আরববিশ্ব জুড়ে

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সঙ্কটের কারণে কাতার বিমানবন্দরগুলোতে দুর্ভোগে যাত্রীরা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে দুর্ভোগে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক যাত্রী। সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন আটকা পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। দোহা হয়ে কাতার এয়ারওয়েজে করে তাদের যার যার গন্তব্যে যাওয়ার কথা।

কিন্তু মঙ্গলবার কাতার এয়ারওয়েজের সব লাইসেন্স বাতিল করেছে দ্য জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন। ফলে ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবে তাদের সব অফিস বন্ধ করে দেয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে কাতার এয়ারওয়েজের সব কর্মকর্তা কর্মচারীকে দেয়া লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা। এ কারণে সৌদি আরবের মাটি স্পর্শ করতে পারছে না কাতার এয়ারওয়েজের বিমান।

ফলে এ বিমান সংস্থায় করে যেসব যাত্রীর ভ্রমণ করার কথা ছিল তারা চরম এক দুর্ভোগে পড়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। বিমান সংস্থাটি তাদের সব যাত্রীদেরকে পরামর্শ দিয়েছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। মঙ্গলবার রাত থেকে বাদশা ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করতে শুরু করেন যাত্রীরা। তারা বিকল্প ফ্লাইট খুঁজছেন।

কিন্তু বিমানের সব কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা এসব যাত্রীকে ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করছে। অনুরোধ করছে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিতে। আজমিল ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের জেনারেল ম্যানেজার সাঈদ ওয়াহিদ লতিফ। তিনি বলেছেন, সব ট্রাভেল এজেন্টের কাছে একটি সার্কুলার জারি করেছে কাতার এয়ারওয়েজ।

তাতে বলা হয়েছে, ১২ই জুন পর্যন্ত কাতার এয়ারওয়েহের টিকেট নিয়েছেন যারা তাদের পুরো অর্থ ফেরত দেয়া হবে। ওদিকে মেক্সিকোর কানকুনে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কাতার এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকবার আল বাকের। ঘটনার আকস্মিকতায় কানকুন থেকে তিনি একটি বেসরকারি জেট বিমানে করে দ্রুততার সঙ্গে দোহা পৌঁছেছেন। দাম্মামে কাতার এয়ারওয়েজের চেক-ইন সহকারী স্বীকার করেছেন, এটা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উপমহাদেশ ও দূর প্রাচ্যে হাজার হাজার যাত্রী এতে আটকা পড়েছেন।

তিনি বলেছেন, এ জন্য যেসব দেশের সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে তাদের মাধ্যমে নতুন রুট ব্যবহার করে এসব মানুষকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সে চেষ্টাও দৃশ্যত ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ, অন্য সব বিমানের ফ্লাইটও যাত্রীতে থাকছে পরিপূর্ণ। দোহা হয়ে কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন আবদুল কাদের। কিন্তু বিমান সংস্থাটি তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে। বলা হয়েছে, ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিতে।

কিন্তু আবদুল কাদের বলে, লন্ডনে আমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়ী মিটিং আছে। তাতে যোগ দিতে না পারলে আমি অনেক বেশি পিছিয়ে পড়বো। কাতার এয়ারওয়েজের যেসব পাকিস্তানি যাত্রী ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার কথা ছিল তারাও আটকা পড়েছেন দোহায়। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) সঙ্গে আলোচনা করছে কাতার। দোহা হয়ে এসব পাকিস্তানির সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল ওমরাহ করার জন্য।

পিআইএ’র মুখপাত্র মাসুদ তাজওয়ার বলেছেন, পিআইএর সামনে দুটি পথ আছে। এক হলো এসব মানুষকে দোহা থেকে জেদ্দা পৌঁছে দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সৌদি আরব সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। দ্বিতীয় পথ হলো তাদেরকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনা এবং তারপর তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া। কতজন পাকিস্তানি এভাবে আটকা পড়েছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না মাসুদ তাজওয়ার। তাই দোহায় অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পিআইএ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close