ভারত জুড়ে

কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে হুশিয়ারী দিলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: কিছুদিন বিরতি দিয়ে গতকদিন ধরে ভারতজুড়ে গো-রক্ষার নামে প্রকাশ্যেই মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা চলছে। এমনকি গো-রক্ষার নামে নৃশংস হত্যা বন্ধে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্পষ্ট হুশিয়ারির পরেও চলছে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা।

মন পরিস্থিতির মুখেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে ‘প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

হিন্দু পরিষদের নেতাকর্মীরা প্রথমে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে জড়ো হন। এরপর সেখান থেকে তাঁরা দলীয় পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দিকে যান। তবে মিছিলটি বেকবাগান মোড়ে যেতেই পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। মিছিলে ভিএইচপি ছাড়াও বজরং দল, বিজেপি ও হিন্দু বৌদ্ধ মন্দির কমিটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের নিষিদ্ধের দাবি তোলেন নেতাকর্মীরা।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পাশাপাশি বজরং দলের নেতা কর্মী এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। কলকাতার বিড়লা মিউজিয়াম থেকে গত শনিবার দলীয় পতাকা, ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে তারা পার্কসার্কাসে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের দিকে এগুতে থাকলে মিশনের সামনেই বেকবাগান মোড়ে মিছিলের পথ আটকায় পুলিশ।

এরপর সেখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুতুল পোড়ায় বিক্ষোভকারীরা। মিছিল থেকে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, হেফাজত ইসলাম-এর মতো ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন বন্ধের দাবি নিয়ে বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য যায় কিন্তু উপ হাইকমিশন বন্ধ থাকায়, তারা স্মারকলিপি জমা দিতে পারেননি।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গের মিডিয়া ইনচার্জ সৌরিশ মুখোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তার প্রতিবাদেই আজকের মিছিল। আমাদের একটাই দাবি, অত্যাচার বন্ধ হোক। হাসিনা সরকারতো সংখ্যালঘু দরদী সরকার বলে পরিচিত।

তিনি বলেন, হাসিনা সরকার আসার পর হিন্দু নির্যাতন বন্ধ হয়নি তা বলব না। কিন্তু আমাদের কাছে যে খবর আসছে তাতে সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া নৈতিক কর্তব্য।

মিছিলে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তাতে হিন্দুদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা মরণপণ লড়াই করে টিকে আছি। প্রতিদিন হিন্দুরা ভারতে চলে আসছেন।

বজরং দলের নেতা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, চাকমাসহ সংখ্যালঘুদের ওপর দিনের পর দিন মুসলিম মৌলবাদের অত্যাচার চলছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদ। এই অত্যাচারে প্রচুর সংখ্যালঘু মানুষকে খুন হতে হচ্ছে অথবা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার সেদেশের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে পারছে না।

আগামী দিনে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হলে বড় আন্দোলনের হুঁসিয়ারি দেন তিনি।

‘বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ’ নিষিদ্ধের দাবি ওলামা লীগের

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক মূর্তি অপসারণ, হেফাজতের ধোয়া তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠ্যপুস্তকে পুনর্বহালকৃত প্রবন্ধ-কবিতা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ নিষিদ্ধ করণ, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগেও বহাল রাখাসহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সমমনা ১৩টি ইসলামী দল রমজান শুরুর প্রাক্কালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৌলবাদী হিন্দুরা এদেশে নির্যাতনের ধোয়া তুলে এদেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে চায়। অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে হিন্দুরা মুসলমানদের চেয়েও বেশী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। গত বাজেটে মুসলমানদের মসজিদের জন্য কোন বরাদ্দ না থাকলেও হিন্দুদের মন্দিরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। মুসলমানরা দুই ঈদের সময় নগদ অর্থ চাল বরাদ্দ না পেলেও গতবছর মণ্ডপ প্রতি ৫০০ কেজি চাল পেয়েছে। তৎসময়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলে সারা দেশে ২৮০০০ হাজার মন্ডপে প্রায় ৭০ কোটি টাকার চাল পেয়েছে। এরকম প্রতি বছরই পাচ্ছে।

ভারতে মুসলমানরা ৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের শত্রু সম্পত্তি ফেরত না পেলেও বাংলাদেশে তারা ৬ লাখ একর শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন সব জায়গায় এখন তাদের আধিপত্য। তারপরও মোসাদের সাথে জড়িত হয়ে মৌলবাদী হিন্দু শিপন বসু, বিবেক দেব’রা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

দাবী সমূহ:

১. আসন্ন মাহে রমাদ্বানের সম্মানার্থে সব ধরনের খেলাধুলাসহ অশ্লীলতা-বেহায়াপনা বন্ধ করতে হবে এবং সব ধরণের পরীক্ষা-ক্লাসসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। গত বছর পূজায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ হলে পবিত্র রমাদ্বান শরীফে পরীক্ষা বন্ধ থাকবেনা কেন?

