যুক্তরাজ্য জুড়ে

অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে তেরেসার টেনস অব থাউজেন্ডস মন্তব্যে নিয়ে ভয় কাটছে বাঙ্গালীদের

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃটেন প্রবাসী বাঙালিরা তেরেসা মে বা তার দলের অভিবাসী নীতি নিয়ে যতটা ভয় করেছিলেন, ততটা ভয়ের কিছু আসলে নেই। টেনস অব থাউজেন্ডস কথাটি নির্বাচনের আগে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছিল।

অভিবাসীদের মুখে মুখে ছিল এটি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পরিষ্কার করে বলেছিলেন, তিনি অভিবাসীদের সংখ্যা বছরে টেনস অব থাউজেন্ডসে নামিয়ে আনবেন।

সংখ্যা নিয়ে প্রথমত ধূম্রজাল তৈরি হয়। কারণ, ওই পরিভাষার অর্থ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ। এরপরে অবশ্য কনজারভেটিভরা স্পষ্ট করেন যে, এটা এক লাখ। কিন্তু মে যখনই এ প্রসঙ্গে বলেন তখন তিনি এক লাখ বলেন না। তিনি এখনও টেনস অব থাউজেন্ডস বলতেই অভ্যস্ত।

সোমবার বিবিসির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক কামাল আহমেদ সাধারণ নির্বাচনের তিন দিন পরে ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফিলিপ হেমন্ডের নেয়া একটি সাক্ষাৎকারে অভিবাসীবিষয়ক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।

এতে তিনি লিখেছেন, সাক্ষাৎকারের শেষে অভিবাসনের প্রসঙ্গ তুলতেই বছরে এক লাখ অভিবাসী বিতাড়নের যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা তেরেসা মে দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তার নাতিশীতোষ্ণ মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ব্যবসা-বাণিজ্যর জগতে অভিবাসন একটি বড় বিষয়। কারণ এই খাতে দক্ষ এবং কম দক্ষ অভিবাসীরা বৃটেনে প্রবেশ করছেন। আপনি কি একমত যে, অনেক ব্যবসায়ী যেখানে বলছেন যে বছরে অভিবাসী আগমনের সংখ্যা এক লাখে নামিয়ে আনা হলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও এই টোরি নীতির প্রতি আপনার সমর্থন আছে কি না? এর উত্তরে হেমন্ড বলেছেন, যেসব ব্যবসায়ী দক্ষ অভিবাসী আনতে চান এবং তারা তাদের বৈশ্বিক বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোয় ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন, তাদের দরজা খোলা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাদের কোম্পানি সচল রাখতে অবশ্যই দক্ষ শ্রমিকদের বৃটেনে আনতে পারবেন, তাতে কেউ বাধা পাবেন না।

এ মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অভিবাসীদের আগমন ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এখন সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। আমরা আমাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব এবং আমাদের অর্থনীতিও আমাদের সমাজের স্বার্থে সেই নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা তদারকি করব।

তখন কামাল আহমেদ তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি মনে করেন যে বৃটেনে বছরে অভিবাসীর সংখ্যা এক লাখের নিচে নামিয়ে আনা উচিত? এর উত্তরে মি. হেমন্ড বলেন, অভিবাসনকে আমাদের একটা টেকসই অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা ক্রমাগতভাবে দক্ষ অভিবাসনে গুরুত্ব দেব।

প্রধানমন্ত্রী খুবই পরিষ্কার করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন যে এই সংখ্যা বছরে এক লাখের বেশি হওয়া উচিত নয়। কামাল আহমেদের প্রশ্ন, আপনি তা বিশ্বাস করেন? মি. হেমন্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার লক্ষ্য নির্ধারণে অত্যন্ত স্পষ্ট যে আমরা টেনস অব থাউজেন্ডের লক্ষ্যে স্থির রয়েছি।

