অর্থনীতি

নতুন অর্থবছরের বাজেট: ১৫ শতাংশ ভ্যাট, আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভ্যাট আইন ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নতুন আইনানুযায়ী পণ্য ও সেবা বিক্রির ওপর অভিন্ন ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

ই হারে ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে ৯১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছেন অর্থমন্ত্রী যা রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার ৩৬.৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হয়েছে এবং তাতে ভোক্তারা ও ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশেই বহাল রাখার প্রস্তাব করছি।’ মুহিত বলেন, মূল্য সংযোজন কর এক ও অভিন্ন হারে প্রয়োগ করা হবে এবং আগামী তিন বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে।

২০১২ সালের ‘মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন’ অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করার কথা ছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে দেয় সরকার। তখন বিদ্যমান প্যাকেজ ভ্যাটের হার বাড়িয়ে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা তা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকলেন মুহিত।

তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বছরে ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। অর্থাৎ মাসে গড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারধারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কর দিতে হবে না। সেই সঙ্গে, টার্নওভার করের সীমা বছরে ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ শুরু করছেন । ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ নাম দিয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে আগামী বাজেটের আকার বেশি প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন শুরু হলে বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে তিনি বাজেট পেশ শুরু করেন । এটি হচ্ছে দেশের ৪৬তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রীর একাদশ বাজেট।

বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাথ ৯৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৫৩ হাজার৩৩১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আয় আসবে মূলত আয়কর, ভ্যাট এবং আমদানি ও রফতানি শুল্ক থেকে।

রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও এনবিআর দায়িত্ব সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশন, কর অব্যাহতি হ্রাস, কর প্রশাসনের বিস্তৃতি, করের আওতা ও ভিত্তি সম্প্রসারণসহ চলমান সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

তদুপরি, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন পুরোপুরি কার্যকর হবে। ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন রাজস্ব প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতা আনবে। এ প্রেক্ষিতে আমরা আগামী অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের প্রাক্কলন করেছি।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফি বা রেটসমূহ বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনঃনির্ধারণের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি তার সুবাদে এবং পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রেক্ষাপটে প্রাক্কলিত এ রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

এনবিআর-বহির্ভূত করব্যবস্থা থেকে ৮ হাজার ৬৬২ কোটি এবং করবহির্ভূত খাত থেকে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের অর্থে মেটানো হবে। বাসস

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close