ইউরোপ জুড়ে

স্কাফ পরা নারীকে নিষিদ্ধ করলেন জার্মানির আদালত

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: হেড স্কার্ফ বা হিজাব পরিহিত এক মুসলিম নারীকে আদালতে নিষিদ্ধ করেছেন জার্মানির একজন বিচারক। আইনি পরামর্শকরা একে বর্ণবাদ বলে অভিযুক্ত করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

এতে বলা হয়, জার্মানির ব্রান্ডেনবার্গে লুকেনওয়াল্ডেতে অবস্থিত ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সিরিয়ার ওই নারীর বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে শুনানি ছিল। কিন্তু আদালতে তাকে মাথায় স্কার্ফ পরে যেতে বারণ করে একটি চিঠি দিয়েছেন ওই বিচারক। তিনি বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকা- নিষিদ্ধ। এসব বলেছেন ওই নারীর পক্ষে আইনী লড়াই করা আইনজীবী নাহাত আবোকাল।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আমার মক্কেলকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে তিনি যদি নির্দেশ না মেনে চলেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি তাকে স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের শুনানিতে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাহাত আবোকাল অভিযোগ করেছেন ওই বিচারক অসাংবিধানিক কাজ করেছেন।

তিনি বলেছেন, জার্মানিতে ইসলামিক পোশাক নিয়ে তীব্র বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি বিচারকের এ নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার এক সহকর্মী। তবে জানিয়ে দিয়েছেন যেহেতু মামলাটি বিচারাধীন তাই এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেয়া হবে না। লুকেনওয়াল্ডের ওই কোর্টের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আদালত কক্ষে কি হবে তার দায় দায়িত্ব বিচারকের। উল্লেখ্য, বুরকা ও ইসলামী অন্য পোশাক যেমন সারা মুখ ঢেকে থাকে এমন পোশাক আংশিক বন্ধ করার পক্ষে এর আগে ভোট দিয়েছে জার্মান পার্লামেন্ট। তাছাড়া ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভাব প্রকাশ করে এমন কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার আইন রয়েছে। সেটা ব্যবহার করতে পারেন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।

তবে আইনী প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রত্যক্ষদর্শী, অভিযোগকারী, নির্যাতিত ব্যক্তি বা অন্য কারো তাকে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হয় না। ২০০৬ সালে ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট একটি রায় দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী যদি মাথায় স্কার্ফ পরে আসেন তাহলে তাকে বের করে দেয়ার কোনো অধিকার নেই একজন বিচারকের।

এ জন্য বন-এর ফ্রিড্রিচ-ইউলহেম ইউনিভার্সিটির আইনের একজন প্রফেসর ক্লাউস এফ গার্ডিজ বলেছেন, সিরিয়ার ওই নারীকে যে চিছি দেয়া হয়েছে তাতে তাকে অবমাননা করা হয়েছে। তার ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি ওই বিচারককে প্রাদেশিক বর্ণবাদী ও যৌনতার আওতায় অভিযুক্ত করেছেন। তিনি লিগ্যাল ট্রিবিউন অনলাইনে লিখেছেন, তার নির্দেশের শিকার হবেন শুধু নারীরাই।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close