এশিয়া জুড়ে

মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: স্পিকার আবদুল্লাহ মাসিহ মোহাম্মদকে সুরক্ষা দিতে সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছে মালদ্বীপের পার্লামেন্ট। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হওয়ার কথা পার্লামেন্টে। কিন্তু বিরোধীরা যাতে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে ওই ভোট দিতে না পারেন সে জন্য সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে পার্লামেন্ট ভবন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ স্পিকার মাসিহ। সরকার দেশকে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির বিপরীতে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলের এমপিদের। সরকারি অনিয়ম নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতার দাবি তোলেন এমপিরা।

কিন্তু বার বারই এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন স্পিকার মসিহ। এ জন্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন এমপিরা। মালদ্বীপের বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) নেতা ইমতিয়াজ ফাহমি টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।

তাতে তিনি বলেছেন, সাদা পোশাকে পার্লামেন্ট ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তারা এমপিদের পার্লামেন্টের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

একই দলের আরেকজন এমপি ইভা আবদুল্লাহ বলেছেন, এমপিদের পার্লামেন্টে কোনোমতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি দেখতে পেয়েছেন স্পিকার আবদুল্লাহ মসিহ মোহাম্মদকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে রেখেছে সেনা সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের ঘনিষ্ঠ স্পিকার মসিহ অবশ্য পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু করেছিলেন।

তবে এমপিরা অনাস্থা প্রস্তাব তুলে ভোটে দেয়ার আগেই তিনি অধিবেশন দ্রুততার সঙ্গে বন্ধ করে দেন। ইভা আবদুল্লাহ আরো বলেন, এ জন্য অধিবেশন স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৫ মিনিট। এমপিরা বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম যাচাই বাছাই করার অনুরোধ পার্লামেন্টে তোলা হলেও স্পিকার তা আমলে নেন নি। এ জন্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন এমপিরা।

ইভা আরো বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে তলব করতে অনুমোদন দেয়া হয় নি বিরোধীদের। রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতার কোনো অংশ হতে আমাদেরকে মোটেও অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে মালদ্বীপ। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক ধারাকে উল্টো দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে দেশের প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে। সেখানে নিয়মিত রাজনীতিতে বিশৃংখল অবস্থা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্পকে ঝুঁকিতে ফেলছে। ভারত মহাসাগরের মধ্যে ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র চার লাখ। এখানে স্পিকারকে উচ্ছেদ করতে মার্চ মাসেও একই রকম উদ্যোগ নিয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু তারা পরাজিত হয়েছেন।

ওই সময়ে অনেক এমপিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল না হয় ভোট গণনায় কারচুপির কারণে তারা ওয়াকআউট করেছিলেন। গত মাসে পার্লামেন্টের গেটগুলোতে সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়ায়, যাতে আর কোনো অনাস্থা বা অভিশংসন প্রস্তাবের ওপর ভোট হতে না পারে।

বিরোধীরা বলছে, পার্লামেন্টে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট আছে। সেনাবাহিনীর ওই বেষ্টনি ভেঙে কিছু এমপি ভিতরে প্রবেশ করতে পারলেও তাদেরকে জোর করে পরে বের করে দেয়া হয়েছে। এমডিপি দল এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের কর্মকান্ডকে বেপরোয়া, অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করেছে। প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।

কিন্তু দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের নেতৃত্বাধীন এমডিপি সহ বিরোধী দলগুলো বড় একটি জোট গঠন করেছে। সেই জোটের কারণে প্রেসিডেন্টের ভীতি বেড়ে গেছে। গত বছর চিকিৎসার জন্য বৃটেন গিয়েছেন মোহাম্মদ নাশিদ। সন্ত্রাসের অভিযোগে দেশে ১৩ বছর জেল খাটার তিনি দেশ থেকে বেরিয়েছেন। আশ্রয় পেয়েছেন বৃটেনে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক মঙ্গলবার বলেছেন, পার্লামেন্টে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা। সেখানে সরকার গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ভিন্ন মতাবলম্বীদের জন্য উদ্বেগজনকভাবে জায়গা সঙ্কুচিত হয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ত্রুটিপূর্ণ বিচারের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী জেলে ঢোকানো হচ্ছে। মানবাধিকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চলছে। এতে তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার হয়ে গেছে। বোঝা যাচ্ছে তারা ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফাঁসি কার্যকর করতে চলেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close