Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

সপ্তাহ না ঘুরতেই নিউইয়র্কেই ফের এক বাংলাদেশী কূটনীতিক আটক

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: মাত্র এক সপ্তাহ আগেই গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ‘গৃহকর্মী নির্যাতনের’ অভিযোগে । সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশী আরও এক কূটনীতিক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো একই অভিযোগে ।

র পর বাংলাদেশী দুই কূটনীতিকের এমন গ্রেপ্তারের খবরে দেশটির গণমাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এনআরবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট দিনের ব্যবধানে একই ধরনের অভিযোগে নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশি কূটনীতিককে গ্রেফতারের ঘটনায় নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে প্রবাসীদের মধ্যে। চার বছর আগের ঘটনায় জাতিসংঘের পদস্থ এক কর্মকর্তাকে সরাসরি গ্রেফতারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইমেজ আরেক দফা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

গুঞ্জন উঠেছে, ‘গৃহকর্মী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিপ্রায়ে কূটনীতিকদের ফাঁসানো হচ্ছে’। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করতে দেশটির বিচার বিভাগের প্রতিও অনুরোধ জানিয়ে প্রবাসীরা স্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন।

এর আগে গত ১২ জুন গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে। পরে ৩৬ ঘণ্টা পর ৫০ হাজার ডলার বন্ডে তাকে জামিন দেওয়া হয়।

এবারের অভিযুক্ত বাংলাদেশী কূটনীতিক এর নাম হামিদুর রশীদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত ইউএনডিপির কর্মকর্তা।

দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যেমতে, বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর সাথে ভিসা জালিয়াতি, কর্মী নিয়োগ চুক্তি জালিয়াতি এবং সেই কর্মীর পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে হামিদুর রশীদ নামে ইউএনডিপির এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত ইউএনডিপির কর্মকর্তা হামিদুর রশীদ

এদিন গ্রেফতারের সাত ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির বাংলাদেশি কর্মকর্তা হামিদুর রশিদ। এর আগে’ গৃহকর্মীকে ঠকানো ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে’ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে হামিদুর রশীদকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্ক পুলিশ। পরে বিকেলে তাকে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেমস কট আড়াই লাখ ডলার বন্ডের বিপরীতে শর্তসাপেক্ষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ সময় হামিদুরের পাসপোর্টসহ যাবতীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট সোপর্দ করতে হয় আদালতে। আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে জামিনের শর্ত পূরণে তাকে সম্পদের দলিল হস্তান্তর করতে হবে।

হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত হামিদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয় নিউইয়র্কের সময় মঙ্গলবার সকালে। বাংলাদেশী এই কূটনীতিককে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হয় । গ্রেপ্তারের পর ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে তোলা হয় তাকে এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন পান তিনি।

তবে,এখন অবধি বিষয়টি নিয়ে হামিদুর রশীদ কিংবা ইউএনডিপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যমতে, কূটনীতিক হামিদুর রশিদ বাংলাদেশ থেকে আনা গৃহকর্মীর জন্যে প্রযোজ্য জি-৫ ভিসার নিয়ম অনুযায়ী যে মজুরি দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন তা পরবর্তীতে মানা হয়নি।

জাস্টিস সাইটে আরও বলা হয়, সাপ্তাহিক ৪২০ ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিপত্র পররাষ্ট্র দপ্তরে দাখিল করা হলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে নতুন একটি চুক্তিপত্রে সই নেন। যেখানে সাপ্তাহিক মজুরি দেখানো হয় ২৯০ ডলার। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগও আনা হয়।

বিবিসিতে প্রকাশিত সংবাদসুত্র বলছে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশী এই কূটনীতিক হামিদুর রশীদের সর্বোচ্চ ২৯ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশী কূটনীতিকের পারিবারিক সুত্রমতে গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদকে একইকায়দায় অভিযুক্ত করার[ এদফায় গৃহকর্মী নয়! উলটো গৃহকর্মী কতৃক ‘অত্যাচারিত হলেন’ খোদ গৃহকর্তা বাংলাদেশী এক কূটনীতিক! ] ঘটনার পর ফের অনুরুপ ঘটনা মোটেও ‘কাকতালীয়’ নয়! বরং গভীর ষড়যন্ত্র! সুত্রমতে, অভিযোগকারী ঐ গৃহকর্মী চার বছর আগেই হামিদুর রশীদের কাজ ছেড়ে চলে যান। এরপর তার আর কোন খবর ছিলোনা

এর আগে গত সোমবার সকালে নিউইয়র্কের কুইনস বরো থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে। তিনি নিউইয়র্কের কুইনসের পাশে জ্যামাইকা এলাকায় বাস করতেন।

বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান গনমাধ্যমকে এই কূটনীতিকের জামিনে মুক্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, আগামী ২৮ জুন শাহেদুল ইসলামকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।

কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, তিনি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিটে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রহণ করেছেন। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব শামীম হোসাইন ও তৃতীয় সচিব আসিব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রহন করতে ছুটে আসেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও নানা নির্ভযোগ্য তথ্যমতে গৃহকর্মীর অভিযোগ ‘বানোয়াট’ ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেই দাবী করছেন অনেকেই । এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে এমন আইনি জটিলতা তৈরির বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক এর বাংলাদেশি কমিউনিটিগুলো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক আটকের ঘটনা গনমাধ্যমে প্রকাশের পরই ‘চরম অসন্তোষ’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৩ জুন) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কূটনীতিকরা দেখা করে বিষয়টি ব্যাখ্যা চাইবেন বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশী এই ডিপ্লোমেটিক এর আকস্মিক এমন গ্রেফতারকে ‘উদ্দেশ্যপ্রনোদিত’ গভীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও শুরু হয় ব্যপক সমালোচনার ঝড় । জেনারেল শাহেদের নিজ শহর ঠাকুরগাঁওয়ের অনলাইন একটিভিস্টদের মধ্যেও এই ঘটনায় ‘ক্ষোভ’ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগকারী রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও শহরে ‘প্রতারক’ হিসেবেই পরিচিত’ এমন দাবী করে অনেককেই এই ঘটনায় জেনারেল শাহেদের মত ‘ফ্রেশ ইমেজের’ একজন মানুষ তথা একজন কূটনীতিকের গ্রেফতারের নিন্দাও জানাতে দেখা যায়।

অভিযোগকারী ‘পলাতক’ মোহাম্মদ রুহুল আমিন নামের ওই ব্যক্তির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন; উল্লেখ করে অনেকেরই দাবী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আশায় এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।

জেনারেল শাহেদুল ইসলামের এক প্রতিবেশি নিউইয়র্ক প্রবাসী আব্দুল্লাহিল কাফি (মেজর) সময়ের কণ্ঠস্বরকে টেলিফোনে জানান, অভিযোগকারী রুহুল আমিনের বাবা একসময় শাহেদুল ইসলামের বাবা ঠাকুরগাঁও সদর আসনের সাবেক এমপি মরহুম খাদেমুল ইসলামের বাড়িতে কাজ করতেন। অনেক পুরনো কর্মচারীর ছেলে হিসেবে অনেকটা মায়ার টানেই রুহুল আমিনকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসেন শাহেদুল ইসলাম। সেখানে দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে কাজ করার পর হুট করেই ‘ স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন’।

আব্দুল্লাহিল কাফি আরও জানান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রায় সবার কাছেই শাহেদুল ইসলাম বেশ প্রিয় ও বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। হঠাত করে তার এমন গ্রেফতারে পুরো বাংলাদেশী কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ।

গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে আটক কন্স্যুলার জেনারেল শাহেদ রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এমন একজন একজন সাবেক ছাত্রনেতা রওশান পারভেজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ‘শাহেদ ভাইয়ের বাবা মরহুম খাদেমুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের ‘সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ও সংসদ সদস্য ছিলেন। উনার হাতধরেই রাজনীতিতে এসেছি আমরা । শাহেদ ইসলাম কখনো কাউকে ‘ধমক’ দিতে পারেন এ কথা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয় উল্লেখ করে সাবেক এই ছাত্রনেতা জানান, সেখানে কাউকে বছরের পর বছর বেতন না দিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে এটা একদিনের জন্যই যারা শাহেদকে চেনে তারা কেওই বিশ্বাস করবেননা’।

এর আগে সোমবার (১২ জুন) নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ সাহেদুল ইসলামকে তার পলাতক একজন গৃহকর্মীর মামলায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে রাখা হয় । মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাতে বেল বন্ড দাখিল সাপেক্ষে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

বাংলাদেশের এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিউইয়র্কে তাঁর বাসায় এক বাংলাদেশি গৃহকর্মীকে তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন চালাচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে ওই গৃহকর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করেছেন।

এই ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্সবরোর অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন তার দেয়া এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগকে খুবই উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। গতকাল ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন তার বিবৃতিতে বলেন, এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন কূটনীতিক তার বাড়িতে আরেকজনকে কাজে বাধ্য করতে শারীরিক জোর খাটিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন।

সেই সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই ওই কর্মীকে কাজে আটকে রাখার জন্য তার পাসপোর্ট নিয়ে নিয়েছেন। তাকে বেতন দিতে অস্বীকার করেছেন এবং অন্য দেশে থাকা তার পরিবারকে বিপদে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

এইসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিশ্চিতভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১৫ বছরের জেল খাটতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।

কুইনস কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও দেখা যায় এ-সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ দেয়া রয়েছে। বিবরণে বলা হয়, মোহাম্মদ রুহুল আমিন নামের ওই শ্রমিক (গৃহকর্মী) যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরই শাহেদুল ইসলাম তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেন। এরপর তাঁকে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করেন।

আনুমানিক ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই ওই গৃহকর্মীকে বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর ওই গৃহকর্মী গত বছর মে মাসে পালিয়ে যান। এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close