গ্যালারী থেকে

ভয়াবহ সব অভিযোগে ফেঁসে যেতে পারেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ

গ্যালারী থেকে ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন তারকার বিরুদ্ধে নারী নিপীড়ন, সম্পর্কের নামে প্রতারণা, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইতপুর্বে। প্রায় প্রতিটি ঘটনাই মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথেই প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ঘটনা এখনও বিচারাধীন। এরই মধ্যে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় সর্বশেষ যোগ হতে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের নাম।

দুই সন্তানের বাবা শহীদের বিরুদ্ধে এবার নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার । ফারজানা আক্তারের অভিযোগ, ছয় বছরের সংসার জীবনের গত কয়েক বছর তার জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে তার স্বামী। সর্বশেষ ঈদের মাত্র তিনদিন আগে গত শুক্রবার ১১ মাস বয়সী মেয়ে আরোহিকেসহ বাসা থেকে বের করে দিয়েছে শহীদ। বর্তমানে ফারজানা আক্তার তার বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে আছেন বলে জানিয়েছেন।

একটি অনলাইন পোর্টালের সাথে আলাপকালে ফারজানা আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বড় সন্তান ছেলে হওয়ায় আরাফকে ‘খুব আদর করেন শহীদ, কিন্তু ছোট সন্তান আরোহিকে নিজের মেয়ে বলে মেনে নিচ্ছে না সে!

ফারজানা আরো জানান, শহীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। ঈদের ছুটি শেষেই নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করবে ফারজানার পরিবার। ফারজানা জানান, তিনি যেকোনো মূল্যে ফিরতে চান স্বামীর ঘরে। কিন্তু শহীদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না তিনি।

ঈদের তিন দিন আগে শুক্রবার বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার দিন মুন্সীগঞ্জের হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিতে যান, কিন্তু সেখানে তার অভিযোগ নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ফারজানা ।

ঐ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে স্বামীর বিরুদ্ধে অত্যাচারের কাহিনি বলার সময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদের স্ত্রী।

তিনি জানান, তার দ্বিতীয় সন্তান আরোহীর বয়স ১১ মাস হলেও একবারও তাকে স্পর্শ করেননি শহীদ। এসময় ক্রিকেটার শহীদের বিরুদ্ধে পরনারী আসক্তির গুরুতর অভিযোগও আনেন ফারজানা। তার অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই অন্য নারীতে আসক্ত শহীদ।

শহীদের স্ত্রী জানান, ২০১১ সালের ২৪ জুন পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আগে বেশ ভালোই ছিল। আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝত না। কিন্তু টাকা হওয়ার পর পাল্টে গেছে।

অন্য মেয়েতে ভীষণভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। নানা সময়ে ফোনে কথা বলার সময় আমার কাছে সে ধরা পড়েছে। ওই মেয়েদের সঙ্গে সে অনৈক্তিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে। সেটাও আমি জানি। এর প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে প্রচণ্ডভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

‘কয়েকদিন আগেও একটা মেয়ের সঙ্গে তার খারাপ সম্পর্ক ছিল। ঢাকার বড় লোকের সুন্দরী মেয়ে সে। কিন্তু সে জানতো না শহীদ বিবাহিত। পরে সে জানতে পেরেছে যে, শহীদ বিবাহিত। ওই মেয়ের সঙ্গে বিয়ে প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। শুধু একটা নয়, শহীদ এক সঙ্গে অনেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। সবাইকে বলে আমি অবিবাহিত।’

ফারজানা জানান, দ্বিতীয় সন্তান পেটে আসার পর থেকেই শহীদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাচ্চা নষ্ট করার জন্য নানাভাবে চাপ দেয়। কিন্তু ফারজানা রাজি না হওয়ায় নানা অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর।

গত বছরের আগস্টে ঢাকার বারডেমে জন্ম হয় শহীদের মেয়ে আরোহির। হাসপাতাল থেকে নারায়ণগঞ্জ নিজের বাড়ি নয়, মুন্সীগঞ্জে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন শহীদ। কিন্তু ফারজানা রাজি হননি। তিনি নারায়ণগঞ্জে শহীদের বাড়িতেই ওঠেন। আশায় ছিলেন, সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে যদি ভালো হয়ে যাবেন তার স্বামী।

ফারজানার অভিযোগ, দিনে দিনে আরও কঠোর হয়ে ওঠেন শহীদ। অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায় আরো। মানসিক নির্যাতন শুধু নয়, প্রচণ্ড শারীরিক অত্যাচার চলতে থাকে। কথায় কথায় লাথি, ঘুষি সঙ্গে অশ্রাব্য গালাগালি। বারবার ডিভোর্স দেওয়ার হুমকিতো আছেই।

ফারাজানা বলেন, ‘অনেক অত্যাচার সহ্য করেও স্বামীর ঘরে থাকতে চেয়েছিলাম। আমার দুটি সন্তান। আমি কোথায় যাব বলেন? আমি তার জন্য কি না করেছি? তার তো আঙটি দেওয়ারও সামর্থ ছিল না। আমরা তাকে যতটুকু পেরেছি সাহায্য করেছি। কিন্তু টাকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে পাল্টে গেল।

‘আমার চেহারা ততটা ভালো নয়। সে বলে আমার পিছনে এখন সুন্দরী কোটিপতির মেয়ে ঘুরে, তোকে রাখবো কেন? তুই চলে যা। তোর জন্য আমার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। তোকে দেখলে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। আসলে আমাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করার জন্যই সে এরকম করছে।’

স্ত্রী ফারজানার এমন অভিযোগের বিষয় প্রকাশিত হলে, জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের সাথে বেশ কয়েকদফা সময়ের কণ্ঠস্বর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে এসব বিষয়ে এখনি কিছু জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি এই ক্রিকেটার।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে দুই পরিবারের সম্মতির মধ্যদিয়ে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় শহীদ ও ফারজানার। তখন অবশ্য ক্রিকেটের হিসেবে এতটা নাম-ডাক হয়ে ওঠেনি শহীদের। ২০১৪ সালে প্রথম সন্তান আরাফের জন্ম হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালে জাতীয় টেস্ট দলে অভিষেক হয় শহীদের। এরপর খ্যাতি অর্জনের শুরু। যথেস্টই দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এ পর্যন্ত তিনি।

কিন্তু একজন সুনামধন্য খেলোয়ার বা তারকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা যে নিঃসন্দেহে শুধু তার ব্যাক্তিজীবনে নয়! বরং পুরো দেশের জন্য অপুরনীয় ক্ষতির কারন সেটা বলে দেবার অপেক্ষা রাখেনা ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close