ফিচার

যে ভাবে এরদুগানের ঘনিষ্ট হয়ে উঠেন কাতারের আমীর তামীম..

কাতারের থানী পরিবার মধ্যপ্রাচ্যে সবচাইতে মর্ডান এবং পশ্চিমা ধাছে দোহা শহর গড়ে তুলেন। ইসলামী শরিয়তে রাষ্ট্র পরিচালনা না করলেও থানি পরিবারের সদস্যরা কট্টর ইসলামী চিন্তাচেতনার অধিকারী হন।

১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাপি মুসলমান জাতির খেদমত করার লক্ষ্য আল-জাজিরা নিউজ চ্যানেল সৃষ্টি করেন। সৃষ্টির সাথে সাথে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা পান এই চ্যানেলটি। সিএনএন বিবিসি কে পেছনে ফেলে সমগ্র আরবে এক নাম্বারের স্থান দখল করে নেন।তৎকালীন আফগানিস্তানে তালেবানের পক্ষে এবং ওসামা বিন লাদেনের নিউজ ব্যাপক আকারে প্রচার করেন।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলা হলে ওসামা বিন লাদেনের পক্ষে নিউজ প্রচারের অভিযোগে দোহার আল-জাজিরা ভবন বোমা মেরে উডিয়ে দেওয়া হুমকি দেন আমেরিকা।

আমেরিকার হুমকির পর সম্পাদকীয় নীতিতে হালকা পরিবর্তন করেন, জুব্বা পড়া উপস্থাপকদের বাদ দিয়ে কোট টাই পড়া নারী-পুরুষ উপস্থাপক প্রদর্শন করেন আল-জাজিরা চ্যানেলে। আল-জাজিরার হাজার হাজার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই পরিবারটি দেখতে পান সমগ্র বিশ্বে মুসলমান জাতির বিরুদ্ধে কত জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত পশ্চিমারা। পরবর্তীতে আরো কট্টর পন্থী হয়ে উঠেন এই থানি পরিবারের সদস্যরা।

১৯৮০ সালে জম্ম নেওয়া ৩৩ বছরের যুবক তামীম বিন হামদ আল থানী তার পিতা হামদ বিন খলিফা আল থানীকে অবসরে পাঠিয়ে ২৫ শে জুন ২০১৩ সালে কাতারের আমীরের পদ গ্রহন করেন। আমীর হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব ব্যাপি জিহাদীদেরকে আরো বেশী সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের হামাস-মিশরে ব্রাদারহুড়, লিবিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, সোমালিয়া সহ সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী কট্টরপন্থী মুজাহিদদের সরাসরি পৃষ্টপোষকতা শুরু করেন।

তামিম বুঝতে পারেন মুসলমান জাতির মধ্যে ২০১৪-১৫ সাল থেকে একটি সিংহ গর্জন দেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা সাহসী সংঙ্গীর অভাবে। তামিম ছুটে যান আংকারায় সেই সিংহের কাছে। সেই সিংহকে হুংকার দেওয়ার সাহস দিতে থাকেন। এমনও সময় গেছে তামীম একটি দেশের আমীর হয়ে সেই সিংহ এরদুগানের পিছনে তুর্কীতে ঘরোয়া প্রোগ্রামে পর্যন্ত অংশ নিয়েছে। যেমন গত বছর তুর্কী নাট্যকর্মীদের একটি ইফতারে এরদুগানের দাওয়াত ছিল।

আর সেই সময় তুর্কীতে ছিল তামীম আর তামীমকে এরদুগান সঙ্গে নিয়ে গেলেন নাট্য ও সিমেনা অভিনেতাদের সেই ইফতার মাহফিলে। কতটুকু ঘনিষ্ট হলে একটি দেশের আমীর অন্যদেশের একটি স্থানীয় প্রোগামে অংশ নিতে পারে সেটা রাষ্ট্র কর্তারাই ভাল বুঝবেন। এরদুগান তার যোগ্য সাগরেদ পেয়ে যান আজ সেই সাগরেদ চক্রান্তের স্বীকার হলে সর্বশক্তি দিয়ে হলেও রক্ষা করার হুংকার দেন।

এভাবেই তামীম মুসলমান জাতির পক্ষে ছুটে গেছেন যেখানে একটু আশার আলো দেখতে পেয়েছেন।দুহাত উজাড় করে তামীম সহ সমগ্র কাতারী জনগন সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশে দরিদ্র মুসলমান জাতিকে শত শত এনজিওর মাধ্যে অকাতরে অর্থ বিলিয়ে যাচ্ছেন।

আমার জানামতে গত ২০ বছর ধরে মুসলমান জাতির প্রতি কাতারের এই থানী পরিবারের অবদান লিখে শেষ করা যাবেনা।

লেখক: সালাহুদ-দ্বীন আইয়ুবী, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close