Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

গোপন হটলাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প জামাতা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের গোপন চ্যানেল খুলতে চেয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার মাত্র এক মাস পর আমেরিকায় নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসল্যাককে এই প্রস্তাব দেন। আমেরিকান গোয়েন্দারা যাতে এই যোগাযোগে আড়ি পাততে না পারেন, সেজন্য কুশনার রাশিয়ার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার কথাও বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে।

খবরে বলা হয়, কুশনারের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি উত্তর দেননি। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগসাজশ নিয়ে এফবিআই যে তদন্ত করছে, তার আওতায় কুশনারও অন্তর্ভুক্ত। তদন্তকারীরা বলছেন, কুশনার যে অপরাধ করেছেনই, এমনটা বলা হচ্ছে না। তবে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবরে বলা হয়, সের্গেই কিসল্যাকের সঙ্গে বৈঠকে আমেরিকায় অবস্থিত রাশিয়ার বিভিন্ন কূটনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে মস্কোর সঙ্গে ‘ব্যাক চ্যানেল’ খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কুশনার। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প টাওয়ারে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এ বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের বরখাস্তকৃত নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন।

খবরে বলা হয়, নভেম্বরে ট্রাম্পের নির্বাচনে জয় এবং পরের বছরের জানুয়ারিতে তার শপথ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়া ও অন্যান্য নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে কথা বলার জন্য ওই গোপন চ্যানেল খুলতে বলেছিলেন কুশনার।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুশনারের এই প্রস্তাব কিসল্যাককে অবাক করেছিল। কারণ, বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে, আমেরিকায় অবস্থিত রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন দেশটিরই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, এই যোগাযোগের চ্যানেল শেষ পর্যন্ত আর তৈরি হয়নি।

মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই পুরো বিষয়টি জানতে পারে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের ওপর নজরদারির মাধ্যমে। রাষ্ট্রদূত কিসল্যাক পুরো আলাপচারিতার বিবরণ রাশিয়ায় পাঠান। তা থেকেই এ তথ্য পান তিনি।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও মস্কোর মধ্যে একটি হটলাইন ছিল। এর মাধ্যমে সরাসরি দুই দেশের সরকার যোগাযোগ করতো। শীতল যুদ্ধের সময় দুই শক্তিধর দেশ এই হটলাইন স্থাপন করেছিল পরসপরের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো বিপর্যয় এড়াতে। কুশনার এ ধরনেরই একটি হটলাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কিন্তু সমস্যা হলো, এই হটলাইন হবে রাশিয়ার সরঞ্জাম দিয়ে! আর এই হটলাইন মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই ব্যবহার করতেন। অর্থাৎ বিষয়টা দাঁড়ালো এই যে, মার্কিন সরকার নিজেদের সরঞ্জামের বদলে রাশিয়ার সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। তবে এ ধরনের যোগাযোগের বিষয়বস্তু মার্কিন সরকার নথিবদ্ধ করতে পারতো না।

বিবিসি’র এক বিশ্লেষণীতে বলা হয়, কুশনারের এই কাহিনী এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন তার শ্বশুরের প্রশাসন ইতিমধ্যে রাশিয়া কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে মস্কোর সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করছে। ক্ষমতারোহণের প্রথম কয়েক মাসে শুধুমাত্র এই বিতর্কই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রশাসনকে।

সবচেয়ে বড় কথা, নভেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে হ্যাকাররা ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক দলের ন্যাশনাল কমিটির কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে। অক্টোবরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা করে, এই হ্যাকিং এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে রাশিয়া।

ফলে ডিসেম্বরে কিসল্যাক ও কুশনারের এই ‘গোপন চ্যানেল’ স্থাপনের আলোচনার সময় যে কারো ধরে নেয়ার কথা রাশিয়া ইস্যুতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত চালাচ্ছে। তাই হবু মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে তখন কুশনার কেমন এমন রহস্যজনক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা অনেকের সংশয়কে আরো জোরালো করবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close