লন্ডন থেকে

লাইসেন্সিং স্কীম প্রবর্তন করার পরও নীতিমালা মানছেন না নিউহ্যাম বারার বাড়িওয়ালারা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইউকেতে বাড়ির মালিকদের জন্যে প্রথম লাইসেন্সিং স্কীম প্রবর্তন করা হয় নিউহ্যাম বারাতে। কিন্তু বাড়িয়ালারা এই নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ করলেন নিউহ্যাম মেয়র স্যার রবিনস ওয়েলস।

এরইমধ্যে তিনি অভিযোগ করে চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামনের কাছে একটি চিঠিও লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, নিউহ্যামে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি প্রাইভেট প্রোপার্টি প্রায় ৫ হাজার ল্যান্ডলর্ড ভাড়া দিতেন কিন্তু ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীম চালুর পর দেখা গেছে প্রায় ২৭ হাজার পৃথক পৃথক ল্যান্ডলর্ড প্রায় ৫০ হাজার প্রোপার্টির মালিক। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ল্যান্ডলর্ড তাদের ভাড়া বাবদ আয় ঘোষণা না করার ফলে সরকারের প্রায় ২শ মিলিয়ন পাউন্ড গচ্ছা যাচ্ছে বলে মনে করছেন নিউহ্যাম কাউন্সিল।

নিউহ্যামের মেয়র চ্যান্সেলারের কাছে একই চিঠিতে জানান, নিউহ্যামের প্রায় ১৩ হাজার ল্যান্ডলর্ডের ভাড়া বাবদ আয়ের সঙ্গে তাদের ঘোষিত আয় এবং কাউন্সিল রেকর্ডে গড়মিল রয়েছে। যাতে এইচএমআরসি’র স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করছে নিউহ্যাম কাউন্সিল।

বেশির ভাগ প্রাইভেট ল্যান্ডলর্ড সেল্ফ এসেসমেন্টে রেজিস্টার্ড না হওয়ার ফলে লন্ডন বারা নিউহ্যাম থেকে সরকার বছরে প্রায় ২শ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীমের অধিনে নিউহ্যাম কাউন্সিলে হাউসিং সংক্রান্ত প্রায় ১ হাজার ১শ ৩৫টি মামলা হয়েছে। ২৮টি ল্যান্ডলর্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রোপার্টির উন্নতি সাধনের জন্যে পাঠানো হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১শ ৭০টি নোটিশ। আর সব মিলিয়ে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন কাউন্সিল ট্যাক্স আদায় হয়েছে।

কিন্তু ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিংয়ের আগে নিউহ্যামে প্রায় ৫ হাজার ল্যান্ডলর্ডের মধ্যেমে প্রায় ৩০ হাজার প্রাইভেট প্রোপার্টি ভাড়া যেত। আর লাইসেন্সিয় স্কীম চালু হওয়ার পর দেখা গেছে প্রায় ৫০ হাজার প্রাইভেট প্রোপার্টির মালিক প্রায় ২৭ হাজার পৃথক পৃথক ল্যান্ডলর্ড।

নিউহ্যামের পর লিভারপুল, ওয়ালথাম ফরেস্ট, বার্কিং এন্ড ডেগেনহ্যাম এবং ক্রয়ডন কাউন্সিলে বাধ্যতামূলক ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীম চালু করা হয়। এই স্কীম চালু রাখার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা সহায়ক হয় সেটা নিয়ে চিন্তিত আছে বাকী বারাগুলোও।

যদিও নিউহ্যাম কাউন্সিল দাবী করছে, বারার ৯০ শতাংশ বাসিন্দা এই স্কীমকে সমর্থন দিচ্ছেন। বারার বেশিরভাগ ল্যান্ডলর্ড ১শ ৫০ পাউন্ডের বিনিময়ে ৫ বছরের জন্যে লাইন্সেস নিচ্ছেন। নিউহ্যামে ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীমের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে।

নিউহ্যাম মেয়র চিঠিতে, ২০১০-১১ সাল থেকে সরকার কর্তৃক নিউহ্যামে স্কুল, সোসাল কেয়ার এবং হাউসিংয়ে গ্রান্ড কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে নিউহ্যামের ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিংয়ের বিষয়টি বিবেচনার জন্যে চ্যান্সেলারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরে নিউহ্যাম বারার ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীমের মেয়দ শেষ হবে। স্কীমটি আগামী ৫ বছরের জনে রিনিউ করতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে নিউহ্যাম।

কেন্দ্রীয় সরকারের বাধা পেরিয়ে আগামী ৫ বছরের জন্যে স্কীম রিনিউ করতে পারলে ফি দেড় শ থেকে বাড়িয়ে ৪শ পাউন্ড করা হবে বলেও জানিয়েছে নিউহ্যাম কাউন্সিল। লিভারপুলে বর্তমানে প্রথম প্রোপার্টির জন্যে ৪শ পাউন্ড ফি পরিধোশ করতে ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিংয়ের জন্যে। বাকী প্রোপার্টিগুলোর জন্যে ৩শ ৫০ পাউন্ড করে।

ল্যান্ডলর্ডদের জন্যে ইউকেতে প্রথম নিউহ্যাম বারাতে লাইসেন্সিং স্কীম প্রবর্তন করা হয়। ২০১৩ সালে চালু হওয়া এই স্কীমের মাধ্যমে মূলত ল্যান্ডলর্ডদের নাম এবং প্রোপার্টির ঠিকানা এইচএম রিভিনিউ এবং কাস্টমের সঙ্গে শেয়ার করা হয়।

তবে নিউহ্যামে প্রায় ২৭ হাজার রেজিষ্টার্ড ল্যান্ডলর্ড থাকলেও ১৩ হাজারের মতো ল্যান্ডলর্ড সেল্ফ এসেসমেন্টের জন্যে রেজিষ্টার্ড নয় বলে মনে করছেন বারার নির্বাহী মেয়র।

এইচএমআরসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পোপার্টির মালিক ভাড়াবাবদ বছরে ২ হাজার ৫শ পাউন্ডের বেশি আয় হলে তার সেল্ফ এসেসমেন্টে প্রকাশ করা উচিত।

অন্যদিকে এইচএমআরসি থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিউহ্যাম বারায় লেট প্রোপার্টি ক্যাম্পেইনের বিষয়ে কাজ করছে এইচএমআরসি। এর মাধ্যমে অপরিশোধিত ট্যাক্স এবং ইন্টারেস্ট বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১শ ১৫ মিলিয়ন অর্থ যোগান হতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে লেট প্রোপার্টি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এইচএমআরসি।

এইচএমআরসি মনে করছে, দেশে প্রায় ১ মিলিয়নের বেশি বাই টু লেট ল্যান্ডলর্ড তাদের ভাড়াবাবদ আয় ঘোষণা করেন না। এর মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ডরা বছরে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন বলে মনে করা হয়। আর এই সংখ্যা নিউহ্যামে কম নয়।

যদিও ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং স্কীমটি রিনিউ করার জন্যে ডিপার্টমেন্ট ফর কমিউনিটিস এন্ড লোকাল গভর্ণমেন্টের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে নিউহ্যাম। ২০১৫ সাল থেকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে ল্যান্ডলর্ডদের উপর একটি বাড়তি ব্যয় আরোপ করা হয়েছে। রেডব্রিজ বারা ইতোমধ্যে ল্যান্ডলর্ড লাইসেন্সিং রিনিউ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close