোর্টের ৬১ বছর বয়সী বিচারপতি কারনান ভারতের ২০ জন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারকের’ নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠান।

এ ঘটনার পর তাকে বদলি করে কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।এতে তিনি অভিযোগ করেন, দলিত শ্রেণির মানুষ হওয়ায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

পরওয়ানা, আদালত অবমাননা এবং মানহানির অভিযোগে দেওয়া সর্বোচ্চ আদালতের সবগুলো আদেশ খারিজ করেছেন বিচারপতি কারনান। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে পাল্টা আদেশগুলো নিজের বাসায় বসেই জারি করেছেন তিনি। নিজের বাসাকে ‘হোম কোর্ট’ আখ্যায়িত করেছেন।

সর্বোচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনলে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন বিচারপতি কারনান। এরপর কথার লড়াইয়ের মধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহারের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ ১ মে বিচারপতি কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল।

আগামী এক মাসের মধ্যে বিচারপতি কারনানের অবসরে যাওয়ার কথা। এই দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেই ভারতের আইনবিদদের ধারণা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close