অন্য পত্রিকা থেকে

রাস্তাঘাট ছমছমে মানুষ আতঙ্কে: বার্সেলোনা হামলার পর মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে উঠছে স্পেন

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসীরা মুসলিম হতে পারে না। তারা সন্ত্রাসীই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা বার্সেলোনার জন্য শোক জানাচ্ছি।

স্পেনের বার্সেলোনার লাস রামব্লাসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে শোকর্যালিতে উপস্থিত এক মুসলমান নারীর হাতে ধরা ছিল এই কথাগুলো লেখা প্ল্যাকার্ড। তার মতো শতাধিক মুসলমান নারী-পুরুষ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাতে হাজির হন ওই শোকর্যালিতে।

তবে একই সঙ্গে তারা কিছুটা আতঙ্কিত। কেননা তিন দিন আগে বার্সেলোনা ও ক্যামব্রিলসে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ জন নিহতের ঘটনায় যারা দায়ী, তারা সবাই মুসলিম।

এ কারণে এরই মধ্যে স্পেনের স্থানীয় জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে। মুসলমানদের প্রতি কিছু অসৌজন্যমূলক ঘটনাও ঘটে গেছে গত দু’দিনে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই শঙ্কিত দেশটিতে বসবাসরত মুসলমানরা। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস ও সিনহুয়ার।

স্পেনে প্রায় ১৯ লাখ মুসলমানের বাস। এতদিন ধর্ম-বর্ণের সহিষ্ণুতার মধ্যে এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশেই বসবাস করছিলেন দেশটির মুসলমানরা। তবে সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ধরা পড়ছে কিছু পরিবর্তন।

বার্সেলোনার মুসলিম অধ্যুষিত রাভালের একটি মসজিদের ইমাম রাজা মিয়া বললেন, মানুষজন খুবই আতঙ্কে রয়েছে। রাভালের ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ রাস্তা এখন ছমছমে। কোনো টুঁ-শব্দটি যেন কোথাও নেই।

নয় বছর আগে বাংলাদেশ থেকে স্পেনে পাড়ি জমানো রাজা মিয়া বলেন, স্পেনীয়রা আমাদের সঙ্গে এতদিন ভালো ব্যবহার করেছে, তারা আমাদের সাহায্য করেছে। মনে হতো নিজ দেশেই আছি। কিন্তু এখন পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। এই তো গতকালই রাস্তায় আমাকে মুখে দাড়ি, পরনে জোব্বা দেখে পুলিশ থামিয়ে দিল। তল্লাশি চালাল। এতে কিছুটা খারাপ লাগল।

রাজা জানান, বার্সেলোনা, ক্যামব্রিলসহ স্পেনের অনেক শহরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মরক্কো নানা দেশ থেকে আসা মুসলমানরাই বেশি। তবে সন্ত্রাসী হামলার পর সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না। এমনকি নামাজ পড়তে আসা লোকজনও কমে গেছে।

বার্সেলোনায় বসবাসরত মরক্কোর এক নারী বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে তিন মুসলিম নারীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোরোস’ বলে গাল দেয়। মরক্কোর মানুষের কাছে এ শব্দটি খুবই অপমানজনক। তিনি বলেন, হামলার পর স্পেনে মুক্ত ও উদার মানসিকতা শেষ হয়ে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বার্সেলোনায় গাড়ি হামলা এবং আট ঘণ্টা পরে শুক্রবার ভোরে ক্যামব্রিলসে দ্বিতীয় হামলায় মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।

এসব হামলায় দায়ীদের সবাই মরক্কোর নাগরিক। হামলার সন্দেহজনক মূলহোতা ইউনুস আবুইয়াকুব (২২) পালিয়েছে। ইউরোপজুড়ে তাকে খোঁজা হচ্ছে। খোঁজা হচ্ছে বার্সেলোনার রিপল এলাকার এক মসজিদের সাবেক ইমাম আবদেল বাকিকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই ইমাম হয়তো ব্রেনওয়াশ করেছেন।

ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা :স্পেনে মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে ১২ জনের যে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বার্সেলোনায় হামলা চালিয়েছিল, তারা ছয় মাস ধরে এ হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এ ছাড়া হামলার ব্যাপকতা বাড়াতে ভ্যানে ব্যবহারের জন্য তারা ১২০টি গ্যাস সিলিন্ডার জমা করেছিল। রোববার কাতালানিয়ার পুলিশ প্রধান জোসেপ এললুইস ট্রাপেরো এ তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাপেরো জানান, তদন্ত দলের বিশ্বাস হামলাকারী গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিল ১২। তারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close