কামাল আহমেদ লিখেছেন, মি. হেমন্ড একজন সতর্ক ব্যক্তি। এবং এটা লক্ষণীয় যে, ওই লক্ষ্য যেটা তেরেসা মে বলেছেন, সেটা তিনি সরাসরি সমর্থন করেন বলতে রাজি হননি। আর তার এই না সমর্থন করার মধ্য দিয়ে তিনি তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে ধরে নিতে হবে।

তবে অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপ তো দূরের কথা, ট্রেজারি বেঞ্চের অনেকে বিশ্বাস করেন যে, অর্থনীতির সমর্থনে বৃটেনকে অভিবাসীদের জন্য এক বৈশ্বিক লড়াইয়ে বৃটেন সম্পৃক্ত হবে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, মি. হেমন্ড ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে মানুষের অবাধ চলাচলের প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন করেন।

আমার কাছে তিনি এটা স্পষ্ট করেছেন যে, সেই পরিস্থিতির যবনিকাপাত ঘটবে। এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে যা কিছু ঘটেছে তাতে অভিবাসননীতি বদলে যাবে, তেমনটা ধরে নেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

আর এই অবস্থাটি দেখেশুনে আমার কাছে প্রতিয়মান হয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তার সদস্য পদ লাভের চার মূলনীতির মধ্যে থাকা উন্মুক্ত সীমান্ত বিষয়ক সংস্কারে রাজি না হয়, তাহলে সিঙ্গেল মার্কেটে অবাধ বাধাহীন সদস্যপদ থাকার বিষয়টি নাকচ হবে এবং তাই ব্রিটেনের একক বাজারে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

নতুন নির্বাচন যে পরিবর্তন বয়ে এনেছে, তাহলো সরকারে তেরেসা মে দুর্বল হয়েছেন। কিন্তু মি. হেমন্ড অনেক বেশি শক্তি সঞ্চয় করেছেন।

১০ নম্বর ডাউনিং স্টেটের অনেকেই ট্রেজারি বেঞ্চের মোটেই ভক্ত নন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার প্রভাব যাতে হ্রাস পায় তারা সেটা চাইছেন। নির্বাচন এ ক্ষমতা সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিয়েছে এবং মি. হেমন্ড যে এখন অভিবাসীদের সংখ্যা বেঁধে দেয়ার বিষয়ে একটা শিথিল মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তাকে অনকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হয়।

ব্রেক্সিট আলোচনার নতুন মন্ত্র হবে অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে চাকরি ও দক্ষতা।

সিবিআইয়ের মহাপরিচালক কেরলিন ফেয়ার বার্ন সোমবার সকালে ফিনান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, দক্ষতা এবং শ্রমিক কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি একটি প্রত্যাশিত বিষয়।

বিবিসির সাইমন জ্যাক সোমবার সকালেই এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন তাদের কণ্ঠস্বর অধিকতর উচ্চনিনাদে শোনা যাবে।

মন্ত্রিসভার মাইকেল গোপসের পুনরায় ফিরে আসাকে দক্ষতাপন্থি কণ্ঠ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মি. গোপ একজন সাচ্চা ব্রেক্সিটপন্থি। কিন্তু তার রয়েছে মুক্ত সীমান্ত অনুসরণের দৃষ্টিভঙ্গি। গণভোটের প্রচারণায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে বৃটেনে যারা এসেছেন তারা দক্ষতার জোরেই এসেছেন।

আর তারা যদি আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, তাহলে আমরা তাকেই স্বাগত জানাব। এখন এ কথা বেশ জোরের সঙ্গে বলা হচ্ছে, নির্বাচনী ফলাফল কঠোর ব্রেক্সিটকে নরম ব্র্রেক্সিটে পরিণত করেছে।

নরম ব্রেক্সিটের অর্থ হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা। এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে আলোচনার টেবিলে একটি প্রস্তাব তুলে দেয়া। আর চ্যাঞ্চেলরের কথাবার্তায় সেই আভাসই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close