অন্যকিছু

হিংস্রতম প্রাণী ভয়ংকর হায়েনাদের সাথে মুসলিম তরুনের অবিশ্বাস্য ঘর বাঁধা

অন্যকিছু ডেস্ক: হায়েনার শরীর বিশ্রী গন্ধময়, যা অনেক মানুষের কাছেই প্রায় অসহ্য। অনেকের মতে, এ প্রাণী নিশাচর। তবে দিন ও রাতে কার্যক্ষম থাকতে পারে। রাতে এটি প্রায় পাগলের মতো চিৎকার করে, যা শুনে অনেকে ভয় পান।

তবে এই ভয়কে জয় করে দুনিয়াজোড়া তাক লাগিয়েছেন আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার প্রাচীন শহর হারার এর এক মুসলিম তরুণ আব্বাস ইউসুফ। তবে স্থানীয়রা তাকে চেনেন হায়না মানব হিসেবেই।

কারণ গত ১৩ বছর ধরে তিনি প্রতি রাতেই হায়নাদের খাবার খাওয়ান। অভ্যাস মতো পৃথিবীর এই হিংস্রতম প্রাণীর একটি দল খাবার খেতে আসে আব্বাস ইউসুফের কাছে।

শুধু তাই নয় তার শোবার ঘরেও হায়না থাকে প্রতি রাতে। খেতে আসা হায়নাগুলোর একটি করে নামও দিয়েছেন তিনি। দাবোচ্চি বা চুলো বলে ডাকলেই দলের লোমশ হায়নাটি ছুটে আসে তার কাছে।

তুকান দিল্লি নামে ডাকলেই সবচেয়ে অলস হায়নাটি হেলে দুলে সময় নিয়ে আসে ইউসুফের কাছে। আর কোয়ান্না নামে ডাকলে চামড়া ওঠা বয়স্ক হায়নাটি সাড়া দেয় ইউসুফের ডাকে। তারপর আব্বাসের মুখ থেকেই মাংসের টুকরো খেয়ে যায় তারা।

আব্বাস ইউসুফ জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে তার বাবা ইউসুফ মুমে সালেহ হায়নাদের খাবার খাওয়ানো শুরু করেন। এরপর থেকেই প্রতি রাতে তার দল বেঁধে আসে শহরের ওই নির্ধারিত স্থানে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, এভাবে হায়েনাদের খাওয়ার ফলে ওই শহরের কেউই আর হায়েনার আক্রমনের শিকার হন না। বরং হায়েনাগুলো এখন শহরের বাসন্দাদের সঙ্গে পোষা কুকুর কিংবা বেড়ালের মতোই আচরণ করে। খাবার খাওয়ানোর সময় তারা ইউসুফের ঘাড়ে, কোলে উঠে বসে।

আব্বাস ইউসুফ বলেন, কেউ যদি হায়নার বাচ্চাদের কোনো ক্ষতি না করে তবে তারা সহিংস হয়না। মানুষের কোনো ক্ষতি তারা করে না।

হায়নাকে নিয়মিত খাওয়ানোর বিষয়টিকে ইউসুফ দেখেন ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা হিসেবে। তার মতে ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হায়নার সঙ্গে তার পরিবারের বন্ধুত্ব হয়েছে।

এদিকে ইথিওপিয়ার ওই শহরের প্রাচীন মসজিদ দেখতে আসা পর্যটকদের কাছে এখন অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউসুফের হায়নাকে খাওয়ানোর দৃশ্য। অনেক পর্যটক সাহস নিয়ে তার সঙ্গে খেতে দিচ্ছেন বুনো জন্তুগুলোকে।

আব্বাস জানান, তার শোবার ঘরে একটি বাচ্ছা হায়না প্রতি রাতেই তার সঙ্গে থাকে। তবে সেটি কখনও তাকে কামড়ে দেয় না বা তিনিও কামড় খাওয়ার ভয় পান না।

জেনে নেয়া যাক হায়েনা সম্পর্কে কিছু তথ্য

এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হায়েনার দেখামেলে । এটি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। হায়েনা দলবদ্ধতা ও সাহসিকতা দিয়ে বাঘকে পরাস্ত করতে পারে। হায়েনা মাংসাশী, শিকার করে খায়। পচা-গলিত মাংস বেশ পছন্দ করে। অনেক সময় এটি বাঘ ও সিংহের শিকার করে খাওয়া প্রাণীর পরিত্যক্ত অংশ বেশ মজা করে খেতেও দ্বিধা করে না।

হায়েনা খুব সাহসী প্রাণী। এদের চোয়াল ও থাবা খুব শক্তিশালী। দাঁত ধারাল। শিকারে পটু। হায়েনা দলবদ্ধতা ও সাহসিকতা দিয়ে বাঘকে পরাস্ত করতে পারে।

লেজসহ একটি হায়েনা প্রায় ৬ দশমিক ৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। লেজের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ১ ফুট আর উচ্চতা প্রায় আড়াই ফুট।

একটি হায়েনা প্রায় ৮০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের হতে পারে।

এ প্রাণী প্রায়ই মানুষকে আক্রমণ করে এবং শিশুদের বহন করে নিয়ে যায়।

বিভিন্ন ধরনের হায়েনা রয়েছে। তুরস্ক, ইরান, ভারতীয় উপমহাদেশ ও উত্তর আফ্রিকার হায়েনার দেহে ডোরাকাটার দাগ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হায়েনার দেহ পিঙ্গল বর্ণের।

হায়েনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সামনের দুই পা পেছনের দুই পায়ের চেয়ে লম্বা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close