শরীর স্বাস্থ্য

চিকনগুনিয়ায় ভয় পাবেন না

আমার সহধর্মিণী একাধারে চিকিৎসা পেশা ও ঘর দুটোই সামলাচ্ছে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই বলল বুকের ডান পাশে ব্যথা। হাত নাড়লেই ব্যথা তীব্রতর হচ্ছে। ওর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই কখন যে ৮-৩০ বেজে গেল টেরই পেলাম না।

নাস্তা না করেই চটজলদি বের হয়ে গেলাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। সকাল ১০.০০ টায় রাউন্ড শুরু করলাম। রাউন্ড এর মাঝেই টের পাচ্ছি মাংসপেশীতে ব্যথা সঙ্গে গিটগুলোতে অস্বাভাবিক রকমের ব্যথা। কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে দুপুর ৩টা। বাসায় ফিরে দেখি শান্তা ১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে আর ব্যথায় ছটফট করছে।

সন্ধ্যা নাগাদ আমিও জ্বরে আক্রান্ত। এমনি আগে কখনও হয়নি যে দু’জন একসঙ্গে অসুস্থ। গত মাসখানিক যাবৎ এই শহর এক আজব জ্বরে আক্রান্ত। চিকুনগুনিয়া জ্বর-এর আদি নিবাস তানজানিয়া। ১৯৫২ সালে প্রথম জ্বরটি আলাদা করা হয়। প্রচণ্ড ব্যথায় আক্রান্ত মানুষটি বেঁকে যায় বলে একে ল্যাংড়া জ্বর বা চিকুনগুনিয়া বলে। জ্বর ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। সঙ্গে তীব্র ব্যথা, বমি ও র্যাশ এই জ্বরের প্রধান লক্ষণ।

ছোট, বড় গুটিগুলো ফুলে যেতে পারে। এডিস মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া দুটি এই জ্বরের বাহক। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড় দেয়। বাংলাদেশের ঢাকা, দোহার, রাজশাহী ও ২০০৪ সালে প্রথম এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে তা ছিল সীমিত আকারে। এবারই প্রথম এপিডেমিক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। শরীরে লালচে র‌্যাশ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। র্যাশ সাধারণত ২য়-৬ষ্ঠ দিনের মাঝে আসে।

আবার দু’দিনের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। রোগ নির্ণয় পদ্ধতিটা চিকিৎসক সাধারণত রোগের লক্ষণ দেখেই করতে পারেন তবে অবশ্যই ডেঙ্গু জ্বরকে পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ দিতে হবে। প্যারাসিটামল দুটো করে তিনবেলা সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ তরল জাতীয় খাবার যেমন ডাবের পানি, লেবুর শরবত, স্যুপ রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য যথেষ্ট।

লেখার শুরুতে আমি নিজে ও শান্তার আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছিলাম। আমি সুস্থ হই ৪-৫ দিন পর আর শান্তা আরও পরে। এই জ্বর নিয়েই চেম্বার করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট হলেও রুগীর সুস্থতার হাসি মনে প্রশান্তি এনেছে।

এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। জ্বর এ আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। জানি এ জাতিকে কেউ কাবু করতে পারবে না। ডেঙ্গু পারেনি, চিকুনগুনিয়াও পারবে না। আবার সুস্থ শরীরে এই শহর জেগে থাকবে।

লেখক: ডা. কাজী শামীম আহমেদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close