এশিয়া জুড়ে

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বারোপ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিকবাহিনীর অভিযানে ৪ লাখ ৮০ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিপরীতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাঙালি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের এক নিবন্ধে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। নিবন্ধটি লিখেছেন দেশটির অন্যতম রাজনৈতিক বিশ্লেষক সিতু অং মুইন্ট।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের গুরুত্ব’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের মুসলিমদের নিয়ে সৃষ্ট সংকটে মিয়ানমার ও বাংলাদশের সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হয়ত জরুরি।

এতে আরও বলা হয়েছে, শরণার্থী সংকটে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনীর সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শরণার্থী সংকট অবশ্যই সতর্ক ও পরিকল্পিতভাবে মোকাবিলা করা উচিত।

মিয়ানমারের স্বনামধন্য এই সাংবাদিক লিখেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের প্রতিবেশী হিসেবে স্বাভাবিক সুসম্পর্ক ছিল। ২০১২ সালে দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় আন্তর্জাতিক আদালতে। উভয় দেশই রায়টি মেনে নেয়। বাংলাদেশ বরাবরই মিয়ানমার থেকে আসা মুসলিম শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

সর্বশেষ শরণার্থীদের ঢলে এই সংখ্যা ৮ লাখ পার হয়েছে। এই ইস্যুতে কখনও উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত দেখা দেয়নি। বিভিন্ন সময় পতাকা বৈঠকের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু বিরোধ মেটানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপও অনুষ্ঠিত হতে।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে নেপিদোতে বিমসটেক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি সু চির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সু চির সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিতু অং মুইন্ট লিখেছেন, মিয়ানামেরর চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড সীমান্তে একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে কোনও উল্লেখযোগ্য সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় নেই। রাখাইন আর্মি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হয়। এই গোষ্ঠীটি থাইল্যান্ড থেকে অস্ত্র নিয়ে আসত। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আরাকান আর্মি কোনও অস্ত্র আনেনি।

এই সাংবাদিকের মতে, রাখাইনের সব বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যাতে করে সেখানকার উভয় সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে এবং দেশের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতি পায়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় উদ্যোগও নেওয়া দরকার। আমরা যদি দ্রুত এই উদ্যোগগুলো নিতে পারি তাহলে সীমান্তে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পারব।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close