দুনিয়া জুড়ে

ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সারাবিশ্বের তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিষয়ে নতুন করে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে বাইরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ী নেতা ও রাজ্য গভর্নরদের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এ চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।

সমালোচকরা বলেছেন, ওই চুক্তিতে ট্রাম্পের ‘না’র ফলে যুক্তরাষ্ট্র হারাচ্ছে বিশ্বনেতৃত্ব। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে সম্পাদিত প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তীব্র সমালোচনার মুখে এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তারাএ নিয়ে আরো সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। সরাসরি এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ব্রাসেলস।

এক্ষেত্রে তারা চুক্তি বাস্তবায়নে হোয়াইট হাউজের সমর্থন বা সহযোগিতা নেবে না। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ও বড় বড় করপোরেশনের সহযোগিতা নেবে- এমন কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা। ওদিকে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি যৌথ ঘোষণা দিয়েছে। তাতে স্বাক্ষর না করার জন্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে।

ফলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এক্ষেত্রে সাফাই গেয়েছেন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র। তিনি বলেছেন, জাপান ও কানাডার মতো দেশের নেতারাও তো ওই যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন নি।

২০১৫ সালে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমিয়ে আনার বিষয়ে প্যারিসে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে প্রায় ২০০ দেশ। এতে জলবায়ুর প্রতি বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এমন অবস্থা থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়।

কিন্তু ওই চুক্তি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় যতটুকু বাড়ার কথা তার চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি বৃদ্ধি পাবে এই শতকের শেষ দিকে। এ কথা বলেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা। প্যারিস চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরে যাওয়ার ঘটনাকে বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করেছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড টাস্ক।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে অথবা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যে আলোচনা শেষে ডনাল্ড টাস্ক এমন কথা বলেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। ডনাল্ড টাস্ক বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম ও পুরো বিশ্বের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য সংহতি প্রকাশ করেছে চীন ও ইউরোপ।

এ সময়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি থামাতে তারা দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন। এক্ষেত্রে ২০২০ সালের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোর কার্বন নির্গমন কমাতে বছরে ১০,০০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে চীন। এক্ষেত্রে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক হবে আরো স্থিতিশীল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close