যুক্তরাজ্য জুড়ে

ম্যানচেস্টারে কনসার্ট হলে হামলাকারী নিহত: আহতদের জন্য এগিয়ে এলেন স্থানীয় বাসিন্দারা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃটিশ পুলিশ নিশ্চিত ম্যানচেস্টারে এরিনা কনসার্ট হলে হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে সে কি একা নাকি তার সঙ্গে আরো কেউ আছে এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেষ্টা করছে তারা। এখনও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারে নি হামলাকারী কে।

সোমবার আরিয়ান গ্রান্দের কনসার্টে কেবল ম্যানচেস্টারের মানুষেরাই নন, এসেছিলেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তবে বিস্ফোরণের পর এরিনাসংলগ্ন ভিক্টোরিয়া স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার সারাদিন এটি বন্ধ থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যানচেস্টারের বাইরের মানুষরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে।

এসব নিয়ে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত করছে পুলিশ। সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিয়ে তৎপর। তারা নিশ্চিত হতে চেষ্টা করছেন হামলাকারী কি কোন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিনা। পাশপাশি তাকে চিহ্নিত করে তার পরিচয় জানারও চেষ্টা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এ ছাড়া এই হত্যাযজ্ঞে উল্লাস প্রকাশ করেছে আইসিস সমর্থকরা। মঙ্গলবার সকালে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কথা বলেন গ্রেট ম্যানটেস্টার পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ইয়ান হপকিনস। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে এ বিষয়টি নিশ্চিত।

কনসার্ট দেখতে এসেছিলেন ২১ হাজার দর্শক। বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে ২২জন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন মানুষ। হামলায় ভীত হওয়া মানুষেরাও রয়েছেন। ফেসবুক-টু্ইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছেন ম্যানচেস্টারবাসী। বলছেন, পাশে রয়েছেন তারা।

হান্নাহ আল-অথম্যান নামে এক নারী টুইটারে লিখেন, অনেকেই আতঙ্কিত। ম্যানচেস্টার থেকে বের হবার কোনও ট্রেন নেই। ফলে অনেকেই বাড়ি যেতে পারছেন না।’ জেসি নামে আরেক নারী লিখেছেন, ‘আমাদের একটি দুই বেডের রুম আছে। দুইটি সোফাও আছে। কারও থাকার প্রয়োজন হলে চলে আসবেন। এরিনা থেকে আমার বাড়ি ৫ মিনিটের ট্যাক্সি দূরত্বে।

রুম ফর ম্যানচেস্টার হ্যাশট্যাগে একটি ট্রেন্ডও শুরু হয়ে যায় টুইটারে নিক কিউ নামে একজন এই হ্যাশট্যাগ দিয়ে বলেন, আমার বাসা এরিনা থেকে ৫ মিনিটের দূরত্বে। কারও থাকার প্রয়োজন কিংবা খাবার ও মোবাইল চার্জের প্রয়োজনে চলে আসুন।

অন্যান্য মেসেজে দেখা গেছে ট্যাক্সি চালক ও ম্যানচেস্টারের বাসিন্দারাও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যারা শহর ছাড়তে চান তাদেরকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার অফার দেওয়া হয়েছে। আর শহরে আটকা পড়াদের বিনামূল্যে বেডরুম ও সোফায় থাকার সুযোগ দিয়ে চলছে #রুমফরম্যানচেস্টার হ্যাশট্যাগটি।

#রুমফরম্যানচেস্টার হ্যাশট্যাগে ড্যানি হাচ নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমি ম্যানচেস্টার শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ১০ মিনিট দূরত্বে আছি। যেকোনও জায়গা থেকে এবং যেকোনও জায়গায় আমি সাহায্যপ্রার্থীদের নিয়ে যেতে পারব। কারও সহায়তার প্রয়োজন পড়লে শুধু আমাকে জানালেই হবে।’

এছাড়া বিস্ফোরণের কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসিমাখা মুখের কিশোরদের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। আর তার সঙ্গে হ্যাশট্যাগে বলা হয়েছে, #প্রেফরম্যানচেস্টার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, প্রিমিয়ার ইন এবং ম্যানচেস্টারের অন্য হোটেলগুলোও ভুক্তভোগীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। হলিডে ইনের আশ্রয়ে ৬০ শিশু থাকার খবরও দেওয়া হয়। বিনামূল্যে ট্যাক্সিসেবারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দ্য ভেন্যু ম্যানচেস্টারের পক্ষ থেকে।

পৃথিবীর ইতিহাসে বারবার মানবিকতার নজির স্থাপিত হয়েছে এইসব বিপর্যয়ের ঘটনায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিপদে পড়া মানুষের মানবিক আর্তিতে সাড়া দিয়েছে ম্যানচেস্টারবাসী। দূরদূরান্ত থেকে আসা হতাহত ও ভীত মানুষদের জন্য নিজেদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছে তারা।

এখন পর্যন্ত কোন গ্রুপ দায় স্বীকার না করলেও সামাজিক মিডিয়ায় অনেক কথা ছড়িয়ে পড়ছে। আইএস পন্থি চ্যানেলগুলোতে হামলাকারী হিসেবে একজনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close