আরববিশ্ব জুড়ে

সৌদিতে পর্যটনকেন্দ্রে বিকিনি পরতে পারবেন নারীরা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের নারীদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। সেই বিধিনিষেধের মধ্যও কেউ কেউ মাঝে মাঝে নিয়ম ভেঙে খবরে শিরোনাম হন। এবার হয়তো আর তেমন হতে হবে না অনেককে।

কারণ, দেশটিতে এমন একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যেখানে নারীরা বিকিনি পরতে পারবেন। সিনেমা, বিনোদন, থিয়েটার কোনো কিছুতেই বাদ যাবে না। নানান নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে এবার এক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠতে যাচ্ছে সৌদি আরবে। দেশটির নতুন যুবরাজ সে ঘোষণাই দিয়েছেন।

সৌদি আরবের অর্থনীতিকে ২০৩০ সালের মধ্য ঢেলে সাজিয়ে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ঘোষণা করেছেন এক পরিকল্পনা। পর্যটন ব্যবসাকে জমজমাট করতে সৌদি আরব বড় ধরনের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগরের অন্তত ৫০টি দ্বীপ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছে দেশটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব দ্বীপ ও আরও কিছু জায়গায় তৈরি করা হবে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র।

তেলের দাম নিয়ে আগামী দিনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলার জন্যই পর্যটন থেকে আরও বেশি অর্থ আয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে দেশটি।

সৌদিতে বিদেশ থেকে আসা নারী পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতে গেলে পোশাক আবৃত রাখা বাধ্যতামূলক। সরকার বলছে, যে পর্যটনকেন্দ্র তারা করতে যাচ্ছে তা হবে আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের সমতুল্য।

সৌদি আরবের নিজস্ব আইনে নারীদের ওপর নানান বিধিনিষেধের থাকতে হয়। গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ এবং পুরুষ আত্মীয়ের অনুমতি ছাড়া কোথায় ভ্রমণও করতে পারে না নারীরা। নারীরা বাড়ির বাইরে গেলে তাদের ত্বক ও চুলকে ঢেকে রাখতে হয়। যদিও এ নিয়ম অভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয় না। গত মাসে, একটি গ্রামে মিনি স্কার্ট পরে ঘোরাফেরা করার জন্য গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল এক নারীকে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের আইন মোতাবেক মদ পান নিষিদ্ধ। এগুলোর অর্থাৎ পর্যটনকেন্দ্রে মদের অনুমোদন থাকবে কি না, তবে এটা পরিষ্কার নয়।

লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদির পশ্চিম উপকূলে ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠবে এই পর্যটনকেন্দ্র। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হবে এই প্রকল্পের কাজ। পর্যটনকেন্দ্রের কাজ চলবে ২০২২ পর্যন্ত। বিমানবন্দর, বিলাসবহুল রিসোর্ট, প্রবালপ্রাচীরে ঘেরা সমুদ্র উপকূলসহ বিনোদনে ভরপুর মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা থাকবে পর্যটনকেন্দ্রে।

এই পর্যটনের মূল পরিকল্পনা বর্তমান সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের। দেশি ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের জন্যই বিধিনিষেধ তুলে এই পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি সালমান জানিয়েছেন, নতুন এই প্রকল্পের কারণে দেশে হাজারো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এই পর্যটনকেন্দ্র চালু হলে ২০৩৫ সাল নাগাদ প্রতিবছর সেখানে ১০ লাখ ভ্রমণপিয়াসী ভিড় জমাবে বলে দেশটি আশা করছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close