Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

নিউ ইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশী কূটনীতিক শাহেদুলের শুনানি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তার মামলায় স্থানীয় সময় বুধবার কুইন্সের ক্রিমিনাল আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম।

গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও মানবপাচারসহ প্রায় ২০টি অভিযোগে অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে বক্তব্য রাখেন। আদালত আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

আগে শাহেদুল ইসলামের পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে একটি মৌখিক আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা। গতকালের শুনানি শেষে আদালত পাসপোর্টের বিষয়ে নতুন করে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেছে। আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এ আবেদন করতে বলা হয়েছে।

গত ১২ জুন গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিউ ইয়র্কের পুলিশ জ্যামাইকা এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১৩ জুন নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে শাহেদুলকে হাজির করা হলে বিচারক ৫০ হাজার ডলারের জামিননামা ধার্য করে তাকে জামিনে মুক্তি দেন।

সেখানে উভয় পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বিচারক ড্যানিয়েল লুইস তার জামিনের জন্য ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলার জমা দেয়ার শর্ত দেন।

একই সঙ্গে বিচারকের সামনে তাৎক্ষণিক তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মার্কিন আদালত তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জব্দ করেছে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সংশোধনাগারে থাকার পর ১৩ জুন সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পান তিনি।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশি কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে।

মামলায় গৃহকর্মী মোহাম্মদ আমিন অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে কাজ করতে তাকে বাধ্য করেছেন শাহেদুল। এ মামলায় ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম বুধবার শুনানির জন্য কুইন্সের ক্রিমিনাল আদালতে হাজিরা দেন। বুধবার কোনো শুনানি হয়নি। বিচারক আগামী ৩ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

ওইদিন উভয় পক্ষের আইনজীবী মামলাসংক্রান্ত স্ব স্ব প্রমাণপত্র উপস্থাপন করবেন। শাহেদুল ইসলামের পক্ষে লড়ছেন নিউ ইয়র্কে প্রখ্যাত আইনজীবী ড্যানিয়েল এন আর্শাক।

জানা গেছে, বাংলাদেশে শাহেদুলের বাড়িতে জন্মগ্রহণকারী ৪৩ বছর বয়সী এ গৃহকর্মী মোহাম্মদ আমিন গত বছরের মে মাসে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংস্থার আশ্রয়ে থেকে শাহেদুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা করেন তিনি।

এদিকে, আদালতের সামনে ন্যায্য বিচারের দাবিতে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামের পক্ষে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইউনাইটেড বাংলাদেশি আমেরিকান ফর শাহেদুল ইসলাম নামে একটি ব্যানার নিয়ে তারা শাহেদুল ইসলামের ন্যায্য বিচার দাবি জানান।

এদিকে কূটনৈতিক শাহেদুল ইসলামকে ডেপুটি কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বতর্মান চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া তিনি সকল কূটনৈতিক সুবিধা পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close