জাতিসংঘ

ধৈর্যের সীমা আছে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়ে যুদ্ধ চাইছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এ অভিযোগ করেছেন।

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধ চায় না। তাই বলে ধৈর্য্যরে সীমা আছে। শিগগিরই আরো কঠোর অবরোধের প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার মিত্র চীন। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

ওদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী মহড়া চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, যদি উত্তর কোরিয়া উস্কানি দেয় তাহলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেবে এবং তাদেরকে সাগরের মাঝেই সমাহিত করবে। ইয়োনহোপ বার্তা সংস্থাকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, এর আগের দিন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কিনা তা জানা যায় নি।

ওদিকে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আরো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। রোববার তারা একটি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায়। এর ক্ষমতা ৫০ কিলোটন থেকে ১২০ কিলোটন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানের হিরোশিমায় যে বোমা ফেলা হয়েছিল ৫০ কিলোটনের একটি বোমা তার তিনগুন বড়।

ফলে উত্তর কোরিয়ার ওই হাইড্রোজেন বোমা কোনো দেশের ওপর পড়লে সে দেশের অস্তিত্ব বলতে কিছু থাকার কথা নয়। উত্তর কোরিয়ার এমন বাড়বাড়ন্ত দেখে সতর্ক হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চাপ দেবেন। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে ঐক্যমতের কথা জানিয়েছেন তিনি।

নিক্কি এশিয়ান রিভিউয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানের প্রায় ৬০ হাজার নাগরিক বর্তমানে হয়তো দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করছেন না হয় বেড়াতে গিয়েছেন। তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান। এমনটা করা হয় যুুদ্ধের সময়ে।

নিরাপত্তা পরিষদে নিকি হ্যালি বলেছেন, শুধু কঠোর অবরোধের মাধ্যমেই কূটনৈতিক উপায়ে এ সমস্যা সাধানের পথ করে দেবে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ জিইয়ি। তিনি সব পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে সমস্যার সমাধান হতে হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে। চীন কখনো বিশৃংখলা ও যুদ্ধ অনুমোদন করতে পারে না।

ওদিকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডোরিস লিউথার্ড তার দেশের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাস্তবেই আলোচনার সময় এখন। আমরা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তবে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই সঙ্কটে কিভাবে প্রভাবিত করে তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।

কিন্তু এক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। তাদের ভূমিকাও দ্বিধাবিভক্ত। একদিনে তারা উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেখতে চায় না। এ বিষয়টি তারা অনেক বার পিয়ংইয়ংকে জানিয়ে দিয়েছে পরিষ্কারভাবে। আবার তারা চায় না উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর পতন হোক বা তারা ক্ষতির শিকার হোক। যদি এমনটা হয় তাহলে লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল নামবে চীনে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close