আরববিশ্ব জুড়ে

কাতারিদের হজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে সৌদি আরব

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: কাতারিদের হজ পালনে সৌদি আরব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে কাতার। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরব কাতারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে উপসাগরের গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সৌদ আরবের পবিত্র স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিকীকরণের দাবি জানিয়েছে কাতার।

যাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি আরব। একে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও কাতার জানিয়েছে, তারা এমন কিছু বলেনি। পুরো দাবিটি গণমাধ্যমের তৈরি।

গত জুন মাসের ৫ তারিখে সৌদি আরবসহ কয়েকটি মিত্র দেশ কাতারকে বয়কট করে। কাতারের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সখ্য এবং জঙ্গি দলগুলোকে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এটিই হলো ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সংকট।

এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে গত ২০ জুলাই কাতার সৌদি আরবকে জানায়, তাদের নাগরিকরা হজে যেতে চায়। সৌদি আরব বিষয়টি মেনে নিলেও বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেয়।

এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে গত ২০ জুলাই কাতার সৌদি আরবকে জানায়, তাদের নাগরিকরা হজে যেতে চায়। সৌদি আরব বিষয়টি মেনে নিলেও বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেয়।

তারা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এমন এয়ারলাইনসে করে কাতারিদের সৌদি আরবে পৌঁছতে হবে। জেদ্দা বা মদিনায় পৌঁছানোর পর তাদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হবে এবং সৌদি আরবে এই দুটি শহর ছাড়া আর কোনো শহরে কাতারিরা নামতে পারবে না।

কাতারের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের নিরাপত্তা এবং হজের অন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হজ। তা পালনের বিষয়টি নিয়েও সৌদি আরব রাজনীতি করছে। ফলে বাধ্যতামূলক এই আমলটি হয়তো অনেক মুসলমানই পালন করতে পারবে না।

জানা গেছে, এ বছর ২০ হাজার কাতারি নাগরিককে হজ করার অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। হাজিদের নিবন্ধনও হয়ে গেছে।

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া উদ্ধৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর বলেছেন, পবিত্র স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিকীকরণের কাতারের দাবি আক্রমণাত্মক এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। যারাই পবিত্র স্থানগুলোর আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার আমাদের আছে।

অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি বলেছেন, তাঁর দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের কোনো আহ্বান জানাননি। আল জাজিরা টেলিভিশনকে তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্যের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। শূন্য থেকে এসব গল্প বানানো হচ্ছে।

কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব ও তার মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন। পাশাপাশি সড়ক, জলপথ ও বিমানপথে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওই চার আরব দেশ।

এরপর মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন বন্ধ করা, দোহাভিত্তিক সংবাদ চ্যানেল আল জাজিরা বন্ধ, কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ ও শত্রু দেশ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করাসহ ওই চারটি দেশ কাতারের কাছে ১৩টি দাবি পেশ করে।

এ দাবিগুলো মানলে কাতারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানায় তারা। দাবিগুলো সার্বভৌমত্ববিরোধী অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করে কাতার। দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনার পথ খোলা আছে বলে জানায় দেশটি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close