এশিয়া জুড়ে

উপকূলে পৌঁছাতে পারলে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় দেবে মালয়েশিয়া

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিতে চেয়েছে মালয়েশিয়া। শুক্রবার দেশটির মেরিটাইম সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, তাদের কোস্ট গার্ড রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেবেনা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখন অনেকেই সীমান্তে অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরেও অনেক রোহিঙ্গা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলো।

এর মাঝেই মালয়েশিযা ঘোষণা দিলো তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আগ্রহী। মালয়েশিয়া মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জুলকিফলি আবু বকর বলেন, মিয়ানমার থেকে আরও অনেক রোহিঙ্গা নৌকা নিয়ে আসতে পারে। তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা।

তিনি বলেন, আমাদের তাদেরকে প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া কথা ছিলো। কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই মানুষ। আর মানবিক কারণেই আমার এই কাজ করতে পারবো না।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক। ওই মিশনের নেতৃত্ব দেবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। এক বিবৃতিতে নাজিব রাজ্জাক বলেন, ওই মিশনের মাধ্যম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে মালয়েশিয়া।

শনিবার শরণার্থী শিবিরে যাবে মিশনটি। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ও মালিন্দো এয়ার এই ত্রাণ সরবরাহে সহায়তা করবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

নাজিব বলেন, সীমান্তে একটি সামরিক হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলবে মালয়েশিয়া।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনে ৫৯ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধিত রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তে রোহিঙ্গাদের গণকবর পাওয়া গিয়েছিলো।

মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। নতুনদেরকে হয়তো অভিবাসী আটক কেন্দ্রে রাখা হবে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেশনের স্বাক্ষর না করা মালয়েশিয়া সব অভিবাসীকে অবৈধ বলে মনে করে।

তবে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় দেবে তারা। থাইল্যান্ডও জানিয়েছে তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মানুষগুলোকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close