যুক্তরাজ্য জুড়ে

রোহিঙ্গা ইস্যূতে নীরবতা ভাঙার ডাক দিলেন মালালা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর সবথেকে বিপন্ন জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় নীরবতা ভাঙার ডাক দিয়েছেন নোবেলজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাদের পক্ষে সোচ্চার হতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানান মালালা।

ক’দিন আইগে এক টুইটার বার্তায় একই আহ্বান জানিয়েছিলেন মালালা। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান মালালার

অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক শেষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী মালালা। সেখানেই কথা হয় বিবিসির সঙ্গে। ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি শোনা যায় মালালার কণ্ঠে। ‘হাজার হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।’ বলেন মালালা।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনও জাতিগোষ্ঠীই মনে করা হয় না। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত ওই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমার বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে দায়িত্ব অস্বীকার করতে চায়। তবে রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক বলেই জানে। নাগরিকত্বকে তারা অধিকার হিসেবেই দেখে।মিয়ানমার সরকারকে মালালা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, একটি জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব অস্বীকার করা, বসবাসের অনুমতি না দেওয়া কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা হয়তো আমরা ভাবতেও পারি না। ক’দিন আগের টুইটার বার্তায় তিনি বলেছিলেন, যে মিয়ানমারে প্রজন্মের পর প্রজন্মান্তরে রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন, সেটা তাদের দেশ না হলে রোহিঙ্গাদের দেশ তবে কোনটা? রোহিঙ্গাদের জন্ম মিয়ানমারে, তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা সে দেশের সরকারেরই দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক এক টুইটার বার্তায় মালালা রাখাইন পরিস্থিতিকে হৃদয়বিদারক এবং নিন্দনীয় উল্লেখ করে সু’চিকে এ ঘটনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমি বারবার তাদের [রোহিঙ্গাদের] বিরুদ্ধে অমানবিক ও নিন্দনীয় ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে আসছি।

তিনি লিখেছেন, সু চির কাছেও আমি একই ভূমিকা প্রত্যাশা করি। বিশ্ব তার যথাযথ পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। অপেক্ষায় রয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবারও তিনি এ ব্যাপারে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি’র যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গা’রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। তারপরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশছে মৌসুমী বাতাসে। সেই ধোঁয়া মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠা রাখাইনের আকাশকে করে তুলছে বিবর্ণ ধূসর।

রোহিঙ্গা জীবনে আরও বেশি ধূসরতা। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ছেন সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হচ্ছে তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষকে। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তে। রাখাইনের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সহিসংতা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবঞ্চিত নারীদের অধিকারের পক্ষে সরব মালালা।

তিনি বলেন, এটা মানবাধিকারের বিষয়। সরকারের অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মানুষ সহিংসতার শিকার হচ্ছে, ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। শিশুরা শিক্ষা পাচ্ছে না, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। চারপাশে এত সহিংসতা থাকলে বেড়ে উঠা কঠিন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close