ইউরোপ জুড়ে

তুরস্কে রমজানে মসজিদকে করে দেয়া হল শিশুবান্ধব

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসে বিভিন্ন মুসলিম দেশে রাতে তারাবি নামাজে অংশগ্রহণের জন্য মুসলমান নর-নারীরা উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করেন। কিন্তু সমস্যা হয় ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে। নামাজে ছোটরা অনেক সময় নড়াচড়া করে কিংবা কেউ কেউ দুষ্টমি করতে চায়। অনেকে ঘুমিয়ে পড়ে।

কেউ কেউ নামাজের কাতারের সামনে হাঁটাহাঁটি করে। তাদের বাসায় রেখে আসা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যখন বাড়ির পুরুষ, মহিলা ও অন্য প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সবাই তারাবিতে অংশ নিতে চান। তাই ছোট ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করা অনেক পরিবারে সমস্যা হয়ে দেখা দেয়।

আবার দীর্ঘ সময় তাদের বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখাও বিপজ্জনক। শিশুদের দেখভাল করার জন্য বাড়িতে কাউকে রাখলে, তার পক্ষে মসজিদে তারাবি নামাজ পড়া হয়ে ওঠে না। অথচ অনেক রোজাদার সারা বছর অপেক্ষা করেন রমজানে কুরআন খতমের মাধ্যমে তারাবির নামাজ আদায় করতে।

এই সমস্যা নিরসনে তুরস্কের সরকার এক বিশেষ আয়োজন করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স ২০১৬ সালে পরীক্ষা মূলকভাবে আহমেত আকসেকী মসজিদে ৫০ থেকে ১০০ ছেলেমেয়ে ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক স্থানের ব্যবস্থা করেছেন, যেখানে পিতামাতারা নামাজের সময় ছেলেমেয়েদের রাখতে পারবেন। শিশুরা এখানে ইচ্ছেমতো খেলাধুলা করবে, আনন্দ করবে এবং নতুন সাথীদের সাথে গল্প করবে।

মসজিদের মোয়াজ্জিন মনসুর সগির জানান, এই প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ধর্মীয়বোধের সাথে বিষয়টি জড়িত। বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন তুরস্কে বসবাস করেন। তাদের ধর্মীয় অনুভূতি কিরূপ, তাও বোঝা যাবে। গত রমজানে এই ব্যবস্থাপনার ওপর কোনো নেতিবাচক আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি। মসজিদকে শিশুবান্ধব করার জন্য কোনো নতুন প্রস্তাব, ব্যবস্থাপনার সংযোগ ও উন্নয়ন সাধনের প্রস্তাব কোনো মাধ্যম থেকে পাওয়া গেলে তা গৃহীত হবে মর্মে সরকার ঘোষণা দিয়েছে।

ছোটশিশু আহমেত ইয়াসিন জানায়, সে আঙ্কারার ইয়ানি মহল্লা থেকে মসজিদে বাবার সাথে এসেছে। মসজিদটি তার খুবই পছন্দ। খেলাধুলার আনন্দ তাকে এখানে টেনে নিয়ে আসে। ইয়াগমুর বুরুক আরেক শিশু। সেও পিতামাতার সাথে এই মসজিদে আসে। তার পিতা বাহরি জানান, এ ব্যবস্থার মধ্যে অনেক কিছু চিন্তাভাবনার আছে।

অতীতে তুরস্কে শিশুবান্ধব ও মহিলাবান্ধব মসজিদ ছিল না। মহিলারা পৃথকভাবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আলাদা কক্ষে নামাজ আদায় করতেন। এসব কক্ষে সাধারণত মহিলাদের সঙ্কুলান হতো না। মায়ের সাথে আসা ছোট শিশুরা সেখানে অস্থির হয়ে যেত। মসজিদগুলো মূলত পুরুষদের নামাজের স্থানরূপে ব্যবহৃত। পুরুষরা মসজিদে প্রায় সব জায়গায় নামাজ পড়তেন, মহিলাদের জন্য থাকত একটি পৃথক কক্ষ।

ফলে প্রায় সব মসজিদে শুক্রবার ও তারাবি নামাজে মহিলাদের সমস্যা হতো। তরুণ রোজাদার ও মুসল্লিরা দাবি জানাচ্ছেন, মসজিদে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা দেয়া হোক। সরকার তাদের এ দাবিকে বলেছে, সঠিক। এখন তুরস্কে ও তুর্কি সহায়তায় যেসব মসজিদ নতুনভাবে তৈরী বা সংস্কার হচ্ছে সেগুলোকে মহিলাবান্ধব মসজিদ হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে।

সেইসাথে যোগ হচ্ছে নতুন ধারণার শিশুবান্ধব মসজিদ। এ ভাবেই তৈরী করা হয়েছে কামলিকা মসজিদ। এটি ইস্তাম্বুলের মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিকটভবিষ্যতে তুরস্কের নতুন ও পুরনো মসজিদ সংস্কারের সময় এগুলোকে শিশুবান্ধব মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close