অন্য পত্রিকা থেকে

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার: তিন দিকেই সীমানা প্রাচীর নেই

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নতুন ভবন বুঝে নেওয়ার এক বছর পরও তিন দিকের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। এ অবস্থায় কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বছরের এপ্রিলে কারাগারের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর ২৯ জুলাই পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড থেকে বন্দীদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন, কারারক্ষী ব্যারাক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টারের পেছনের দিকে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশসহ তিন দিকে তা নেই। সীমানাপ্রাচীর না থাকা স্থানে খুঁটি গেড়ে রাখা হয়েছে। তবে খুঁটির ওপরের দিকে কাঁটাতার থাকলেও নিচের অংশ ফাঁকা। কারাগারের প্রধান ফটক নির্মাণ করা হয়নি। সেখানে অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে কারারক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

কারাগারের একাধিক ডেপুটি জেলার বলেন, কাঁটাতারের ফাঁক গলে যে কেউ ঢুকে পড়ছে কারাগারের আঙিনায়। বলতে হয়, কারাগারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। অথচ কারাগার উদ্বোধনের আগেই সীমানাপ্রাচীর সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সম্প্রতি বলেন, সীমানাপ্রাচীর না থাকায় কারাগারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এটা সত্য। স্বরাষ্ট্রসচিব গণপূর্ত বিভাগকে বলেছেন, তারা ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে বাইরের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় সাত দফা

৪০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১১ সালের জুনে এটি শেষ হওয়ার কথা। এখন অষ্টম দফা মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্প শেষ করার সময় ঠিক করা হয়েছে ২০২০ সাল। এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফাঁকে ফাঁকে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। সর্বশেষ ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৮১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শামসুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাড়তি ৭৫ কোটি টাকার এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

কারাগার সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার প্রকল্পের মধ্যে একটি মহিলা কারাগার ভবন, ২০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি এখনো হয়নি। প্রকল্পের অধীনে থাকা অন্য যেসব স্থাপনা এখনো নির্মাণ হয়নি তার মধ্যে আছে দুটি কারারক্ষী ব্যারাক (একটি পুরুষ, অন্যটি মহিলা), স্কুল, অফিসার্স ক্লাব, ভূগর্ভস্থ জলাধার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মিলনায়তন, কারাগারের বাইরে সুবিধাজনক স্থানে পুকুর খনন, প্যারেড মাঠ, দর্শক গ্যালারি, গাড়ি রাখার গ্যারেজ প্রভৃতি। কারাগার স্থানান্তরের আগেই এখানে এসব নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close