আরববিশ্ব জুড়ে

মনুষ্যত্ব যে এখনও বিলুপ্ত হয়নি: এ ঘটনা যেন তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: হিংসা, একে অপরের সঙ্গে হানাহানিতে দীর্ণ এই পৃথিবী। স্নেহ, মায়া, মমতা ও ভালবাসার বড়ই অভাব। মানুষের সঙ্গে মানুষের, দেশের সঙ্গে দেশের হিংসা, বিবাদে যেখানে বারবারই আক্রান্ত হতে হয় মানবতাকে।

কিন্তু কিছু ঘটনা আজও ঘটে যা নতুন করে আশার সঞ্চার করে, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। সম্প্রতি তেমনই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ফিলিস্তিনি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এক ইসরায়েলি নার্স।

ফিলিস্তান ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশের মধ্যে বিবাদ বহু পুরনো। আর সেই বিবাদ পড়শি এই দুই দেশের মানুষের মধ্যে যেন এক অদৃশ্য সীমারেখা টেনে দিয়েছে। যে সীমারেখার কাছে হার মেনে যায় স্নেহ, ভালবাসার মতো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলিও।

তাই কোনও ফিলিস্তিনি কোনও ইসরায়েলিকে সাহায্য করছেন, সারা বিশ্বেই এ ছবি বিরল। উল্টোটা সচরাচর ঘটে না। তাই ইসরায়েলি ওই মহিলার মাতৃত্বসুলভ আচরণ হৃদয় জিতে নিয়েছে বহু মানুষের।

জানা গেছে, সম্প্রতি ইসরায়েলে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাঁদের শিশুসন্তান। দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা ও তাঁর নয় মাসের শিশুকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে।

কিন্তু শারীরিক কারণে ওই মহিলা, নিজের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রায় সাত ঘণ্টা শিশুটিকে বোতল থেকে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন হাসপাতালে এক ইসরায়েলি নার্স।

কিন্তু শিশুটি দুধ খেতে চাইছিল না। শেষ পর্যন্ত ওই নার্স নিজেই শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ান। জানা গেছে, নিজের শিফট চলাকালীন মোট পাঁচবার শিশুটিকে বুকের দুধ খাইয়েছেন তিনি।

আরও জানা গেছে, এক ইসরায়েলি নার্স যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে রাজি হবেন, সেটা কল্পনাই করতে পারেননি ওই শিশুটির পরিবার। তাই প্রথমে শিশুটি দেখাশোনার জন্য একজন আয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তারা। কিন্তু মনুষ্যত্ব এখনও বিলুপ্ত হয়নি, এ ঘটনা যেন তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close