যুক্তরাজ্য জুড়ে

প্রতিশোধ নিয়েছে সালমান: হামলার আগে ফোন করেছিল মাকে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিরিয়ায় শিশুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বোমা ফেলছে। তা দেখে প্রতিশোধ নিতে ম্যানচেস্টারে হামলা চালিয়েছে সালমান আবেদি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে এ কথা বলেছে ম্যানচেস্টার হামলাকারী সালমান আবেদির বোন জোমানা আবেদি। সে নিজের ভাইকে দয়ালু ও লাভিং পারসন বলে দাবি করেছে। তবে সালমানের এমন জঘন্য কর্মকান্ডে সে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছে।

ম্যানচেস্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানোর সামান্য আগে হামলাকারী সালমান আবেদি ফোনে কথা বলেছিল তার মা সামিয়া তাব্বালকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি থাকেন লিবিয়ায়। তিনি ত্রিপোলি ইউনিভার্সিটি থেকে পরমাণু বিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা করেছেন।

কিন্তু ম্যানচেস্টার হামলার পর সালমানের পিতা রমাদান আবেদি, ভাই ইসমাইল আবেদি, হাশেম আবেদিকে গ্রেপ্তারের পর একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সামিয়া আবেদিকেও। আবেদি পরিবারটিকে বলা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসী পরিবার’। অনলাইন ডেইলি মেইল লিখেছে, ম্যানচেস্টার হামলার সামান্য আগে সোমবার দিবাগত রাতে সালমান ফোন করে তার মা সামিয়াকে।

উল্লেখ্য, সালমানের চেয়ে ছোট বোন জোমানা আবেদি। তার বয়স ১৮ বছর। জোমানা বলেছে, আমার মনে হয় সে (সালমান) সর্বত্রই দেখেছে শিশুরা মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে মুসলিম শিশুরা।

তাই সে এর প্রতিশোধ নিয়েছে। সে দেখেছে সিরিয়ায় শিশুদের ওপর বিস্ফোরক ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে।

তবে অ্যারিনা কনসার্ট হলে যেভাবে বোমা হামলা হয়েছে তার পক্ষে কথা বলা যায় না। এটা জঘন্য এক অপরাধ। এ নিয়ে কোন মন্তব্য করা চলে না।

উল্লেখ্য, সালমান আবেদির পিতা রমাদান, মাতা সামিয়া তাব্বাল, ভাই হাশেম, বোন জোমানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লিবিয়ায়। এছাড়া সালমানের বড়ভাই ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ম্যানচেস্টারে।

লিবিয়ার এক নিরাপত্তা সূত্র বিবিসির নিউজনাইটকে বলেছেন, হামলার আগে সালমান লিবিয়ায় তার ভাইকে ফোন করে। তাকে বলে তার মা যেন সালমানকে একটি ফোন দেন। এরপরই তাদের মধ্যে কথা হয়। তবে কি কথা হয়েছে তা জানা যায় নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমগুলো গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলেছে, ছেলে সালমান উগ্রবাদী হয়ে উঠেছে এ জন্য সামিয়া তাব্বাল ভীত শঙ্কিত ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন বলেও বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এনবিসি’কে বলেছেন, সালমানের পরিবার তার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল আগেই।

তারা বলেছিল, সে ক্রমাগত বিপদজনক হয়ে উঠছে। এতে তার পরিবার শঙ্কিত। আরো বলা হচ্ছে, সালমানের মা সামিয়া তাব্বাল হলেন আল কায়েদার সাবেক একজন কমান্ডার আবু আনাস আল লিবি’র স্ত্রী উম্ম আবদুল রহমানের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। আল লিবি একজন এফবিআইয়েয় মোস্ট ওয়ান্টেড টেরোরিস্টদের তালিকায় ছিল। তার মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি পাউন্ড। আল লিবি ১৯৯৫ সালে বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পান।

তারপর ৫ বছর কাটান ম্যানচেস্টারে। ১৯৯৮ সালে তাঞ্জানিয়া ও কেনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বোমা হামলা হয়। সেই হামলা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তার দিকে আঙ্গুল তোলা হয়। প্রায় কাছাকাছি সময়ে দারুস সালাম ও নাইরোবিতে ওই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ২২৪ জন। আহত হন সাড়ে চার হাজার মানুষ।

আল লিবি’র স্ত্রী উম্ম আবদুল রহমান বুধবার বলেছেন, সালমান আবেদির মা সামিয়া তাব্বালের সঙ্গে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একই কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি। সেখানে পারমাণবিক প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতেন সামিয়া তাব্বাল। এছাড়া ম্যানচেস্টারে তারা বেশ কয়েক বছর একত্রে পাশাপাশি অবস্থান করতেন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বৃটেন থেকে লিবিয়া ফিরে যান আল রিবি। ২০১৩ সালে ত্রিপোলির রাজপথ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সেস। এর দু’বছর পরে জেল হাজতেই তিনি মারা যান। বুধবার রাতে আবেদি পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু বলেছেন, সালমানের কর্মকাণ্ডে তার পিতামাতা ভীষণভাবে মর্মাহত। তার মতে, এটা একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। কারণ, সালমানের মা একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তিনি পারমাণবিক প্রকৌশলে ডিগ্রিধারী। পরীক্ষায় তিনি খুবই ভাল নম্বর পেতেন

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close