আরববিশ্ব জুড়ে

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে কি গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এরকম দাবি করা হলেও একজন উর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এই খবর ভিত্তিহীন।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ ছিলেন সৌদি আরবের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে পাশাপাশি তিনি ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স অর্থাৎ বাদশাহ সালমানের পর তাঁরই পরবর্তী বাদশাহ হওয়ার কথা।

কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাঁর জায়গায় ক্রাউন প্রিন্স করা হয় বাদশাহ সালমানের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ দীর্ঘদিন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর তিনি ছিলেন খুবই আস্থাভাজন। কারণ সৌদি আরবে আল কায়েদার নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ বর্তমান বাদশাহ সালমানের ভাই। কিন্তু গত দুবছর ধরেই সৌদি আরবে এমন কানাঘুষো ছিল যে বাদশাহ সালমানের ছেলে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। বাদশাহ সালমান সমস্ত ক্ষেত্রে তাঁর ছেলেকেই প্রাধান্য দিচ্ছিলেন।

কাজেই বাদশাহ সালমান গত সপ্তাহে যখন হঠাৎ করে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সব গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিলেন, সেটা অনেককে অবাক করলেও একদম অপ্রত্যাশিত ছিল না।

নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের রিপোর্টে বিভিন্ন সৌদি সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করছে, মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সৌদি আরব থেকে বেরুতে দেয়া হচ্ছে না এবং তাঁকে নিজের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানকে পদোন্নতি দিয়ে ক্রাউন প্রিন্স করার পরপরই মোহাম্মদ বিন নায়েফের ওপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঐ ঘোষণার পর পরই মোহাম্মদ বিন নায়েফ তার প্রাসাদে ফিরে আসেন। তিনি দেখেন তার বিশ্বস্ত প্রাসাদ রক্ষীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার জায়গায় প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুগত রক্ষীদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে একজন সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই খবরটি একদম সত্য নয়। প্রিন্স নায়েফ তার বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন করে যাচ্ছেন এবং তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের গতিবিধির ওপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গৃহবন্দী করে রাখার খবরটি সম্পর্কে তারা অবগত কিন্তু এই খবরটি সত্য কিনা সে বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করবে না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close