ইউরোপ জুড়ে

মেলানিয়া-পুতিন পাশাপাশি কিন্তু ট্রাম্প বসেছিলেন বিপরীতে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: একেই বলে ডিনার ডিপ্লোম্যাসি বা নৈশভোজের কূটনীতি। জি-২০ সম্মেলেনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দীর্ঘ ও অম্ল-মধুর আলোচনার পর শুক্রবার রাতে দেখা গেল অন্য চিত্র।

নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাম পাশের সিটে গিয়ে বসলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আর তার স্বামী ডনাল্ড ট্রাম্প বসলেন তাদের থেকে অনেক দূরে। তাও টেবিলের ঠিক উল্টো পাশে।

অন্য রাষ্ট্রপ্রধানরা বেশির ভাগই তাদের জীবনসঙ্গীকে পাশে বসিয়ে নৈশভোজ সারলেও ট্রাম্প করলেন তার উল্টো।

তিনি ফার্স্টলেডিকে ছেড়ে দিয়ে টেবিলের উল্টো দিকে বসলেন আর্জেন্টিনার ফার্স্টলেডির ডানপাশে। একে ডিনার ডিপ্লোম্যাসি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল।

এতে বলা হয়েছে, প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পুতিন ডিনারের টেবিলে বসলেন। পুতিন বসলেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার পাশে। শুক্রবার প্রথমবারের মতো পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত হলো ট্রাম্প ও মেলানিয়ার।

এরপরই হামবুর্গে জি-২০ নেতাদের নৈশভোজে তারা ফের একত্রিত হলেন। সেখানে মেলানিয়াকে পাশে পেয়ে খোশগল্পে মেতে ওঠেন ট্রাম্প।

ডেইলি মেইল যে ছবি প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, পুতিন কৌতুহল ভরা চোখে তাকিয়ে আছেন মেলানিয়ার দিকে। তার সঙ্গে কথা বলছেন। পিছনে দাঁড়ানো ওয়েটার। তিনি অর্ডার নেয়ার জন্য সম্ভবত অপেক্ষা করছেন। পুতিন-মেলানিয়া হয়তো কি খাবেন অথবা কুশল বিনিময় করছিলেন। এ সময় দু’জনকেই দেখা গেছে হাস্যোজ্বল।

ওই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেখা গেছে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের কাছাকাছি। তিনি বসেছেন আর্জেন্টিনার ফার্স্টলেডির পাশে। তার সঙ্গে তিনিও খোশগল্পে মেতে উঠেছেন।

ওই নৈশভোজের অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় কনসার্ট। ফলে এ সময় বেশির ভাগ রাষ্ট্রপ্রধান তাদের স্বামী বা স্ত্রী থেকে আলাদা আলাদা বসেন। এ জন্যই পুতিনের পাশে বসেন মেলানিয়া ট্রাম্প।

তবে মেলানিয়া কেন পুতিনকে বেছে নিয়েছেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা। বলা হচ্ছে, এটা কূটনীতির একটি চাল। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি বেড়ে উঠেছেন স্লোভেনিয়ায়। তিনি জার্মান সহ বেশ কতগুলো ভাষা জানেন, যেগুলোতে পারদর্শী ভ্লাদিমির পুতিনও।

ফলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আলোচনা চালিয়ে যান। দু’জনেই জার্মান ভাষায় কথা বলেন। ওদিকে শুক্রবার দিনের শুরুতে মেলানিয়া ট্রাম্প ভূয়সী প্রশংসা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের। এ সময় তারা দু’জনে করমর্দন করেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close