এশিয়া জুড়ে

সু চির প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে আগামী সপ্তাহের শুরুতে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য ঢাকায় আসছে মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির একটি প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে এএফপির খবরে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওই প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসবে।

এএফপি জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলে মিয়ানমারের মিনিস্টার অব দি অফিস ও স্টেট কাউন্সেলর কিও তিন্ত সোয়ে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী উ কিয়াও থিন থাকতে পারেন। রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক এএফপিকে বলেন, প্রতিনিধি দলটি আগামি সপ্তাহের শুরুর দিকে ঢাকা সফরে আসবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে জানালেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি পররাষ্ট্র সচিব।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ থেকে একটি সূত্র ক’দিন আগে বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার প্রায় একমাস পর রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অথচ গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হলে মিয়ানমার তিন মাস সময় নিয়েছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবার জন্য। সেবার জানুয়ারি মাসে মিয়ানমার সরকার ‘কেউ টিন’ নামে এক বিশেষ দূতকে কোনও ম্যান্ডেট ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ঢাকায় পাঠায়।

মিয়ানমারে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের’ ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দুর্দশায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’কে কক্সবাজার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটির সাতজন বিশেষজ্ঞ।

একইসঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন বন্ধে বার্মিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা এই পর্যবেক্ষণ হাজির করে। হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদের বিপুল আলামত পাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি ক্ষেত্র শনাক্ত করেছে এইচআরডব্লিউ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close