অন্য পত্রিকা থেকে

রাজনৈতিক কোমা: আনিসুলের পথ ধরেছেন হাসিনা

বাংলাদেশের স্বনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই তার পিত্তথলি ফেলে দেয়ার খবর জানান দিয়েছেন জাতিকে। ২৭ সেপ্টেম্বর (ঢাকাতে তখন ২৮ তারিখ সকাল) ওয়াশিংটনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মিডিয়াকে অবহিত করে, ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পিত্তথলির অপারেশন হয়েছে ওয়াশিংটনে। তিনি এখন ভালো আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অপারেশনের বিস্তারিত খবরাদি সম্পর্কে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ, হাসিনার সফরসঙ্গী কোনো মাধ্যমই জানতে পারেনি। এমনকি অদ্যাবধি প্রকাশ করা হয়নি কোন্ হাসপাতালে কোন চিকিৎসকের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর এই শল্য চিকিৎসা করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে বিচিত্র প্রশ্নের জন্ম হয়, অবশেষে এগিয়ে আসে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব জয়। তিনি তার ফেসবুক পেইজে লেখেন, “আমাদের পাশের হাসপাতালে আমার এক ডাক্তার বন্ধুই সার্জারিটি করেন।” কিন্তু এ গল্পটি নিয়ে আরও সরস আলোচনা শুরু হয়। একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক সমাজেসেবী মন্তব্য করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে হুট করে পাশের বাড়ির বন্ধু ডাক্তারের কাছে নিয়ে সার্জারি করা যায় না, এটা গল্পকারকদের বোধহয় জানা ছিল না। এটা লেবার পেইন বা এমআর বা ডিএনসি নয়, যে পাশের বাড়ির দাই ডেকে চুপে চাপে সারবেন!”

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী একটি প্রভাবশালী পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীর কিছু হয় নাই। তিনি দিব্যি সুস্থ আছেন। বিশ্বস্ত কয়েকজনকে নিয়ে তিনি ওয়াশিংটনে গেছেন, বাকীরা সব নিউইয়র্কে আছে, বা দেশে ফিরে গেছে। তিনি ছেলে জয়ের ভার্জিনিয়ার বাসায় এবং সেখানকার প্যালেস অব রেসিডেন্সে অবস্থান করছেন। দেশে রাজনৈতিক সংকট এবং পটপরিবর্তন থামানোর জন্য ওয়াশিংটনে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে তিনি কাজ করছেন। তাকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে এবং দেশে অবস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরা ভেঙ্গে না পরে, সেজন্য পিত্তথলি অপারেশনের গল্প পরিবেশন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য হাসিনার পিতা শেখ মুজিবেরও পিত্তথলিও অপারেশন করা হয়েছিল লন্ডনে ৩০ জুলাই ১৯৭২। একটি সূত্র জানায়, এখন থেকে প্রায় দেড়যুগ আগে শেখ হাসিনার পিত্তথলিও অপারেশন করা হয় কানাডায়। অবশ্য গ্রামদেশে একটা কথা প্রচলিত আছে- যার পিত্ত থলি নাই, তার নাকি হায়া লাজ শরম থাকে না।

গলব্লাডার অপারেশনের অযুহাতে শেখ হাসিনা এখন দেশে না ফিরলেও তার স্বজনদের সুত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারনে তাকে বিদেশে থাকতে পারমর্শ দেয়া হয়েছ, ঝুকি না কমা পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরবেন না। তার দেশে ফেরার তারিখ প্রথমে ২ অক্টোবর থেকে ৫ তারিখে পরিবর্তন করা হলেও আরো সরে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। গতকালই দলীয় সাথারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নেত্রীর দেশে আসার তারিখ আরও পিছাবে- ৬/৭ তারিখের দিকে রওয়ানা করতে পারেন।

শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীদের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মত ডিপ-কোমায় চলে যেতে পারেন হাসিনা। মেয়র আনিসুল ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ছাড়েন, এবং পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানোনো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে তিনি লন্ডনে মস্তিস্কের অসুখে ডিপ-কোমায় চলে গেছেন। বলা হচ্ছে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে, যদিও বাংলাদেশ দূতাবাস, সাংবাদিক, বা কোনো নিরপেক্ষ মহল থেকে কেউ কখনও আনিসকে দেখতে যেতে পারেনি কখনও, কোনো ছবি আসেনি মিডিয়ায়, বা কোন হাসপাতাল, ডাক্তার কে, কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি। একটি সেনাসূত্র জানিয়েছে, দেশে আসন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল বেলালের বড় ভাই মেয়র আনিসকে দেশ থেকে সরে থাকতে বলা হয়েছে। নইলে তাকে অপব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা।

জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের নিমিত্ত গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক যান। এবারই প্রথম তিনি অধিবেশনে বক্তৃতা করেই নিউইয়র্ক ছাড়েন দ্রুত, যেখানে অন্যান্য বছর নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই ২ সেপ্টেম্বর বিডি-পলিটিকো খবর পরিবেশন করে- যুক্তরাষ্ট্র থেকে শেখ হাসিনা আর দেশে ফিরছেন না। কারন দেশে সরকার পরিবর্তন হবে, সংসদ ভেঙে দেয়া হবে। তবে ৮৪ জনকে শেখ হাসিনা ‘সেইফ এগ্জিট’ চেয়েছেন, এমন খবরও বিডিপলিটিকো আগেই পরিবেশন করে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারই আওতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের কাছে বসবাস করবেন। অবশ্য পটপরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্টদের সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীনদের ১৩৩ জনের বিশেষ তালিকা করা হয়েছে। তাদের দেশ ছাড়তে দেয়া হবে না।

গত ৪৮ ঘন্টায় প্রধানমন্ত্রীর শারীবিক অবস্থার কোনো আপডেট সরকারীভাবে জাতিকে জানানো হয়নি। এ থেকে অনেকেই ধারনা করছেন, হাসিনাও মেয়র আনিসের পথ ধরেছেন। তবে বিশেষ সূত্র জানায়, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ৪/৫টি ফাইলে ই-সাইন করছেন হাসিনা, যদিও ই-সাইনের বৈধতা সংক্রান্ত কোনো আইন বাংলাদেশে নাই। তবে পটপরিবর্তন হলে এসব ই-সইয়ের ফলাফল ও কার্যকারিতা যে কি হবে, তা ভবিষ্যতই বলে দিবে। চলমান উদ্যোগে ক্ষমতাচ্যুত হলে শেখ হাসিনা আনিসের মত ডিপ-কোমায় যেতে পারেন, অথবা বিদেশ থেকেই কিছু সই-সাক্ষর ও চেচামেচি করে ভজঘট লাগাতে পারেন। তবে দেশ ছাড়ার আগে রাষ্ট্রপতির কাছে রেখে আসা সংসদ ভেঙে দেয়ার ফাইল ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন পথেও সংকটের সমাধান করতে পারেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। কোনোটাই এখনও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

– সংগৃহিত

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close