রাজনীতি

মমতাকে পাঠানো আবেগী চিঠির উত্তর না মিললেও দারুন উপকৃত হয়েছেন এরশাদ

রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে পূর্বপুরুষের সম্পত্তি রক্ষায় সেখানকার মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে এক আবেগপুর্ন চিঠিতে আবেদন জানিয়ে ‘উপকৃত’ হয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কুচবিহারের নিজের জন্মভিটা ছেড়ে গেছেন ৭০ বছর আগে। কিন্তু এখনও সেখানকার সাথে তার বন্ধন অটুট রয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই তিনি এখানে তার আত্মীয়দের বাড়িতে ঘুরতে যান। এখানকার সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। শেষবার এখান থেকে ঘুরে আসার পরে তিনি তার আত্মিয়দের কাছে বাড়ি দখলের পায়তারা জানতে পেরে মমতাকে ওই চিঠিটি লিখেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের ওই বাড়িতে এরশাদের দুই চাচাতো ভাই এবং তার পরিবারের সদস্যরা এখনও থাকেন। জানা যায়, সেই বাড়িটি জোর করে দখলের চেষ্টা করে মন্দির তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে পুর্বপুরুষের সম্পত্তি রক্ষায় মমতার হস্তক্ষেপ কামনা করার ফলেই জায়গা দখল করে মন্দির গড়ার উদ্যোগ ভেস্তে গেছে বলে দাবী করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

তবে মমতাকে অনুরোধ জানিয়ে লেখা এই চিঠির কোন উত্তর এখনও পাননি বলেও জানান এরশাদ। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দুর সাথে ফোনালাপের সময় এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু আমার মনে হয় তিনি (মমতা) স্থানীয় প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। কারণ এখন আমার পরিবারকে আর কেউ বিরক্ত করেনা। আমার মনে হয় মন্দির নির্মাণ কাজও স্থগিত করা হয়েছে।

এরশাদের একজন ভাতিজা জাকারিয়া হোসেইন জানিয়েছেন, এই এলাকার প্রভাবশালী লোকজন জমিটি অধিগ্রহণ করতে চায়, যা প্রায় ৭০ ডেসিমেল (৩০ হাজার স্কয়ার ফিট)। স্থানীয় বয়েজ ক্লাবের মাধ্যমে এই লোকগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এর আগে তারা এই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সামান্য কিছু অর্থ দিতে চেয়েছিলো। আমরা তা গ্রহণ করিনি এবং এখনও পরোক্ষভাবে হুমকি পেয়ে আসছি।

জাকারিয়া অভিযোগ করেন, এই ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশ্য এখানে একটা আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা।

এবিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে কুচবিহারের সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। সেই ক্লাবের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সংবাদ মাধ্যমটি।

গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেগপূর্ণ এক চিঠিতে এরশাদ দাবি করেন, কুচবিহার জেলায় তার পরিবারের পূর্বপুুরুষের সম্পত্তি জোড় করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সম্পত্তির অন্তর্গত খোলা মাঠে অবৈধভাবে একটি মন্দির নির্মাণের তোড়জোড় চলছে জানিয়ে তা বন্ধ করতে মমতার সাহায্য চান। জেলার দিনহাটা সাবডিভিশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এরশাদের পূর্বপুরুষের এই সম্পত্তি অবস্থিত।

এরশাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তার পরিবার অসহায়বোধ করছেন বলে চিঠিতে জানিয়েছিলেন এরশাদ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close