লন্ডন থেকে

সমঝোতায় অফিস ভাড়ার চুক্তিতে বিসিএ ভবন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) অফিস ভবনের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দেনদরবারের পর আদালত গড়িয়ে বিসিএ অবশেষে ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হল।

কোম্পানির প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিসিএর সাথে ১০ বছরের লিজ চুক্তি অনুমোদন করা হয়। বিসিএ অফিস ভবনের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দেনদরবারের পর এই চুক্তি করলো। গত ৩ মে সোমবার বিসিএর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সদ্য বিদায় নেয়া প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার।

গত ১২ জানুয়ারি দেয়া রায়ে আদালত ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডকে ভবনের প্রকৃত মালিক বলে ঘোষণা করে। বিসিএ-কে বিবাদী পক্ষের মামলার সমূদয় খরচ পরিশোধ করতে বলে।

২২ মে অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের ডাইরেক্টরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এ কিউ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মাহবুব, মহিব চৌধুরী, সাদ গাজী, কে আর চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, মাহমুদুর রশিদ, আব্দুল মালিক, আসিফ ইকবাল, এম এ মতিন, এম এ শাকুর, জাহাঙ্গির হক, এম উদ্দিন, এম এ মুনেম, এম এ শায়েস্তা, আলহাজ আলাউদ্দিন প্রমুখ।

সাদ গাজী ও নুরুল ইসলাম মাহবুব তাঁদের বক্তব্যে কোম্পানির বর্তমান কমিটির কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিসিএ’র সাথে দীর্ঘ বিবাদ মিমাংসা রোধে কমিটির কাজের অশেষ প্রশংসা করেন। মামলা চলাকালীন সময়ে ডাইরেক্টরদের সমর্থন ও পাশে থাকার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী।

উল্লেখ্য, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ৪০৩ হ্যারো রোড ঠিকানায় অফিস চালিয়ে আসছে বিসিএ। নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও এতদিন তারা কোনো ভাড়া দেননি। ভবন মালিকরা ভাড়া চাইতে গেলে বিসিএ নেতৃবৃন্দ ভাড়া না দিয়ে উল্টো ভবনের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করে দেন।

মামলার ঝামেলা এড়াতে বছরে মাত্র ৫ হাজার পাউন্ডে ভাড়া চুক্তির অফার করে ভবন মালিক ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেড। সেই মামলায় হেরে গিয়ে বিসিএ এখন ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের সাথে আগের চেয়ে তিনগুন বেশি ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ হলো। জানা গেছে, গত ২২ মে ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

পাঁচ বছর পর হবে রেন্ট রিভিউ। গত ২০১৪ সালের ৭ জুন থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড ভাড়া চাওয়া হয়েছিল। তবে পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী ও বিসিএর প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি আনীস চৌধুরীর দীর্ঘ সমঝোতা চেষ্টা ও মধ্যস্থতায় বিসিএকে বছরে ১৫ হাজার পাউন্ড ডিসকাউন্ট দিতে সম্মত হয় মালিক পক্ষ। ফলে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য বছরে ১৫ হাজার পাউন্ড করেই ভাড়া দিবে বিসিএ।

প্রথম পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৭ জুন। মামলার খরচ ও বকেয়া ভাড়াসহ বিসিএ ভবন মালিকদের এ পর্যন্ত ৭৫ হাজার পাউন্ডের বেশি পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বিসিএ ভবনের সংস্কার কাজের ব্যয় এবং ইন্স্যুরেন্স বাবদ দুই তৃতীয়াংশ অর্থ বিসিএকে বহন করতে হবে। ৬ মাসের নোটিশে বিসিএ চাইলে যাতে ভবনটি ছাড়তে পারে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণত লিজ চুক্তিতে এমন সুযোগ থাকে না।

