অন্য পত্রিকা থেকে

সিলেটে সিটি করপোরেশন নির্বাচন: সরব আ.লীগ নীরব বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: সিটি করপোরেশনের ভোট দেখে জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ছক নির্ধারণের কৌশল নেওয়ায় সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীরা। নির্বাচনী গণসংযোগের মতো করে বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সবখানেই তাঁদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে । তাঁদের সমর্থন জানিয়ে এবং নগরবাসীর দোয়া চেয়ে বিলবোর্ড-ফেস্টুনও লাগানো হয়েছে। তবে এ প্রচারণায় যতটা সরব আওয়ামী লীগ, ঠিক ততটাই নীরব বিএনপি।

২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী আগামী বছরের জুন মাসে সিটি করপোরেশনের বর্তমানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ কারণে আগাম প্রচারণায় অনেকেই গণসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুজন নেতা বলেছেন, এ প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, আসল উদ্দেশ্য দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে সাধ্যমতো প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় থাকতে চাইছেন।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে সিলেটে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে কামরান ঢাকা থেকে ফিরেই গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। গত নির্বাচনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন কামরান।

তবে কামরানের দলীয় সবুজ সংকেতপ্রাপ্তির বিষয়টি মানতে নারাজ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো অনেক বাকি। এত আগে প্রার্থিতা নিশ্চিতের যে তথ্যটি প্রচার পাচ্ছে, এটি রহস্যজনক। আমি নিজেও একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। কয়েক বছর ধরে এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন—সব জায়গা থেকেই সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসুক। তখন মনোনয়ন চাইব। এরপর দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা মাথা পেতে নেব। তবে আমিও মনোনয়নপ্রত্যাশী, প্রচারণায় আছি।’

আসাদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ। রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও সিলেট-১ (সদর) আসনের সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এরই মধ্যে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একাধিক বিলবোর্ড টানিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব মাহি বলেন, মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই তাঁকে অনুরোধ করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তিনি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সিলেটে ফিরে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান তাঁর প্রচারণায় শেখ হাসিনার নির্দেশ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন বলে জানিয়েছেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সমর্থক কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁরা বলেন, গত মঙ্গলবার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোটাটিকর, পূর্বপাড়া, গঙ্গানগর, দক্ষিণ কুশিঘাটসহ কিছু এলাকায় গণসংযোগের মধ্য দিয়ে কামরান আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন।

জানতে চাইলে, বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রী আমাকে মাঠে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আমি বিগত নির্বাচনে পরাজিত হলেও একদিনের জন্য নগরবাসীকে ছেড়ে যাইনি, সবসময়ই তাদের পাশে ছিলাম। এখন নেত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সব পর্যায়ের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি।’

এদিকে আওয়ামী লীগের এমন প্রচারণার বিপরীতে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে মেয়র পদে প্রার্থীর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বিএনপির কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী দোয়া চেয়ে নগরবাসীর কাছে ঘুরছেন। বিগত নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন। তিনি বলেন, ‘দল এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দল নির্বাচনে গেলে আমি মনোনয়ন চাইব। গত নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, সেবার আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছিল। এবারও মহানগরের সভাপতি হিসেবে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা আমাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। তবে দলীয় চেয়ারপারসন যাঁকেই যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই মনোনয়ন দেবেন।’

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে আগাম কোনো কথা বলতে চান না সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক। তিনি জানান, ‘এই মুহূর্তে মেয়র হিসেবে নগরবাসীর সেবা করে যাচ্ছি, এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময়ই নগরবাসীর সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নগরবাসীও আমার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের সময় আসুক, তখন দেখা যাবে। এর বাইরে আপাতত আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close