আফ্রিকা জুড়ে

দুর্নীতি কেলেঙ্কারি: পদত্যাগে নারাজ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের চলমান রাজনৈতিক সংকটে নতুন এক নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কারাদ-িত সাবেক এক দলীয় মিত্রকে স্তব্ধ করতে ঘুষ গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন তিনি এই মর্মে একটি অডিও টেপ প্রকাশিত হওয়ার পর আবারও উত্তাল ব্রাজিল।

প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চালাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ তার পদত্যাগ দাবি করলেও, তিনি এখনও অনড়। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, তেমের ওই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় এক সভায় তিনি জানিয়ে দেন, পদত্যাগ করবেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার লুকানোর কিছু নেই। ব্রাজিলের ও গ্লোবো পত্রিকায় বুধবার রাতে ঘুষ কেলেঙ্কারির বৃত্তান্ত প্রকাশিত হয়। কেলেঙ্কারির পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতায় তিনি বলেন, তিনি চান তদন্ত দ্রুত শেষ হোক।

ওই অডিও টেপে শোনা যায়, প্রেসিডেন্ট তেমের ব্রাজিলের অন্যতম বৃহত কোম্পানি জেবিএস’র অন্যতম মালিক জোএজলে বাতিস্তাসকে বলছেন, এডুয়ার্ডো কুনহার মুখ চুপ রাখতে তাকে অর্থ দেওয়া অব্যাহত রাখতে।

কুনহা হলেন দেশের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার। বর্তমানে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তেমেরকে বলতে শোনা যায়, আপনাকে এটা (অর্থ দেওয়া) অব্যাহত রাখতে হবে, ঠিক আছে। এডোয়ার্ড কুনহা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ছাড়াও তেমেরের ব্রাজিলিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ছিলেন।

তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন। দিলমা রুসেফকে অপসারণের পরই ক্ষমতায় বসেন তেমের। তবে মার্চে খোদ কুনহাকেই ১৫ বছরের কারাদ- দেয় আদালত।

এদিকে বৃহস্পতিবার খোদ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই কেলেঙ্কারি আরও জট পাকাতে শুরু করলে, খবরে জানানো হয় তেমেরের শাসক জোটের প্রধান দল ব্রাজিলিয়ান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিএসডিবি) সরকার থেকে সরে যাবে। একজন মন্ত্রী ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে, ব্রাজিলের শেয়ার বাজার ও মুদ্রার দরপতন হয়েছে। সাও পাওলো ভিত্তিক বোভেস্পা সূচক ১০ শতাংশ পড়ে গেছে। ২০০৮ সালের পর এটিই সবচেয়ে বাজে অবস্থা এই সূচকের। ব্রাজিলের মুদ্রার মান কমে গেছে ৭.৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাজিল জুড়ে বড় বড় শহরে প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। তবে তেমের পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোর পরই প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদকারীরা প্রেসিডেন্টের অপসারণ ও নতুন নির্বাচন চান।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এই কেলেঙ্কারি এমন সময় হলো যখন ব্রাজিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অর্থমন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি প্রায় ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে গত দুই বছরে। ১ কোটি ৪০ লাখের মতো মানুষ বেকার।

রাজনীতি বিজ্ঞানী ও রিও ডি জেনিরো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পররাষ্ট্র সম্পর্কের অধ্যাপক মাউরিসিও সান্তোরো বলেন, ‘সব লক্ষণ সরকারের পতনের দিকেই ইঙ্গিত করছে। সুপ্রিম কোর্টে তদন্ত শুরু, মিত্রদের চলে যাওয়া ও মিডিয়ার সমালোচনামূলক অবস্থান। তাই বড় প্রশ্নটা হলো আসছে সপ্তাহে কী ঘটবে? পদত্যাগ, অপসারণ, পরোক্ষ নির্বাচন, আর প্রত্যক্ষ নির্বাচনের জন্য গণ প্রতিবাদ।

দিলমা রুসেফকে সরিয়ে প্রেসিডেন্ট তেমের ক্ষমতা গ্রহণের পর একের পর এক কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সরকার। কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ৯২ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান নতুন প্রত্যক্ষ নির্বাচন চান। তেমেরের জনপ্রিয়তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close