এদিকে ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের বোর্ড মিটিংয়ে সর্ব সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, কোম্পানির যেসব ডাইরেক্টর বিসিএর সাথে মামলা চলাকালীন সময়ে কোম্পানির স্বার্থবিরোধী কাজ করেছেন, তাদেরকে ডাইরেক্টর পদ থেকে বাদ দেয়া হবে। খুব দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেড কোম্পানির প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী বলেন, বিসিএস সাথে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ভাড়া চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। উভয় পক্ষ এতে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, বিসিএ আমাদের বাংলাদেশিদের একটি পুরনো ব্যবসায়িক সংগঠন। এই সংগঠনকে আমরা সমসময় সুবিধা দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের শেয়ারহোলডাররা ১৯৯৬ সালে ভবনটি ক্রয় করেন। সে সময় তারা সবাই বিসিএর সদস্য ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিসিএর জন্য একটি স্থায়ী অফিস গড়া। তখন বিসিএর নির্বাহী মেম্বার ছিল ১০১জন। সেসময় সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছিল ভবনটি ক্রয়ে অর্থ দিতে।

কিন্তু বেশিরভাগ নির্বাহী সদস্য অর্থ দিতে রাজি হন নি। সেই অর্থ না দেয়া নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে বিসিএর সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার এবং সেক্রেটারি জেনারেল এম এ মুনিমও ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ৫০ জন তৎকালীন নির্বাহী সদস্য অর্থ দিয়ে ভবনটি ক্রয় করেন। যেহেতু ৫০ জনের নামে ভিবনটি কেনা যাবে না, সেজন্য বিসিএর নামে কেনা হয়। কিন্তু কেনার সময়েই উল্লেখ ছিল ভবনের প্রকৃত মালিক এবং সুবিধাভোগী হবেন কন্ট্রিবিউটররা। বিসিএ কেবল ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করবে।

এরপর ১৯৯৯ সালে কন্ট্রিবিউটররা ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেড কোম্পানি গঠন করেন। ভবনটির মালিকানা বিসিএ থেকে ৪০৩ হ্যারো রোডের নামে স্থানান্তর করেন। বিসিএতে নতুন নতুন নেতৃত্ব আসবে এবং তারা এটির যাচ্ছেতাই ব্যবহার করতে পারে-এমন সুযোগ বন্ধ করতেই এটি কন্ট্রিবিউটরদের নামে নেয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, বিসিএ ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেবে। কিন্তু এ জন্য নামমাত্র মূল্যে রেন্ট প্রদান করতে হবে।

২০০৬ সালে বজুলর রশিদ বিসিএর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। একইসাথে তখন তিনি ৪০৩ হ্যারো রোড লিমিটেডের সেক্রেটারিও ছিলেন। ওই বছরের ১২ জানুয়ারি বজলুর রশিদ বিসিএর সাথে কোম্পানির একটি লিজ চুক্তি করেন। যাতে বলা হয়, ভাড়া বাবদ বিসিএ প্রতি বছর আড়াই হাজার পাউন্ড কোম্পানিকে দেবে।

ওই চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিসিএ ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানিকে কোনো ভাড়া দেয়নি। এক পর্যায়ে লিজ চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন বিসিএ নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি সূরাহায় কোম্পানির অন্যতম ডাইরেক্টর মহিব চৌধুরীর নেতৃত্বে শেয়ারহোলডারা বিশেষ সাধারণ সভা ডাকে।

মাতাব চৌধুরীকে প্রেসিডেন্ট, এ আর খানকে সেক্রেটারি ও এখলাসুর রহমানকে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি ২০১৩ সালে বিসিএর কাছে বকেয়া ভাড়া বাবদ পাওনা অর্থ দাবি করে।

কিন্তু বিসিএ ভাড়া না দিয়ে উলটা ভবনটির মালিকানা দাবি করে আদালতে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে বছরে মাত্র আড়াই হাজার পাউন্ডে রেন্ট চুক্তি করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিসিএ নেতৃবৃন্দ সেটি মানেননি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close