লন্ডন থেকে

লন্ডন হামলার দায় স্বীকার আইএসের, তরুণ গ্রেফতার: ২২ যাত্রী হাসপাতালে, আহত নয়জনের অবস্থা গুরুতর

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে পাতাল রেলে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। নিজেদের ওয়েবসাইটে তারা এ দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই এমন হামলার দায়ও স্বীকার করে আইএস।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ব্যস্ত সময়ে পশ্চিম লন্ডনের পারসন্স গ্রিন স্টেশনে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। কয়েকজন যাত্রীর মুখমণ্ডল দগ্ধ হয়। পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন। ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। একটি ব্যাগের ভেতরে থাকা সাদা একটি বালতিতে এই বিস্ফোরণের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে যেতে থাকেন।

নিজেদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে চালানো হামলাগুলোরও দায় স্বীকার করে থাকে তারা; যেগুলোর সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে আইএসের সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এদিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার ডোভারের বন্দর এলাকা থেকে ওই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। লন্ডন মহানগর পুলিশের উপ-সহকারী কমিশনার নেইল বাসু তার গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন। ওই তরুণের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার গ্রেফতার এ বিস্ফোরণের তদন্তে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেছেন নেইল বাসু।

তদন্তকারীরা এখন হামলাকারী ধরতে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, একাধিক হামলাকারী এ বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে, কোথায়-কিভাবে এটি তৈরি হলো, হামলকারীদের কারা, কিভাবে উদ্বুদ্ধ করল-এমন সব প্রশ্নের উত্তর।

শুক্রবারের ওই হামলায় ২৯ ব্যক্তি আহত হন। এদের মধ্যে ২২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের বেশিরভাগের শরীর বোমার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছে। একটি সুপার স্টোরের ব্যাগে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। সকালের ওই সময়টায় কর্মব্যস্ত মানুষ কাজে ছুটছিলেন। স্কুল-কলেজের পথে ছিল শিক্ষার্থীরা।

স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড বলছে, দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনে টিউব-রেলের কামরায় শুক্রবার সকালের ব্যস্ত সময়ে ‘ঘরে তৈরি একটি বোমার’ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার মার্ক রোওলি বলেছেন, ডিস্ট্রিক্ট লাইনে পারসন্স গ্রিন স্টেশনের ওই বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছেন কয়েকশ গোয়েন্দা। তারা এমআইফাইভ-এর গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

লন্ডনের পাতাল রেল নেটওয়ার্কের এই ট্রেনটি যখন মাটির ওপরের স্টেশন পারসন্স গ্রিনে ছিল তখন যাত্রীরা সামনের দিকের একটি কামরা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কামরার দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাস শুরু হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার জন্য হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা।

বিস্ফোরণে ২২ যাত্রী হাসপাতালে

পাতাল রেলে বিস্ফোরণের ঘটনায় ২২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের শরীর বোমার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর। তবে আহতদের মধ্যে কোনও বাংলাদেশি আছেন কি না,তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

একটি সুপার স্টোরের ব্যাগে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। সকালের ওই সময়টায় কর্মব্যস্ত মানুষ কাজে ছুটছিলেন। স্কুল-কলেজের পথে ছিল শিক্ষার্থীরা।

স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ড বলছে, দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনে টিউব-রেলের কামরায় শুক্রবার সকালের ব্যস্ত সময়ে ‘ঘরে তৈরি একটি বোমার’ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার মার্ক রোওলি বলেছেন, ডিস্ট্রিক্ট লাইনে পারসন্স গ্রিন স্টেশনের ওই বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছেন কয়েকশ গোয়েন্দা। তারা এমআইফাইভ-এর গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

লন্ডনের পাতাল রেল নেটওয়ার্কের এই ট্রেনটি যখন মাটির ওপরের স্টেশন পারসন্স গ্রিনে ছিল তখন যাত্রীরা সামনের দিকের একটি কামরা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

যাত্রীরা জানান, কামরার দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাস শুরু হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার জন্য হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় সময় বেলা ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন আহত হবার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আহত নয়জনের অবস্থা গুরুতর

বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জরুরি সেবা বিস্ফোরণের খবর পায়। বিস্ফোরণের পর সেখানে বড় আকারের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানে প্রায় ৬০ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী কাজ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সতর্কতা হিসেবে অগ্নিকাণ্ডের আশপাশের ১২টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। মিল্টন কেইনিজ সেন্ট্রাল ও ইউস্টনের মধ্যে লন্ডন মিডল্যান্ড, ভার্জিন ট্রেন ও সাউদার্ন-এর সব ট্রেন সেবা বন্ধ রয়েছে।

লন্ডনের রেল কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্ক রেল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধসে পড়ার আশঙ্কা ছিল। পুরো রেললাইন মেরামতে একদিন লাগতে পারে।

বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ঘটনার পর সরকারের জরুরি নিরাপত্তা বিষয়ক কোবরা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন থেরেসা মে। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

সাদিক খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, পুলিশ নিশ্চিত করেছে এই বিস্ফোরণকে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছে। আমাদের ক্ষতিসাধনের জন্য যারা এমন বিধ্বংসী প্রচেষ্টা চালিয়েছে এই শহর সেসব ঘৃণিত ব্যক্তিদের প্রতি নিন্দা জানায়। লন্ডন বার বার এটা প্রমাণ করেছে যে, সন্ত্রাসবাদের কাছে আমরা কখনোই ভীত বা পরাজিত হবো না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close