যুক্তরাজ্য জুড়ে

পার্লামেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে লেবার এবং কনজারভেটিভ পার্টির: সারা বৃটেনেজুড়ে ১৪ বাংলাদেশি প্রার্থী

শীর্ষবিন্দু নিউজ: যুক্তরাজ্যে আগামী বৃহস্পতিবার ৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন। এবারের সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থী হয়ে ১৪ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ত বছর ব্রেক্সিট প্রশ্নে স্মারক ভোটে হেরে গিয়ে ডেভিট ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর মে স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যর অর্থনীতি-রাজনীতিতে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছিলো।

 গত ১৮ এপ্রিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পার্লামেন্টে মাত্র ৭ মিনিট ব্রিফিং শেষে ৬ সপ্তাহ সময় হাতে রেখে সকলকে চমকে দিয়ে আকস্মিকভাবে এই আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেন।

গত আড়াই মাসে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সরকারি দলের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কমেছে। তবে বিরোধী দল এখনো তাদের দল পুরোপুরি গোছাতে পারেনি। ফলে নির্বাচনে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রার্থী ১৪ হলেও সম্ভাবনা ৪ কন্যায়। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির হয়ে লড়বেন ৮ জন। ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেট ও ফ্রেন্ডস পার্টির হয়ে লড়ছেন একজন করে। গেলো সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির হয়ে লড়েছিলেন ৫ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি, যাদের ৩ জনই জয়ী হন। আর কনজারভেটিভ দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একমাত্র ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরাজিত হয়েছিলেন।

গেলোবারের বিজয়ী রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রুপা হক এবারও লেবারের টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের সঙ্গে এই দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন আনোয়ার বাবুল মিয়া, মেরিনা আহমদ, রওশন আরা, ফয়সল চৌধুরী এমবিই ও আবদুল্লাহ রুমেল খান। আর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাজু মিয়া, ফ্রেন্ডস পার্টির হয়ে লড়ছেন আফজল চৌধুরী।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আজমল মাশরুর, অলিউর রহমান, আবু নওশাদ ও ব্যারিস্টার মির্জা জিল্লুর।

ব্রেক্সিট বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া জোরদার করতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও নিরঙ্কুশ করতে গেলো ১৮ এপ্রিল অনেকটা অবাক করে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।

গত দুই বছর আগে ৬৫০ আসনের পার্লামেন্টের ৩৩১টিতে জয়ী হয়ে গেলোবার সরকার গঠন করেছিল কনজারভেটিভ পার্টি।

এদিকে লেবার পার্টির দলগত সিদ্ধান্ত ব্রেক্সিটের পক্ষে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বা ২১৮ জন এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অর্থাৎ ইউর সাথে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এমনকি সরকারি দল কনজারভেটিভের ১৮৫ জন এমপি ইউ’র সাথে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ১৩৮ জন ছিলেন ব্রেক্সিটের পক্ষে।

এছাড়াও স্কটিশ পার্টির ৫৪ এমপিসহ আরো ২২ এমপি ছিলেন ইউ’র পক্ষে। আরো মজার বিষয়ে হচ্ছে- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ওইসময়ে ইউ’র সাথে থাকতে চাইলেও বর্তমানে তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এমনই দ্বৈতনীতির মুখে ডেভিট ক্যামেরন পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন।

 উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। এবার সেখানে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে ৮ জন, চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেট ও ফ্রেন্ডস পার্টি থেকে একজন করে। তবে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ৪ কন্যা। এদের মধ্যে বিজয়ের সম্ভাবনায় রয়েছে ৩ জনের।

২০১৫ সালে হাউস অব কমন্সের ৬৫০ আসনে বর্তমান সরকারি দল কনজারভেটিভ ৩৩১ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। আর লেবার পার্টি পেয়েছিলো ২২৯ আসন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মনোনয়ন পেয়েছিলেন পাঁচজন। যাদের মধ্যে তিন নারী জয়ী হন। তিনজনের মধ্যে রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রুপা হক এবারও লেবার থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close