ভারত জুড়ে

অদ্ভুত বিশ্বাসে অভাব ঘুচানোর আশায় নিজের বৃদ্ধ পিতামাতাকেই বানানো হচ্ছে বাঘের খাবার

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ঘরের কেউ বাঘের খাবার হলে বিফলে যাবেনা! বরং নাকি মিলবে সরকারী ক্ষতিপূরণ, ঘুচে যাচে দারীদ্রতা!

মন বিশ্বাসের মানুষও আছে এই চেনা জানা পৃথিবীতে! কি ভাবছেন তার আদিবাসী অথবা পুরোনো ধ্যান ধারনা কোন জনগোষ্ঠী ? নাহ এরা ডিজিটাল ভারতের অধিবাসী।

প্রতিবেশি দেশ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পিলভিত জেলায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাদের কারো কারো মতে, এভাবে করে সংসার থেকেও দূর হবে বুড়োকে বয়ে বেড়ানোর মতো আপদ এই ভেবেই নাকি জন্মদাতা আর গর্ভধারিণীকেই তারা ঠেলে দিচ্ছে এই প্রাণসংহারী বিপদে। এদের মধ্যে কেও আবার নাকি স্থানীয় তান্ত্রিকেদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে জেনেছেন, পরিবারের কাউকে বাঘের আহার করলেই ঘুচবে দারীদ্রতা।

আজ মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পিলভিতে একটি বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প (পিটিআর) রয়েছে।

সম্প্রতি এখানে পাশের গ্রামের বেশ কয়েকজন বৃদ্ধ ব্যক্তি বাঘের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন।

পিলভিত বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানমতে, পরিবারের সদস্যরাই বৃদ্ধ ব্যক্তিদের কৌশলে এনে বাঘের মুখে তুলে দিচ্ছে। পরে দেহাবশেষ সংরক্ষণ প্রকল্পের বাইরে সরিয়ে নিয়ে সরকারের কাছে লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। সংরক্ষণ প্রকল্পের ভেতরে বাঘের হামলায় কারও মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মালা ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকায় বাঘের হামলায় দুই নারীসহ সাতজন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেছে বেছে বৃদ্ধ ব্যক্তিরাই কেন বাঘের হামলার শিকার হচ্ছেন—তা নিয়ে তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (ডব্লিউসিসিবি)।

ডব্লিউসিসিবির সদস্য কলিম আতহার ঘটনা পর্যালোচনা করে বলেন, বৃদ্ধ ব্যক্তিদের মৃতদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে বাঘের হামলা হয়নি। বাঘের হামলায় মৃত্যুর পর ক্ষতবিক্ষত দেহ পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তিনি জমা দিয়েছেন।

কলিম আতহার বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপক পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ব্যুরো কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটি জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রেস রিডারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কলিম আতহার এ ঘটনা তদন্তে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

কলিম আতহার বলেন, ‘পাশের বিথাউরা খুর্দ গ্রামের ৫৮ বছর বয়সী এক নারী আমাকে বলেছেন, দুই ছেলে তাঁকে গভীর বনের ভেতর নিয়ে যেতে চায়, যাতে বাঘের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ওই দুই ছেলে ফন্দি আঁটেন, মৃত্যুর পর মায়ের দেহ টেনে নিজেদের জমির পাশে রেখে সরকারের কাছে পাঁচ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ চাইবেন। তাঁরা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া অর্থের ভাগ দেওয়ার শর্তে গ্রামপ্রধানেরও সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

স্থানীয় লোকজনেরও দাবি, পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় এমন কাণ্ড করছেন।

পিলভিত বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পাশের গ্রামের কৃষক জারনাইল সিং (৬০) বলেন, তাঁদের (বয়স্ক ব্যক্তি) ধারণা, তাঁরা পরিবারের কোনো কাজে আসছেন না। বোঝা হয়ে আছেন। পরিবারকে অভাব থেকে মুক্তি দিতে এটাই তাঁদের একমাত্র উপায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ৫৫ বছর বয়সী এক নারী তাঁর খেতের পাশে বাঘের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সোমবার বনের সংরক্ষক ভি কে সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ অভিযোগ নাকচ করেন।

তিনি জানিয়েছেন, ওই নারীর পোশাকের অংশ দেখে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তিনি খেতের পাশে নয়, বরং বনের দেড় কিলোমিটারের ভেতরেই মারা গেছেন। এছাড়া ট্রাক্টরের দাগ দেখে বোঝা গেছে যে তাঁর মৃতদেহ জঙ্গল থেকে নিয়ে এসে খেতের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close