ইউরোপ জুড়ে

তখন ছিল প্রেমের এক পাগলাটে সময়

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: স্বামী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন যাচ্ছে সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোন।

তিনি বলেছেন, ম্যাক্রনের একটিই ত্রুটি আছে। তাহলো সে আমার চেয়ে অনেক বেশি ইয়াং। প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত আলিশান এলিসি প্রাসাদে কয়েক মাস কাটিয়ে দিলেও কখনো আমার কাছে মনে হয় না আমি ফার্স্টলেডি।

ইলি ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, এখন থেকে দুই দশকেরও আগে নিজের স্কুল শিক্ষিকা ব্রিজিতকে বিয়ের করেন তারই ছাত্র এমানুয়েল ম্যাক্রন। এখন ব্রিজিতের বয়স ৬৪ বছর।

তার স্বামী ম্যাক্রন মাত্র ৩৯ বছর বয়সী এক টগবগে যুবক। তাদের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক প্রবল আগ্রহ দেখা যায় ফ্রান্সে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তখনই মিডিয়ায় উঠে আসে অসম এই দম্পতির কথা।

জানা যায়, ম্যাক্রনের চেয়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের বড় তার স্ত্রী ব্রিজিত। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর তারা প্রবেশ করেছেন এলিসি রাজপ্রাসাদে। এরপর এবারই প্রথম ব্রিজিত তাদের ভালবাসার কাহিনী শেয়ার করেছেন ইলি ম্যাগাজিনের সঙ্গে।

এতে তিনি বলেছেন, সরকারি দায়িত্ব নেয়ার জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি স্বীকার করেন, তাকে ফার্স্টলেডি বলা হলে এখনও তিনি অস্বস্তি বোধ করেন।

ব্রিজিত বলেন, আমি নিজেকে ফার্স্টলেডি হিসেবে ভাবি না। ওটা আমেরিকান সংস্করণ। এমনটা আমি কখনো ভাবি না। যখনই আমি ফার্স্টলেডি শব্দটি শুনি তখনই আমি পিছনে তাকাই। ভাবি আমরা কার বিষয়ে কথা বলছি?

এখানে উল্লেখ্য, গত দু’একটি সপ্তাহ ফরাসি এ অসম দম্পতির জন্য বাজেভাবে যাচ্ছে। নিজের স্ত্রীর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ফার্স্টলেডি মর্যাদার পদ সৃষ্টি করার জন্য তৎপর রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন।

কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট পদ থাকলেও ফার্স্টলেডির কোনো পদ নেই। ফলে স্ত্রীর জন্য পদ সৃষ্টির বিষয়ে বড় বাধার সম্মুখীন ম্যাক্রন।

সাবেক প্রেসিডেন্টদের স্ত্রী বা পার্টনার সরকারি দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কোনো অফিসিয়াল মর্যাদা ছিল না। কারণ, ফ্রান্সে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী বা স্বামীর জন্য কোনো মর্যাদা দেয়া হয় নি।

এ নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন এমানুয়েল ম্যাক্রনের জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যায়। পরে তিনি স্ত্রীর জন্য ওই পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।

তবে ব্রিজিতের ভূমিকা কি হবে এ বিষয়ে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানোর কথা রয়েছে। ইলি ম্যাগাজিনকে ব্রিজিত বছেন, আমার মর্যাদা আইন দিয়ে নয়, নির্ধারিত হবে এক স্বচ্ছ সনদের মাধ্যমে। তাতে বরা হবে, আমি কোনো বেতন নেবো না।

এটা একেবারে জলের মতো পরিষ্কার যে, ফরাসিরা এমানুয়েলকে নির্বাচিত করেছেন। তারা আমাকে নির্বাচিত করেন নি। তবে তারা জানেন যে, আমরা দম্পতি। নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পর্কে ব্রিজিত বলেন, এমানুয়েলের একটিই ত্রুটি।

তাহলো সে আমার চেয়ে অনেক কম বয়সী। যখন আমাদের সম্পর্কের কথা ভাবি তখনই মনে হয় আমি বুঝি অন্য কারো কাহিনী আওড়াচ্ছি। আমাদের সম্পর্কটি একেবারেই সাধারণ।

আমি যদি তাকে বেছে না নিতাম তাহলে হয়তো জীবন থেকে হারিয়ে যেতাম। এমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের সময়টাকে তিনি পাগলাটে সময় বলে উল্লেখ করেন।

কারণ, তখন এমানুয়েল ছিলেন তার ছাত্র। তিনি বলেছেন, ছাত্রের প্রতি তার মাঝে যে অনুরাগ ক্রমশ বাড়ছিল তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন।

এ সময়ে তিনি এমানুয়েলকে প্যারিসে ফিরে গিয়ে তার স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ব্রিজিত আরো বলেছেন, তখনো আমাদের মধ্যে তেমন কিছু ঘটেনি। তবে গুজব ছড়িয়ে পড়ল।

তখন আমার সঙ্গে শুধু আমার সন্তানরা। আমাদের সম্পর্ক আস্তে আস্তে সামনে এগুতে থাকে। এক সময় দু’জনের বয়সের ব্যবধান ২০ বছরের বেশি, এটাকে কোনো বিষয়ই নয় বলে মনে হতে থাকে।

অবশ্যই আমরা সকালে নাস্তা করি। তার সামনে আমি বসি। আমার মুখে বলিরেখা। সে ফ্রেশ। টাটকা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close