ভারত জুড়ে

প্রেসিডেন্টের ভাষণ নিয়ে ভারতের লোকসভায় হট্টগোল

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ভারতের নতুন প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বক্তব্য নিয়ে রাজ্যসভায় তীব্র হট্টগোল হয়েছে। প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয় কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। এক পর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। এ ঘটনা ঘটেছে আজ বুধবার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

এতে বলা হয়, দায়িত্ব নিয়ে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে প্রথম বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ। এতে তিনি মহাত্মা গান্ধীকে বিজেপির আদর্শ দীন দয়াল উপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু তিনি বক্তব্যে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহার লাল নেহরুর নাম উল্লেখ না করায় তার তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পরই তিনি প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

আনন্দ শর্মা বলেন, দীন দয়াল কখনো স্বাধীনতা যোদ্ধা ছিলেন না। এমনকি জাতি গঠনে তার কোনোই ভূমিকা ছিল না। তবে তাকে স্মরণ করার সব রকম অধিকার আছে বিজেপির। কিন্তু তারা তাকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, নরেন্দ্র মোদির সরকার উপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করছে বিজ্ঞাপনে, প্রচারণায়। এটা হওয়া উচিত নয়। এক পর্যায়ে আনন্দ শর্মা প্রশ্ন রাখেন কেন প্রেসিডেন্ট কোবিন্দ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহার লাল নেহরু ও তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর নাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না। তার ভাষায়- তিনি (প্রেসিডেন্ট) নেহরুর নাম নেন নি।

এর মধ্য দিয়ে তিনি তাকে অসম্মান করেছেন। নেহরু ছিলেন দেশের স্বাধীনতা যোদ্ধা, আবার প্রথম প্রধানমন্ত্রীও। দেশ ও সমাজ জাতির প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি সম্মান জানান। এটাই তো ভারতের সংস্কৃতি। দেশে সর্বোচ্চ মর্যাদা রয়েছে গান্ধীর। তার সঙ্গে জওয়াহার লাল নেহরু জেলে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসে নেতা গোলাম নবী আজাদও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, তিনি (কোবিন্দ) তার বক্তব্যে ওই সময়কার দু’জন মন্ত্রীর নাম (প্যাটেল ও আম্বেদকর) নিয়েছেন। কিন্তু তিনি নেহরুর নাম উচ্চারণ করেন নি। তিনি এখন বিজেপির প্রেসিডেন্ট নন। তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট।

এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও লোকসভা নেতা অরুণ জেটলি এবং কংগ্রেস এমপি আনন্দ শর্মার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়।

অরুণ জেটলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। এ সময় তিনি রাজ্যসভার রেকর্ড থেকে আনন্দ শর্মার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেয়ার দাবি তোলেন।

তিনি বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একজন সদস্য কিভাবে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে অধিবেশন অল্প সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close