দুনিয়া জুড়ে

জাতিসংঘের কূটনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়তে যাচ্ছে মিয়ানমার: সম্ভাব্য পদক্ষেপ আটকাতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক তদবির শুরু

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে মিয়ানমার। এরই মধ্যে তারা আলোচনা করেছে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যাতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে সে জন্য এই তৎপরতা।

নিরাপত্তা পরিষদের মিয়ানমার বিরোধী যেকোনো উদ্যোগ, সেটা অবরোধ বা যা-ই হোক, তা আটকে দিতে চীন ও রাশিয়াকে ব্যবহার করতে চাইছে মিয়ানমার। এ জন্য তারা ওই দুটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা করছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। আয়ারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত অনলাইন দ্য আইরিস ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, মিয়ানমারের সহিংসতায় গত দু’সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাংবাদিক সিমন লুইসের লেখা ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনের সহিংসতার জন্য ‘টেরোরিস্ট’দের দায়ী করেছেন অং সান সুচি।

তিনি এক্ষেত্রে ‘আইসবার্গ অব মিস ইনফরমেশন’ বা ভুল তথ্যের বিশাল প্রচারণাকে দায়ী করেছেন। কিন্তু যেসব রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন তার বক্তব্যে তাদের কথার কোনোই উল্লেখ নেই। ফলে তিনি ইন্দোনেশিয়া সহ বেশির ভাগ মুসলিম দেশ থেকে তীব্র ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন। বুধবারও ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় কয়েক হাজার মুসলিম বিক্ষোভ করেছেন। তারা সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার। মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ। তিনি মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি লিখেছেন।

তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে (হিউম্যানিটারিয়ান ক্যাটাস্ট্রোফ) রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারে জাতি নির্মূলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, এ ঘটনায় পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

মিয়ানমারের রাজধানী ন্যাপিড’তে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চলমান সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘের যেকোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন আটকে দিতে তারা এরই মধ্যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষায়, (এ সঙ্কটকে) যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ে যাওয়া না হয় সে জন্য আমরা কিছু বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চালিয়ে যাচ্ছি। চীন আমাদের বন্ধু। একই রকম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাশিয়ার সঙ্গেও রয়েছে আমাদের।

ওদিকে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী গ্রাম শ্যামলাপুরের কাছে বোটবোঝাই রোহিঙ্গারা আসছেন। এমনটা প্রত্যক্ষ করেছেন ওই এলাকায় নিয়োজিত সাংবাদিকরা। জাতিসংঘের কর্মীদের সর্বশেষ হিসাবে গত ১২ দিনে বাংলাদেশে এসেছেন কমপক্ষে এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা। ফলে গত অক্টোবরের পরে বাংলাদেশে এমন শরণার্থীর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো দুই লাখ ৩৩ হাজার। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অং সান সুচি।

এরদোগান রাখাইনে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মিয়ানমারের প্রতি চাপ সৃষ্টির জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অং সান সুচির অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোত্তম পন্থায় রাখাইনের সমস্ত মানুষকে সুরক্ষা দেয়া শুরু করেছে সরকার। তবে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, এক্ষেত্রে ভুল তথ্য প্রচার থেকে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী টুইটারে একটি হত্যাকাণ্ডের ছবি পোস্ট করেছিলেন। পরে তিনি তা মুছে দেন।

কারণ, ওই ছবিগুলো মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ঘটনার নয়। অং সান সুচি ভুল তথ্যের প্রচার বলতে এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে সে যা-ই হোক, পশ্চিমা বিশ্বে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন অং সান সুচি। তিনি সংখ্যালঘুদের পক্ষে কোনো কথা না বলার কারণে এই সমালোচনা।

বলা হচ্ছে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চলছে। এ নিয়ে তিনি কথা না বলায় অনেকে সুচির শান্তিতে পাওয়া নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু মিয়ানমার বা এর নেত্রী অং সান সুচি চলমান সহিংসতাকে টেরোরিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close