২. প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী বারবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বলার পরও সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে প্রধান বিচারক কেন মূর্তি অপসারণ করছে না? ১লা রমাদ্বান শরীফ উনার আগে গ্রীক মূর্তি অপসারণ এবং প্রধান বিচারককে পদত্যাগ করতে হবে। এবারে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ শেষে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাযে মুসল্লীরা যাবে না। আর তারপরেও যদি মূর্তি রাখা হয় এবং কোনো মুনাফিক নামায পড়ায় তবে সে হবে চিহ্নিত মুরতাদ। তাকে দেশের আলেম সমাজ এবং মুছুল্লী শুধু অবাঞ্চিত ঘোষণাই করবেনা বরং ধর্মবিকৃত করার কারণে তার ফাঁসী দাবী করবে।

৩. রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে যখন আপীল বিভাগে মামলা চলছে, তখন “রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না” প্রধান বিচারকের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। ৯৮ভাগ মুসলমান জনগোষ্ঠীর দেশে সুপ্রিমকোর্টে মূর্তিস্থাপনকারী প্রধান বিচারকের অবিলম্বে অপসারণ চাই।

৪. হেফাজতের নাম দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠ্যপুস্তকে সংশোধিত প্রবন্ধ, কবিতা প্রত্যাহার করা মেনে নেয়া হবে না এবং মুসলমানিত্ব তুলে দিয়ে পুনরায় হিন্দুত্ববাদ ঢুকানোর চক্রান্ত দেশবাসী মুসলমান কখনো মেনে নিবে না। শিক্ষাবিদ নামধারী নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদীদের চক্রান্তে দেশবাসী মুসলমানদের ক্ষেপানোর, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে বহাল থাকা হিন্দুত্ববাদসহ পবিত্র দ্বীন ইসলামবিরোধী সমস্ত কুফরী বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। পাঠ্যবইয়ে সাধারণ বানানের ভুল সংশোধনী দেয়া হলে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে ভুল সংশোধন করা হলো না কেন?

৫. অবিলম্বে কট্টর সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও গভীর উগ্রবাদী সংগঠন “বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ” নিষিদ্ধ করতে হবে।

৬. পহেলা বৈশাখে অমঙ্গলপূজা করার কারণে বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি স্থাপনের কারণে এবং মুশরিকদের অযাচিত প্রাধান্য দেয়ার কারণে বিভিন্ন খোদায়ী গজবরূপে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নামছে। এ সব খোদায়ী গজব থেকে বাঁচতে তওবা করতে হবে এবং আগামী বছর থেকে আর বৈশাখী পূজা বা অমঙ্গলপূজা করা যাবে না। হাওড় অঞ্চলের দুর্গত জনসাধারণের জন্য পবিত্র রমাদ্বান শরীফে ইফতার ও সেহরীর জন্য বিশেষ বরাদ্দসহ আগামী ফসল তোলার পূর্ব পর্যন্ত ত্রাণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। মূর্তি বানিয়ে অপচয় না করে সেই টাকা দুর্যোগআক্রান্ত হাওরবাসীকে দিতে হবে।

৭. পবিত্র রমজানে অসহনীয় যানজট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থদের ভর্তুকি দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যে কারসাজীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। দেশের বিভাগগুলো প্রদেশ করতে হবে।

৮. পবিত্র রমজানে সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদে মসজিদে ইফতারী দিতে হবে। ইফতারের সময় যানজটে আটকে পড়াদের ইফতারী দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারীভাবে বিত্তশালী ব্যক্তি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার জন্য সরকারকেই উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে হবে।

৯. পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে সাহরী ও ইফতারসহ সারা মাস নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ঈদের ছুটি ১০ দিন করতে হবে। ঈদকে পূজি করে বিশ হাজার কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। পবিত্র রমজানের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার্থে ভারতীয় টিভি চ্যানেল, সিনেমা-নাটক, পর্নোগ্রাফী, অশ্লীলতা, খেলাধুলা ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে।

১১. যাকাতের নামে লোক দেখানো ঘোষণা ও ভীড়, নি¤œমানের কাপড় বা আলাদা কাপড় নিষিদ্ধ করতে হবে। ইনকাম ট্যাক্সের পরিবর্তে যাকাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করে বর্তমান উন্নয়ন বাজেটের চেয়েও বেশী, প্রায় দেড় লক্ষাধিক কোটি টাকা আয়ের সুফল দেশবাসীকে দিতে হবে।

১২. শুধু বনানীর সম্ভ্রমহরণের বিচার করলে হবে না, অন্যান্য সবগুলোরও বিচার করতে হবে। সম্প্রতি কক্সবাজারে মাদ্রাসা ছাত্রী সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটেছে তারও বিচার করতে হবে। সম্ভ্রমহরণ-খুন ইত্যাদি অপরাধ হ্রাসে ইসলামী আদর্শ সম্বলিত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close