Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুতিনের হুঁশিয়ারি: নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করা হলে প্রতিশোধ নিবে রাশিয়া

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ধৃষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি প্রতিশ্রুতি করেছেন, রাশিয়ার ওপর আরোপ করার জন্য প্রস্তাবিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো আইনে পরিণত করা হলে, এর প্রতিশোধ নেবে রাশিয়া। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা মঙ্গলবার নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ নিয়ে ভোটদান করেন। তার মধ্যে, বিলটি পাশের পক্ষে ভোট দেন প্রতিনিধি পরিষদের ৪১৯ সদস্য ও বিপক্ষে ভোট দেন তিনজন। এই নিষেধাজ্ঞা বিল অনুসারে রাশিয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপরেও।

বৃহস্পতিবার সিনেট থেকে বিশাল ব্যবধানে পাশ হয় এই বিল। বৃহস্পতিবার, হোয়াইট হাউজের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও৯৮-২ ভোটে পাশ হয় বিলটি। এখন বিলটি যাবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে, স্বাক্ষরিত হওয়ার জন্যে। ট্রাম্প যদি বিলটিতে স্বাক্ষর না করেন, তাহলে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।

ইতিমধ্যেই তার প্রশাসন রাশিয়াকে নিয়ে কেলেঙ্গারিতে জড়িয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হতে ট্রাম্পকে সহায়তা করেছে রাশিয়া। প্রসঙ্গত, এ বছরের জি-২০ বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে দুইবার বৈঠকে বসেছেন ট্রাম্প।

এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, আমরা খুবই সংযত ও সহিষ্ণু আচরণ করছি। কিন্তু কোন না কোন মুহূর্তে আমাদেরকে পাল্টা জবাব দিতেই হবে।

নিষেধাজ্ঞাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রতি এই অশেষ ঔদ্ধত আচরণ সহ্য করা সম্ভব নয়। এই চর্চা অগ্রহণযোগ্য- এটা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আইন ধ্বংস করে দেয়। রাশিয়া কি ধরণের জবাব দিবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি পুতিন।

তবে স্থানীয় পত্রিকা কমার্সান্ট দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব হিসবে রাশিয়া থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বহিষ্কার, কূটনৈতিক সম্পত্তি জব্দ করা, রাশিয়ায় কর্মরত মার্কিন কোম্পানীগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কড়া করা ও মার্কিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের চালান পাঠানো বন্ধ করে দেওয়াসহ বেশ কিছু ব্যবস্থার কথা চিন্তা করছে মস্কো।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার শাসনামলের শেষের দিক দিয়ে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ জন রাশিয়ান কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও দু’টি রাশিয়ান কূটনৈতিক স্থাপনা জব্দ করার নির্দেশ দেন। অস্বাভাবিকভাবে রাশিয়া ওবামার এই পদক্ষেপের জবাবে সঙ্গে সঙ্গে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসলে ওবামার পদক্ষেপের পরিবর্তন করা হবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি রাশিয়া। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসলেও তেমনটি ঘটেনি।

এছাড়া রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেছেন যে, বরখাস্ত কুটনীতিকদের প্রতিস্থাপন করতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নতুন কূটনীতিকদের পাঠাতে চাইলে গত কয়েকদিন ধরে তাদের ভিসার অনুমোদন দিচ্ছেনা মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, এই নীতিমালায় পরিবর্তন না আসলে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ আরোপের ফল ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিলটিকে আইনে পরিণত করতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের প্রচেষ্টাকে ঔদ্ধত্য বিবেচনা করেছেন তিনি। হুমকি দিয়েছেন প্রতিশোধ নেওয়ার।

বিলটিকে আইনে পরিণত করতে সিনেটের ভোটাভুটির কিছু আগে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন পুতিন। তিনি বলেন, আমরা খুব সংযত ও সহিষ্ণু আচরণ করছি, কিন্তু কখনও কখনও আমাদেরকে জবাব দিতে হবে।

সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, আমাদের দেশের প্রতি এ ধরনের ঔদ্ধত্যকে অবিরাম সহ্য করে যাওয়া অসম্ভব। এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য-এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আইনকে ধ্বংস করে দেয়। বিলটি এরইমধ্যে বিপুল ভোটে সিনেটে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপের প্রস্তাবটি ৯৮-২ ভোটে পাস হয়েছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষেও বিপুল সমর্থন নিয়ে বিলটি পাস হয়েছিল। এটিকে আইনে পরিণত করতে এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, আইনটি প্রণিত হলে রাশিয়া কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট করে বলেননি পুতিন।

দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে রুশ সংবাদপত্র কোমারস্যান্ট জানিয়েছে, মার্কিন কূটনীতিকদের বহিষ্কার, কূটনৈতিক সম্পদ জব্দ, রাশিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ আসতে পারে।

এদিকে সিনেটে বিলটি পাসের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। স্বাক্ষর করার বদলে বিলটিতে ট্রাম্পের ভেটো প্রদানের ক্ষমতাও রয়েছে।

তবে সেই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের পর আবারও মার্কিন সিনেট দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের মধ্য দিয়ে ভেটো প্রত্যাখ্যান করতে পারে। ২ জন সদস্য কেবল বিলটির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাই ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা কাজে আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close