জাতীয়

নিজের আমৃত্যু কারাদণ্ড চাইলেন সাফাতের বাবা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সম্প্রতি রাজধানী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বনানী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। এই মামলার প্রধান আসামী সাফাত আহমেদ। তিনি বাংলাদেশের নামকরা স্বর্ণালংকার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে।

ই মামলার পরই মূলত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আপন জুয়েলার্সের এই মালিকের সম্পদ এবং ব্যবসা বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টির কথা বলে নির্যাতিতা দুই ছাত্রীকে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে ডেকে নেন সাফাত ও তার বন্ধুরা। এরপর সেখানে তাদের উপর নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই ছাত্রী।

এদিকে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, বনানীর দুই ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামী সাফাত আহমেদ প্রতিদিন তার বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে হাত খরচ নেন।

এছাড়া অভিযোগ আছে, সাফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে ১০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কিন্তু তার বাবা, দিলদার আহমেদ এই অভিযোগ ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কি বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিক? আমি এতো টাকা কোথায় পাবো?

দিলদার আহমেদ আজ সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে ব্যবসার কাজে সহায়তা করে। এ জন্য তাকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়। এর বাইরে তার কোনো আয় নেই এবং তার নামে কোনো সম্পত্তিও নেই। আর দৈনিক দুই লাখ টাকা আমি কোত্থেকে দিবো? আমি কি বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিক?

অভিযোগ আছে, সাফাত ও তার বন্ধুদের হাতে নির্যাতিত দুই নারী মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে। দিলদার আহমেদ এ জন্য পুলিশকে ১০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ আছে।

এ বিষয়ে দিলদার বলেন, টাকা কি গাছে ধরে? আমি পুলিশকে কোনো টাকা অফার করিনি। এই মামলা নিয়ে পুলিশ তাদের কাজ করছে। তদন্ত হচ্ছে। এরপর আপনারা সব জানতে পারবেন।

অপরদিকে ছেলের বিপথগামিতার জন্য বাবা দিলদার আহমেদকে দায়ী করেছেন তার সাবেক পুত্রবধূ মডেল পিয়াসা। তাছাড়া হোটেলে মদ ও নারী নিয়ে ফুর্তি করার বিষয়ে ছেলে সাফাতকে সায় দিতেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এমন অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন এই সব কথার কোন ভিত্তি নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হোটেলে মদ ও নারী নিয়ে ফুর্তি করার বিষয়ে যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে উঠছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরকম কোনো অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। এরকম হলে আমি মনে করি আমার আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়া উচিৎ।

সেলিম বলেন, পৃথিবীর কোনো বাপ কি ছেলেকে বিপথগামী করতে পারে। হাজার মেয়ে নিয়ে ঘুরবা- এরকম কথা কাল্পনিক। আমি কেন ছেলের অপকর্মে প্রশ্রয় দেব। কথা হলো ভাই, পৃথিবীতে যারা বাবা আছেন সবাই সন্তানের মঙ্গল চান।

অন্য বাবারা যদি সন্তানের অমঙ্গল চান না- আমি কেন চাইবো। আমি তো বাবা। আমার সন্তান বিপথগামী হোক, আমি তা কখনো চাইনি। আল্লাহ আমাকে টাকা দিয়েছেন, মান-সম্মান দিয়েছেন। কোনো পিতাই ছেলের অপকর্ম প্রশ্রয় দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি জানি না সেদিন কি ঘটেছিল।ওই মেয়ে (পিয়াসা) বলে আমার ছেলে নাকি বিয়ের আগেই খারাপ ছিল। ছেলের বয়স ২৪ আর ওই মেয়ের বয়স ৩৬ বছর। ছেলে তো ২৩ বছর ৫ মাস আমার কাছেই ছিল। তখন তো কোনো অভিযোগ আসেনি। এই ছয়-সাত মাসে সে আমার ছেলেকে ভালো করে দিলো। আসলে ওই মেয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এটা এখন স্পষ্ট।

সাফাত-পিয়াসার বিয়ে সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে তারা বিয়ে করে এটা পরে জেনেছি। আমি জানতাম না এই মেয়েকে সাফাত বিয়ে করেছে। ছেলেটা ব্ল্যাকমেইলের শিকার। ব্ল্যাকমেইল করে সাফাতকে বিয়ে করেছে সে। বিয়েটা গোপন রাখা হয়েছিলো। দুই বছর পর আমি জেনেছি। জানার পরই ছেলেটা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কয়েক মাস ওই মেয়ের সঙ্গে ছিল।

এই বিয়েকে কেন্দ্র করে পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি জিডি হয়েছিলো থানায়। এ প্রসঙ্গে দিলদার আহমেদ সেলিম বলেন, হ্যাঁ এটা সত্য। বিয়ের বিষয়টি জানার পর আমি জিডি করেছি। এই মেয়ে আমার এবং আমার পরিবারের ক্ষতি করতে পারে।

এই আশঙ্কা থেকেই জিডি করেছি। কারণ আমি জানি আমার ছেলে শিকার হয়েছে। ছেলেকে বাবার বিরুদ্ধে লাগানোর চেষ্টা করেছিলো। শেষ পর্যন্ত আমার ছেলে তা বুঝতে পেরেছে। ছেলে স্বেচ্ছায় ডিভোর্স দিয়েছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই।

আপন জুয়েলার্সের শোরুমে অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের উপর পাঁচ লাখ লোকের পরিবার নির্ভরশীল। আল্লাহ তাদের বাঁচায়। শুল্ক গোয়েন্দারা তদন্ত করেছে। আমাদের সব কাগজপত্র আছে। কোনো অসুবিধা নেই। তারা ডেকেছে আমরা যাবো। কাগজপত্র রেডি করতেছি। নিশ্চয়ই আমরা ন্যায় বিচার পাবো।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close