লন্ডন থেকে

লন্ডন ফিন্সবারী পার্ক মসজিদের কাছে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত এক বাংলাদেশী: আহত ৮ থেকে ১০

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নর্থ লন্ডনের সেভেন সিস্টার্স রোডে ফিনসবারি পার্ক মসজিদের সামনে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

এতে নিহত হয়েছেন এক বাংলাদেশী। তবে তার নাম জানা যায় নি। রোববার রাতে তারাবির নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হতেই একদল মুসলিমের ওপর ভ্যান উঠিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

এতে মারা যান ওই বাংলাদেশী। আহত হয়েছেন ৮ থেকে ১০ জন। তাদের মধ্যে আর কোনো বাংলাদেশী আছেন কিনা তা জানা যায় নি।

লন্ডন পুলিশ এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছে। লন্ডনের অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফ ও স্কাই নিউজ এ খবর দিয়েছে। এতে সুলতান আহমেদ (৩৪) নামে একজনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি নিহত বাংলাদেশীকে সনাক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশী একজন প্রবীণ ব্যক্তি।

নর্থ লন্ডনের সেভেন সিস্টার্স রোডে ফিনসবারি পার্ক মসজিদের কাছে মসজিদ থেকে বের হয়ে ঘরে যাওয়া মুসল্লিদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ১জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। এই সন্ত্রাসী হামলায় আরো আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০জন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খালিদ আমিন বিবিসিকে জানান, ঘটনার সময় হামলাকারী ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, আমি সব মুসলিমকে হত্যা করতে চাই।

ন্যাক্কারজনক এঘটনাকে ব্রিটেনে মুসলিম কাউন্সিল বলছে, এটা ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-ভীতির একটি হিংসাত্মক প্রকাশ।

মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউজের ঠিক বাইরেই অনেক লোক যেসময়টায় তারাবির নামাজ শেষে ঘরে ফিরছিল ঠিক তেমনই সময় সাদা রং এর একটি ভ্যান দ্রুতবেগে রাস্তায় চলতে দেখা যায় এবং এরপর ফুটপাথে লোকজনের ওপর উঠানো হয়।

এরপরপরই স্থানীয়দের সহায়তা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ৪৫ মিনিট পর চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ক্রু, প্যারামেডিক্যাল কর্মী এসেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। এরআগেই স্থানীয়রা আক্রমনকারী সাদা ভ্যানচালককে ধরেফেলে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধূলা দিতে চাইলে স্থানীয় ইমাম তাকে পুলিশে দিতে বলছেন বলে স্যোশাল মিডিয়ায় ছাড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।

অসংখ্য পুলিশ ঘটনাস্থল এখনো ঘিরে রেখেছে। এই হামলা ব্রিটেনে মুসলিম বিদ্বেষের চরম বহি:প্রকাশ বলে মনে করছেন মুসলিম নেতারা। সাধারণ মুসলমানরা আংকিত।

এদিকে হোম সেক্রেটারী অ্যাম্বার রাড বলেছেন, এই হামলাকে পুলিশ “একটি সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবেই দেখছে। কাউন্টার টেররিজম সদস্যরা এর তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ৪৮ বছর বয়সী একজন ভ্যানটি চালিয়ে পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এবং হামলাকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই প্রথম কোনও ব্যক্তি যাকে সাধারণ জনতা আটক করে এবং পুলিশের কাছে তুলে দেয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এরপর তাকে কাস্টডিতে নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে এই হামলাকে “ভয়ংকর ঘটনা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। আক্রান্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

লেবার পার্টির নেতা এবং স্থানীয় এমপি জেরেমি করবিন টুইটারে লিখেছেন, এমন হামলায় তিনি ভীষণভাবে ব্যথিত। সেখানকার বিভিন্ন মসজিদ, পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, এই সম্প্রদায়ের মানুষদের, বিশেষ করে যারা রোজা রাখছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

মেয়র বলেন, আমরা এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না কিন্তু এটা পরিষ্কারভাবেই লন্ডন-বাসীর ওপর ইচ্ছাকৃত একটি হামলা। আর যাদের ওপর হামলা চালানো হয় তাদের অনেকেই পবিত্র রমজানের নামাজ আদায় শেষ করছিলেন।

লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানাচ্ছে, তারা গুরুতর আহত অন্তত আটজনকে এবং অপেক্ষাকৃত কম আহত দুজনকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আহতদের পরে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অনেকেই বলছেন, এ হামলার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে তারা মনে করেন। যদিও সন্দেহভাজন অন্য কোনও ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি । তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের খোঁজ-খবর চলছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close