এশিয়া জুড়ে

তবুও সুচির উল্টো সুর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ- সর্বত্রই নিন্দা, ক্ষোভ।

দুটি মহাদেশের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ, প্রতিবাদে রাজপথে মানুষ। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে অং সান সুচির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে বিশ্ব। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে যখন এক ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে তখনও তার আঁচ লাগে নি মিয়ানমার সরকারের নেতৃত্বে থাকা অং সান সুচির গায়ে।

তিনি আগের মতোই উল্টো সুরে সুর মেলালেন। তিনি নিন্দা জানালেন ঠিকই, তবে সেই নিন্দা তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। তিনি নিন্দা জানালেন ‘টেরোরিস্ট’দের বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের তিনি এ নামেই অভিহিত করেছেন।

যেভাবে, যে কারণে তার দেশ ছেড়ে দলে দলে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণপণ ছুটে আশ্রয় নিচ্ছেন বাংলাদেশে, তিনি তার নিন্দা জানালেন না। সীমান্তে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার নিন্দা জানালেন না তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেয়া খবর অনুযায়ী, উল্টো তিনি বুধবার রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য দায়ী করলেন ‘টেরোরিস্ট’দের। তাদেরকে দায়ী করলেন ‘এ হিউজ আইসবার্গ অব মিস-ইনফরমেশন’ ( বিশাল বরফের চাঁইয়ের মতো মিথ্যা তথ্য)-এর জন্য। ২৫শে আগস্ট থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নেয়া এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমের কথা একবারের জন্যও মুখে আনলেন না। অথচ মঙ্গলবার রাখাইনে মুসলিমদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ।

তিনি একে জাতি নির্মূল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সতর্ক করে বলেছেন, এতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। মিয়ানমারের সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বিরল এক চিঠি লিখেছেন মহাসচিব গুতেরাঁ। তিনি এতে বলেছেন, মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে চলে যেতে পারে।

এ জন্য তিনি সব পক্ষকে বিরত ও শান্ত থাকতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান জানান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির ওপর তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। মিয়ানমারের এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে অং সান সুচির কাছে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। মঙ্গলবার অং সান সুচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এরদোগান প্রথম জোর গলায় বলেছেন, রাখাইনের প্রায় ১১ লাখ মানুষ গণহত্যার মুখোমুখি।

এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য বিশ্ব নেতাদের ওপর চাপ দেন তিনি। রাখাইনের সহিংসতা শুরুর পর পরই তিনি ফোন করেন মুসলিম বিশ্বের কমপক্ষে আটটি দেশের সরকার প্রধানকে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদও। তিনি ফোন করে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ওদিকে অফিসিয়াল ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অং সান সুচি বলেছেন, যতটা সম্ভব রাখাইনের সাধারণ মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করছে সরকার।

এক্ষেত্রে ভুল তথ্য, যার ফলে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হয়, তা ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন। এক্ষেত্রে সুচি তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট করা হত্যাকা-ের বেশকিছু ছবির কথা তুলে ধরেন। সুচি বলেন, টুইটারে পোস্ট করা ওইসব ছবি পরে মুছে ফেলা হয়। কারণ, ওই ছবিগুলো মিয়ানমারের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

সামাজিক মিডিয়ায় দেয়া বিবৃতিতে সুচি বলেন, একজন উপ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়ায় বিরাট রকমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন দেশের মধ্যে। এর ফলে সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যকে প্রশ্রয় দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১২ দিন আগে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হয়। তারপর থেকে কমপক্ষে ৪০০ রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এর ফলে বাণের পানির মতো রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ছুটে আসছে বাংলাদেশের দিকে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আশ্রয়, তাদের খাদ্য, চিকিৎসা সহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close