অন্য পত্রিকা থেকে

অন্যের সন্তানকে বাবা ডাকিয়ে আনা লোভাতুর ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের বেহাল দশা

মোহাম্মেদ এ আজিজ: শিল্পন্নোত দেশে শ্রমজীবি মানুষের বেতন বা আয় থেকে ট্যাক্স ডিডাক্ট করার জন্য অবিবাহিতকে সিঙ্গেল কোড এবং বিবাহিতদের জন্য ডাবল কোড অনুয়ায়ী ট্যাক্স কেটে নেওয়ার আইন রয়েছে। সিঙ্গেল কোডে বেশী ট্যাক্স কাটা হয়।

তাই ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে বাঁদর বুদ্ধি ওয়ালাদের পরামর্শে অধিকাংশ প্রবাসী ব্যাচেলর নিজেকে বিবাহিত এবং সন্তান সন্তদি দেখিয়ে ডাবল কোড নিয়ে কাজ করতেন। ট্যাক্স রিটার্ন ফরমে মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পিত স্ত্রী ও সন্তানদের নাম জন্মতারিখ লিখে দিতেন।

এই সুযোগে অনেক প্রবাসী পিতা লোভ লালসা এবং জমি জমা হস্তগত করা বা টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশী গরীবের অবুঝ ছেলে সন্তানের পিতা সেজে তাদের নাম ট্যাক্স রিটার্ন ফরমে লিখে দিতেন। পর্য্যায়ক্রমে নাম ও জন্মতারিখ মিল রেখে নিজের সন্তান বলে তাদেরকে বিদেশে নিয়ে যেতেন।

অনেক পিতা আবার নিজের ঔরশজাত সন্তানের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে অন্যের ছেলে সন্তানকে নিজের সন্তান হিসাবে নিয়ে আসতেন। বাপ ডাকিয়ে নিয়ে আসা সন্তানের জন্য সরকার থেকে প্রাপ্ত সকল সুযোগ সুবিধার মজা লুটতেন । উপরন্তু লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে সন্তানকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে চাইল্ড লেবার হিসাবে কাজ করাতেন।

কিন্তু অবুঝ শিশু তার রোজগার ও সরকার থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করা থেকে হতো বঞ্চিত। অনেকেই আবার ঘরে বূয়ার মতো কাজ করতে হতো অর্ধাহার-অনাহারে। তাদেরকে কোড নম্বরের সন্তান বলে দুর্মুখেরা মস্করা করতো । কোড নাম্বারের ঐ সকল অসহায় ছেলেরা মূখফূটে বাবা/মা ডাকতে পারতো না । সমাজেও মাথা নিচু করে চলতে হতো । দগ্ধ হতো অন্তর জ্বালায়।

অপর দিকে ক্ষোভে দূঃখে দেশে ফেলে আসা আপন পিতা-মাতার উপরেও পুঞ্জিভুত হতে থাকে ক্ষোভের পাহাড়। অনেকে আবার মানষিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন সারা জীবনের তরে। গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রে থাকার পরেও অদৃশ্য গোলামীর জিঞ্জীরে আবদ্ধ শিশুদের ছিলনা কোন বাক স্বাধীনতা । কৈশোরকালে অঘোষিত গোলামীর জীবন পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অর্থ্যাৎ আঠারো বছর বয়সী হওয়ার পরে খোঁজে বেড়ায় মুক্তির পথ । যোগাযোগ হয় বায়লোজিক্যাল পিতামাতার সাথে।

সময়ের ব্যাবধানে নিজের সন্তানের পরিবর্তে টাকা বা জমি জমার বিনিময়ে অন্যের সন্তানকে পূত্র বানিয়ে বিদেশে নিয়ে আসার কারনে জননী এবং আপন সন্তানদের সাথে শুরু হয় লোভী, চতুর পিতার কলহ-বিবাদ ও স্নায়ূযুদ্ধ। অনেকের মাঝে বিভাজনও ঘটে। জনক-জননী ফেসে যান মাইনকার চিপায়।

প্রায়শ্চিত্ত করনের লক্ষ্যে আশ্রয় নেন উপাসনালয়ে। টাকার বিনিময়ে বা ক্ষমতার দাপটে জোর করে অন্যের সন্তানকে বাপ ডাকানোর সন্তানেরাও বিক্ষুব্দ হয়ে উঁঠে । উড়ে যায় খাঁচার পাখী। স্ত্রী সন্তানদের কাছে তিরস্কৃত, নিগৃহীত ও অবহেলিত হয়ে অবশেষে অনেক লোভী পিতার স্থান হয় আস্তাকুড়ে!

জোর করে বা আইনের মাধ্যমে যারা পিতার আসন অলংকৃত করতে তৎপর তথা বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কেড়ে নিতে চায় তাদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন । নতুবা আগামী কোন বসন্তে ভেসে যাবে সকল অন্যায় । অগ্রজদের পথ ধরেই পরতে হবে মাইনকার চিপায় । যেতে হবে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে !!!

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close