যুক্তরাজ্য জুড়ে

সুচির খেতাব কেড়ে নিলো অক্সফোর্ড

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া সম্মানসূচক ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ খেতাব কেড়ে নিয়েছে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল।

গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের কারণে ২০ বছর আগে ১৯৯৭ সালে এই সম্মান দিয়েছিল ওই সিটি কাউন্সিল। ওদিকে অং সান সুচির বিরুদ্ধে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা মুযসলিমদের সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুচি সহ মিয়ানমারের নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন বৃটেনের হোসেন মোহামেদ ও নাজমা ম্যাক্সামেদ।

এ জন্য তারা অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। মিয়ানমারের নেতাদের বিরুদ্ধে যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা যায় এবং তাদের বিচার করা যায় সে জন্য তারা মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এখানেই শেষ নয় বৃটেনের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান, সংস্থা সুচিকে সম্মানসুচক খেতাব, পুরস্কার দিয়েছিল।

তাদের অনেকে এরই মধ্যে হয়তো সেই খেতাব, পুরস্কার প্রত্যাহার করেছে না হয় করার পথে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ওদিকে সুচিকে দেয়া সম্মানসূচক ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ খেতাব কেড়ে নেয়া বিষয়ক প্রস্তাবে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল বলেছে, এই খেতাব ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়েছেন অং সান সুচি।

উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষীদের পোস্টে ও ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার পর নৃশংস প্রতিশোধে মেতে ওঠে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা। এর ফলে কমপক্ষে ৫ লাখ ৭ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হন।

ওদিকে দীর্ঘ সময় সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করার কারণে বিশ্বজুড়ে এক আদর্শে, গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন অং সান সুচি। এ জন্য তাকে বিশ্ববাসী সম্মান করতেন।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও সরকারের মিথ্যাচারের ফলে তিনি তা হারিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। শান্তিতে পাওয়া তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এমন আবেদনে চার লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। বিবিসির বিশ্ব সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক জন সিম্পসন বলেছেন, সুচিকে দেয়া সম্মান কেড়ে নেয়ার কথা বিবেচনা করছে অনেক সংগঠন। ওদিকে সুচিকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ খেতাব কেড়ে নেয়া বিষয়ক প্রস্তাব সমর্থন করে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের নেতা বব প্রাইস বলেছেন, তার সম্মান কেড়ে নেয়ার প্রস্তাব সমর্থন করি আমি।

তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে এই খেতাব কেড়ে নেবে এটা ছিল অপ্রত্যাশিত একটি পদক্ষেপ। মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে চরমভাবে হতভম্ব জনগণ। নিজের দেশে চলা এমন নৃশংসকার বিরুদ্ধে সুচি কোনো কথা বলেন নি।

এটা এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেইন্ট হিউজ কলেজ, অক্সফোর্ডের ডিসপ্লে থেকে নামিয়ে ফেলা হয় অং সান সুচির একটি ছবি। এই কলেজেই তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন মাইকেল অরিস নামের বৃটিশ এক নাগরিককে।

তিনি সেইন্ট অ্যান্টনি’স কলেজে তিব্বত ও হিমালয় বিষয়ক সিনিয়র গবেষণা ফেলো ছিলেন। দুই ছেলে কিম ও আলেকজান্দারকে নিয়ে তারা অক্সফোর্ড শহরেই বসবাস করতেন। ১৯৯৭ সালে সুচিকে ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড পুরষ্কার দেয় অক্সফোর্ড।

২০১২ সালে তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয় ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। ওদিকে সাংবাদিক সামুয়েল ওসবর্ন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে লিখেছেন, মুসলিম সংখ্যালঘু নিধনের জন্য মিয়ানমারের নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অর্থ সংগ্রহের একটি অভিযান শুরু হয়েছে।

এর উদ্যোক্তা হোসেন মোহামেদ ও নাজমা ম্যাকামেদ। তারা সুচি সহ মিয়ানমারের নেতাদেরকে হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে চান। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অভাবে হতাশা থেকে তারা এ উদ্যোগ শুরু করেছেন।

অনলাইনে তারা এ বিষয়ে একটি পিটিশন করেছেন। তাতে এরই মধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছে। শনিবার ডাউনিং স্ট্রিটে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। বলা হয়েছে, যদি তারা এক্ষেত্রে সফল হতে পারেন তাহলে আইনজীবীরা বাংলাদেশে গিয়ে তদন্ত করবেন।

তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তথ্য সংগ্রহ করবেন। তখন তারা নির্ধারণ করবেন, কারা আসলে সহিংসতার জন্য দায়ী। এরই মধ্যে জাতিসংঘের দেয়া বর্তমান রিপোর্ট থেকে তারা বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। ওই দু’জন মুসলিমের বেশ কিছু আইনি লক্ষ্য রয়েছে।

তার মধ্যে অন্যতম হলো বহু আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করছে মিয়ানমার লিখিতভাবে তা তুলে ধরা। তারা আরো আশা করছেন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকুয়ারি প্রতিষ্ঠার। এরই মধ্যে এ কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই হমিশনার।

একটি আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার প্রধান সাইমো চাহাল বলেছেন, মিয়ানমারে যে ট্রাজেডি ঘটছে তার জন্য আইনী জবাব দাবি করে। বিশ্বজুড়ে যখন রাজনৈতিক নেতারা এ নৃশংসতার নিন্দা জানাচ্ছেন ঠিক তখনই সমন্বিতভাবে অপরাধীদের বিচারের জন্য আইনি পদক্ষেপের দাবি এখন জোরালো হওয়া উচিত।

এক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে এখনই আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে যে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে তার মাধ্যমে মানুষ একত্রিত হবে, পদক্ষেপ নেবে এবং আগেভাগেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করায় তারা অবদান রাখবে।

হোসেন মোহামেদ বলেছেন, আমরা এমন প্রচারণা শুরু করেছি এ জন্য যে, মিয়ানমারের নেতাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতার জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই করা হয় নি। বিশ্ব শুধু ভীতসন্ত্রস্ত। এটাই যথেষ্ট নয়।

আমাদের এই প্রচারলা মানুষের জন্য, যাতে নির্যাতিত শিশুন, নারী, পরিবার বিচার পায়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close